আসল পুরুষ! আসল নারী!
কনডমের বিলবোর্ডটা এমন একটা জায়গায়, আগে থেকে সতর্ক না থাকলে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। বিশাল বিলবোর্ড। একজন পুরুষ ও একজন নারী। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। লোকটি শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে। মহিলা অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। হাতে ধরা একটা মেডেল। বিলবোর্ডের ডান কোণায় লেখা... “আসল পুরুষ কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, ভ্র-প্লাক করা, টাইট জিন্স আর টি-শার্ট পরা, একে অপরের গায়ের উপর হেলান দিয়ে বসে থাকা কিছু ছেলের ছবি। সবচেয়ে সুন্দর ছেলেকে বাছাই করার জন্যে কোনো এক টিভি চ্যানেলের সুন্দরী প্রতিযোগিতার “পুরুষ” সংস্করণ। একেবারে ফ্রন্ট পেইজ আ্যাডভারটাইযমেন্ট। এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার স্লোগান হলো, “প্রমাণ করো তুমিই হিরো”। এই হলো আমাদের কাছে পুরুষত্বের সংজ্ঞা। আজ পুরুষের সফলতার মাপকাঠি হলো তারশয্যাসঙ্গীর সংখ্যা অথবা নারীর মতো যত্নে নিজেকে “গ্রম' করতে পারা। আর কোন নারীকে কতোজন পুরুষ শয্যাসঙ্গী হিসেবে পেতে চায় তা হলো নারীত্বের সফলতার মাপকাঠি। নারী আর পুরুষ পরিচয়ের মধ্যে তেমন একটা পার্থক্যও এখন আর নেই। সেই একই শরীরী হিসেব-নিকেশের পাল্লায় তুলে বিচার করা হয় দুজনকেই। কেউ দাতা, কেউ গ্রহীতা, কেউ ক্রেতা, কেউ বিক্রেতা, কেউ ব্যবহারকারী, কেউ ব্যবহৃতা, কেউ কামুক, কেউ কামের লক্ষ্য-পার্থক্য এইটুকুই। আমরা পুরুষ ও নারীর জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সার্থকতাকে আজ এই গণ্ডির মাঝে আবদ্ধ FEE খেলোয়াড়, অভিনেতা, গায়ক। আমাদের কাছে পুরুষত্বের রোলমডেল হলো ড্রাগ আ্যাডিক্ট, দায়িত্বজ্ঞানহীন, উড়নচণ্ডী, বহুগামী, নানা ধরনের, নানা আঙ্গিকের এসব মনোরঞ্জনকারীরা। আমাদের কাছে নারীত্বের রোল মডেল হলো শরীর দেখিয়ে টাকা কামানো চামড়া ব্যবসায়ী, নর্তকী আর বাইজিরা। নিজ সন্তানের জন্মদাত্রীকে স্বীকৃতি না দেওয়া মেসি-রোনালদো, ব্যভিচারী টাইগার উডস, কিশোরসুলভ অঙ্গভঙ্গি আর আচরণের ANE ব্র্যাড পিট- সালমান খান, মাঠে বল হাতে কিংবা পায়ে ছোটাছুটি করা কিছু লোক, সমকামিতার সমর্থক বিটিএস অথবা লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে নেংটি পরে মারামারি করা WWE কিংবা MMA আ্যাথলেটরা আমাদের কাছে পুরুষত্বের
রোল মডেল! শারীরিক ভাবে পুরুষ হওয়া আর সত্যিকার অর্থে, চিন্তা-চেতনায়, আচরণে একজন পুরুষ হবার মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। নিছক Male হওয়া মানেই Man হওয়া নয়। নিজের ছোট ভাইয়ের টি-শার্ট গায়ে দিয়ে, উচ্চস্বরে হাঁকডাক করে, উদ্ভট অঙ্গভঙ্গি কিংবা নাচানাচি করে টিকটক বানিয়ে, মঞ্চে ক্যাটওয়াক করে, ক্র-প্লাক করে পত্রিকার ফটোশুট করে, পঞ্চাশ পেরিয়ে যাবার পরও পনেরো বছরের কিশোরের মতো আচরণ করে, আমাদের সমাজ-সভ্যতার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী “হিরো” কিংবা “আসল পুরুষ” হওয়া গেলেও সত্যিকার অর্থে পুরুষত্ব অর্জন করা যায় না, Man হওয়া যায় না। ঠিক একইভাবে শরীরের ভাঁজ ও খাঁজ দেখিয়ে, টিকটক-ইল্সটাতে লাখ লাখ ফ্যান ফলোয়ার কামানো, প্রথা ভাঙা, সাহসিকতা, স্বাধীনতার নামে শাশ্বত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে কাপড় খোলা, নারীর কমনীয় সকল বৈশিষ্ট্য ঝেড়ে ফেলে, নারীত্বের অপমান করে প্রতিনিয়ত পুরুষের মতো হতে চাওয়া প্রকৃত নারীর, সাহসী নারীর বৈশিষ্ট্য না। তাহলে আসল পুরুষ কারা? সাহসী নারীই বা কারা? কী তাদের বৈশিষ্ট্য? কোথায় পাওয়া যাবে তাদের? এ সমাজ-সভ্যতার তৈরি করা রোলমডেলদের মাঝে সত্যিকারের পুরুষ আর নারীদের খুঁজলে শুধু ব্যর্থই হতে হবে। যদি আসল বীরত্ব, আসল পুরুষত্বের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে আমরা জানতে চাই তাহলে আমাদের তাকাতে হবে মুস'আব, উমার, আবু দুজানা, ইক্করামা, খালিদ, সা”দদের জীবনীর দিকে। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন। সত্যিকারের পুরুষত্বের উদাহরণ খুঁজতে তাকাতে হবে মুহাম্মাদ বিন কাসিম, সালাহউদ্দীন, তারিক বিন যিয়াদ, উমার মুখতার, আল-খাত্তাবি, ইমাম শামিল, তিতুমীর, শরীয়াতুল্লাহ্ আর তৃতীয় উমারের দিকে, রাহিমাহুমুল্লাহ। নারীত্বের প্রকৃত অর্থ বোবঝার জন্য আমাদের তাকাতে হবে খাদিজা, ফাতিমা, আসিয়া, মারইয়াম, আইশা, উম্মে আইমান, সুমাইয়্যা, সাফিয়্যাহ, খাওলা-দের দিকে। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন।
দুই.
আমাদের এই বয়সেই বাপদাদারা দু-তিনটা করে বিয়ে করেছেন, সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, ছোট ভাইবোনদের পড়ার খরচ জুগিয়েছেন, ভাতিজা, ভাগ্নে এমন আত্মীয়দেরও লালন পালন করেছেন। আমাদের নানীদাদীরা ছয়-সাতটা করে কিংবা আরো বেশি বাচ্চাকাচ্চা মানুষ করেছেন। ভালোভাবেই করেছেন। হাজার হাজার বছর ধরে এভাবেই মানবসমাজ চলেছে। কিন্তু আজ আমরা ছেলেরা বত্রিশ বছর বয়সে এসেও নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারি না। অন্য একটা মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে করা তো দূরে থাক। বাবা-মার কাছ থেকে হাত খরচ নিতে হয়, সংসারের খরচ
চালানোর কথা তো আষাড়ে গল্পের মতো। অনেকের তো চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছেও বালকত্ব কাটে না। মেয়েরা স্বামীর সংসার করতে, রান্না-বান্না করতে, বাচ্চাকাচ্চা নিতে ভয় পায়। রান্নাবান্না করতে পারি না, কীভাবে “বাসা”কে “বাড়ি' বানাতে হয় জানি না, গৃহস্থালির টুকিটাকি কাজ করতে পারি না। জানি না কীভাবে বাচ্চাকাচ্চাদের মানুষ করতে হয়।
আমরা দায়িত্ব নিতে ভয় পাই। সংসারের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া তো দূরের কথা, বাজার পর্যন্ত করতে পারি না ঠিকঠাক। তরমুজওয়ালা, মাছওয়ালাদের সাথে দামাদামি করে কেনার মতো মানসিক শক্তি, ব্যক্তিত্ব পর্যন্ত আমাদের নেই। আমরা অফলাইনে মানুষজনের সাথে মিশতে পারি না। বন্ধুত্ব করতে পারি না। আমরা হতাশ প্রজন্ম। ভীতু প্রজন্ম। চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের মাঝে ভয় কাজ করে। পান থেকে চুন খসলেই আমরা আত্মহত্যা করে ফেলি। আমরা স্বার্থপর প্রজন্ম অহংকারী প্রজন্ম। আমাদের নিজেদের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কেন আমাদের এই ভয়াবহ অবস্থা? কেন নিদারুণ দুঃসময়ে আমাদের এই যৌবন?
কারণ আমরা সত্যিকার অর্থে সাবালক হবার অর্থ বুঝিনি। একজন পরিপক্ক মানুষের যে দায়িত্ব নিতে হয় তার উপযুক্ত আমরা হয়ে উঠতে পারিনি। প্রকৃত অর্থে পুরুষত্ব আর নারীত্বের সংজ্ঞাই আমরা চিনিনি। কুরআন, হাদীস ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে প্রকৃত আসল পুরুষ ও তথাকথিত আসল পুরুষদের মধ্যে পার্থক্য হলো'**-
প্রকৃত আসল পুরুষ তথাকথিত আসল পুরুষ আত্মমর্যাদাশীল, নিজে কাউকে অপমান | আত্মমর্যাদা নেই। করে না, অন্য কাউকে অপমান করতে দেয় না। বাবা-মা ভাইবোন, পরিবার- পরিজনকে দরকার হলে জীবন দিয়েও আগলে রাখে। দায়িত্বপীল, কর্তব্যবোধ সম্পন্ন, | দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ বলে কিছু নেই। নীতিবান। নিজ কাজের দায়িত্ব নেয়। | প্রেম করে লিটনের ফ্ল্যাটে নিতে চায়, কিন্তু সে বুঝে সমাজ ও পরিবারে তার | বিয়ে করতে চায় না। স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত ভূমিকা নেতৃত্ব দেওয়ার। নেওয়ার ইচ্ছা, সাহস, সক্ষমতা কোনোটাই নেই। নিজে স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি | বাবা-মা'র টাকা নষ্ট করে। বাপের, শ্বশুরের পরিবার ও সমাজের প্রয়োজনে | টাকায় বউয়ের খরচ চালাতে চায়। অর্থ সাধ্যমতো এগিয়ে আসে। উপার্জনের, স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করে না। পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল, FAR হালাল | অলস, জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করে না, জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করে৷ কিছু | কলম পিষে বড়লোক হওয়া কিংবা সহজে অর্জন করতে হলে কষ্ট করতে হয়, এ | সব কিছু পাবার স্বপ্নে মশগুল। সবকিছুই বাস্তবতা জানে। হাতের কাছে রেডিমেইড চায়। সমস্যার মুখোমুখি হলে সমাধানের | সমস্যার মুখোমুখি হলে হা-হুতাশ আর চেষ্টা করে। নিজেকে প্রশ্ন করে, এখন | হাহাকার করে। বিম মেরে বসে থাকে। আমার করণীয় কী? নিজেকে প্রশ্ন করে, আমার এখন কেমন লাগছে? নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। | নফসের গোলাম। সব সময় আরাম খোঁজে। নিজের শরীরকে বাধ্য করে ইচ্ছেশক্তির | ডোপামিন আ্যাডিক্ট। আনুগত্য করতে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে। গভীরভাবে | আবেগ, আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের দিক অনুভব করলেও আবেগ দ্বারা চালিত | থেকে কিশোরীর সাথে মিল বেশি। হয়না। মেয়ে দেখলে চোখ নামিয়ে ফেলে, | চোখ দিয়ে গিলে খাবার চেষ্টা করে, পিছু যথাযথ সম্মান করে। নেয়, আজেবাজে মন্তব্য করে, অথবা বাসায় গিয়ে ফ্যান্টাসাইয করে।
ভবিষ্যৎ স্ত্রীর জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ | প্রেম করা ছাড়া থাকতে পারে না। যার তার
করে, নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা | সাথে শুতে চায়, একেই নিজের অর্জন মনে
করে। করে। শোয়ার কাউকে না পেলে পতিতার খোঁজ করে।
নিজ স্ত্রীকে সম্মান করে। তার অধিকার | বুঝে না বুঝে স্ত্রীকে মানুষের সামনে দর্শনীয়
পরিপূর্ণভাবে আদায়ের চেষ্টা করে। | বস্তুর মতো উপস্থাপন করে। আরেকজনকে
স্ত্রীসহ: নিজের পরিবারের নারীদের | সম্মান দূরের কথা, নিজের সম্মানই রক্ষা
সম্মান ও মর্যাদা কঠোরভাবে রক্ষা | করতে পারে না।
করে।
পর্ন, মাস্টারবেশনে আসক্ত নয়, | পর্ন মাস্টারবেশনে যন্ত্রপাতি নষ্ট করে
দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে সুখী রাখতে | ফেলে।
পারে
সাহসী, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। ভীতুর ডিম, প্রতিবাদ দূরে থাক, ব্যক্তিগত লাভের জন্য অন্যায়কারীর পা চাটে।
সহানুভূতিশীল, দয়ালু, নিঃস্বার্থভাবে | স্বার্থপর, সবসময় নিজের চিন্তা করে।
মানুষের উপকার করে।
আল্লাহকে ভালোমতো চেনে, মানে। | আল্লাহকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। সস্তা
দ্বীন ইসলাম ও রাসূল (৯) -এর | সুখ আর নানা তুচ্ছ জিনিস নিয়ে ব্যস্ত।
সম্মানের সাথে আপস করে না। স্রোতের সাথে চলে। মিডিয়া আর সমাজ যা গেলায়, তাই গিলে।
ভদ্র, উত্তম আখলাকের অধিকারী, শো | সেলিব্রেটি রোলমডেল এবং মিডিয়ার
অফ করে না, মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য | ট্রেন্ডের অনুকরণে উদ্ধত, অহংকারী-
করে না, তবে আচরণে মিনমিনে | নিজেকে জাহির করায় ব্যস্ত। অথবা
মেয়েলি ভাব থাকে না। মিনমিনে মেয়েলি।
নবী (*) -এর সুন্নাহ পালন করে। | ফরজ গোসলও ঠিকমতো করে না। নোংরা,
শরীরের যত্ন নেয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অগোছালো। গায়ের দুর্গন্ধে টেকা যায় না,
থাকে। সুগন্ধি ব্যবহার করে। আউলা ঝাউলা ভাব ধরে। অথবা, মিডিয়ার ট্রেন্ডের অনুসরণ আর সেলিব্রেটিদের মতো পোশাক-আশাক পরাকে আর হেয়ারস্টাইল মেইনটেইন করাকেই স্মার্টনেস ভাবে।
ব্যক্তিত্ববান, সং, বিশ্বস্ত। কথা দিয়ে ৷ অলস, অকর্মণ্য, মেয়েদের পেছনে ঘুরে, কথা রাখে। কথা দিয়ে কথা রাখে না, বিশ্বাস করা যায়
না। জানে, জীবনের অর্থ শুধু ভোগ না। | কোনো বিশ্বাস কিংবা আদর্শ নেই। ভোগে নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের প্রশ্নে | আসক্ত হবার কারণে আপসহীন হবার আপসহীন। প্রয়োজনে আত্মত্যাগে | অর্থই হয়তো বোঝে না। আত্মত্যাগের প্রস্তত। প্রশ্নই আসে না। তার সব মনোযোগ তার নফসকে নিয়ে। ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে সামনে আগায়, | ব্যর্থতাকে ভয় পায়, পান থেকে চুন বিপদে ভেঙে পড়ে না, দৃঢ় অবিচল | খসলেই শিশুর মতো কান্নাকাটি শুরু করে, থাকে, আত্মহত্যা করে না, দুনিয়ার | সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, আত্মহত্যা করে সকল মানুষের কাছে অভিযোগ | ফেলে। অনুযোগ না করে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে অবোরে কান্না করে। পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য | স্রেফ বোবঝা। রহমতস্বরূপ। চুপিচুপি একটা কথা বলি। মেয়েরা এই আসল পুরুষদেরই পছন্দ করে।'**! এভাবেই তাদের বানিয়েছেন আল্লাহ্ তা'আলা। পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতির কারণে তাদের অনেকেই আসল পুরুষ চিনতে পারে না, বোহেমিয়ান পুরুষদের সাথে দু'দিন প্রেম করতে পারে, ভুল করে ঘর বাঁধতে পারে কিন্তু মনেপ্রাণে তারা এই আসল পুরুষদেরই খুঁজে বেড়ায়। এবারে চলো দেখা যাক কুরআন, হাদীস এবং এক্সপার্টদের মতামত অনুসারে আবহমান প্রকৃত নারী ও তথাকথিত আধুনিক নারীর মধ্যে পার্থক্য কী কী। ৷
আবহমান প্রকৃত নারী তথাকথিত আধুনিক নারী লাজুক, নারীসুলভ কমনীয়, নম্র, | নারীর চিরায়ত বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে ভদ্র, বাসার বাইরে হৈঁচে করে না, | হীনম্মন্যতায় ভোগে। মনেপ্রাণে পুরুষের মতো নিজের নারীত্ব নিয়ে হীনম্মন্যতায় | হতে চায়। পুরুষ যা করে তা করতে পারাকেই ভোগে না। নারীর ক্ষমতায়ন মনে করে। পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে আল্লাহ্ | সমাজ, মিডিয়া, সংস্কৃতি, পাশ্চাত্যকে এবং তাঁর রাসূল (৯) -এর কথা | অনুসরণ করে শরীর দেখানো, আর নিজেকে মেনে চলে। উন্মুক্ত করাকে সাহসিকতা মনে করে, জাতে ওঠার মাধ্যম মনে করে। ছেলেদের সাথে মেশে না, ছেলেরাও | জাস্টফ্রেন্ড, অনলি ফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ডের অভাব তার ব্যক্তিত্বের কারণে তার সাথে | হয় না, ছেলেদের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে মেশার সাহস করে না, প্রেম করে | বেড়ায়, প্রেম না করে থাকতে পারে না, না। ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানো, নাচানোকে স্মার্টনেস মনে করে। ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর জন্য নিজেকে | যার তার সাথে শুয়ে পড়ে, লিটনের ফ্ল্যাট, হিফাযত করে, বিশ্বস্ত থাকে। লং ট্যুর, লঞ্চের কেবিন, এক সাথে কয়েকটা প্রেম, পরকীয়া, গর্ভপাত সবখানেই বিচরণ থাকে, এগুলোকে স্মার্টনেসের অংশ ভাবে। ছবি আপলোড করে না, স্বামী | সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ছবি আর ভিডিও চাইলেও ব্যক্তিগত ছবি তুলতে দেয় | আপলোড করে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া না। মনোযোগ উপভোগ করে। ফ্যান-ফলোয়ারস, মনোযোগ, প্রশংসা চায়। জাস্টফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড যে-ই চাক, ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে দেয়। রান্নাবান্না, শিশু লালনপালন, ঘরের | ঘরের কাজ করাকে জীবনের অপচয় মনে কাজকে জীবনের অপচয় মনে করে | করে, দাসত্ব মনে করে। বিশ্বব্যবস্থা, মিডিয়া না। সমাজ ও পরিবারে নিজের | আর সমাজের তৈরি সাফল্যের সংজ্ঞা মেনে ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন। নিয়ে তার পেছনে অন্ধের মতো ছোটে। com/52vc2du7 10 Qualities of a Lady, leadership-matters.biz, Jun 14, 2013- tinyurl.com/yext3dvu
পুরুষদের প্রতিযোগী মনে করে না, | প্রতিযোগী মনে করে, ক্ষেত্র বিশেষে সহযোগী মনে করে। পুরুষবিদ্ধেষী হয়। সন্তান লালনপালন করাকে সর্বোচ্চ | ক্যারিয়ারকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেয়। প্রায়োরিটি দেয়। সন্তানকে বুয়ার হাতে ছেড়ে দিতে দ্বিধাবোধ
করে না।
স্বামীর সাথে সম্মান, শ্রদ্ধা, | স্বামীকে অসম্মান করে, ছোট করে, প্রতিদ্বন্থী
ভালোবাসার সম্পর্ক থাকে। সব | মনে করে, দৌড়ের উপর রাখে। ঝাড়ি মারে,
জাহাজের একজন ক্যাপ্টেন থাকে, | পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে না, স্বামীর
পরিবারে স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নেয়। | দাম্পত্য হক আদায়ের উপর তেমন গুরুত্ব
সব সময় দৌড়ের উপর রাখে না, | দেয় না।
পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে, স্বামীর
হক আদায়ের যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
স্বামীর টাকাকে নিজের টাকা মনে | নিজে কামাই করতে না পারলে জীবন ব্যর্থ
করে, লজ্জা করে না, হীনম্মন্যতায় | জাতীয় কিছু একটা মনে করে।
ভোগে না।
শুধুমাত্র স্বামীর জন্য সুন্দর করে | বাইরের সকল পুরুষের জন্য সাজগোজ
সাজে, নিজের সকল সৌন্দর্য অন্য | করলেও ঘরে স্থামীর সামনে এলোমেলো
সবার কাছ থেকে রক্ষা করে স্বামীর | পোশাকে SARE থাকতে পছন্দ করে।
জন্য রেখে দেয়। এই তথাকথিত আধুনিক নারীদের পেছনে ছেলেরা লাইন দিলেও এদেরকে শেষ পর্যন্ত তারা বিয়ে করতে চায় না, যার প্রমাণ আমরা আগেই দিয়েছি। এদের সাথে বিছানায় রাত কাটানো যায়, কিন্তু বাচ্চার মা বানানো যায় না, সারাদিন পর ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে খেতে বসে যে মানুষটা একরাশ মমতা নিয়ে ভাত বেড়ে দেবে, সেই মানুষের জায়গায় এদের কল্পনা করা যায় না। যতো চরিত্রহীন ছেলেই হোক না কেন, বিয়ের জন্য আবহমান প্রকৃত নারীই থাকে তাদের প্রথম পছন্দ। এই আসল পুরুষেরাই, প্রকৃত নারীরাই যুগে যুগে, দেশে দেশে পৃথিবীর গতিপথ (ha করে দেয়। মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসে পরিণত করে। সমস্ত বিশ্বকে সত্য, সুন্দর, কল্যাণ ইনসাফের পথে পরিচালিত করে। এটাই আল্লাহর সুন্নাহু। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়, এক সভ্যতার পতন ঘটে গিয়ে অন্য সভ্যতার উত্থান ঘটে, নদী তার গতিপথ বদলে ফেলে, তবু আল্লাহর এই সুন্নাহ্র কোনো পরিবর্তন হয় না।
তরুণ প্রজন্ম হলো জাতির প্রাণ। জাতির মেরুদণ্ড। সেই তরুণরাই যদি এভাবে মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়ে তাহলে এই জাতি, সমাজ আর বিশ্বের কী হবে? মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে কে আল্লাহর দাসত্বের দিকে নিয়ে আসবে? আমাদের এই দুরবস্থার জন্য শুধু আমরাই দায়ী নই। বাবা-মা, সমাজব্যবস্থা, বিশ্ব কাঠামো সবকিছু দায়ী। কিন্তু শুধু তাদের দিকে আঙুল তুলে, ফেইসবুকে তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করলেই সব হয়ে যাবে না। সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত। তবে সেখানেই থেমে থাকলে সমস্যার সমাধান হয় না। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হয়। বদলে ফেলতে হয় নিজেদের।
১। এসো আমরা নিজেরা দায়িত্ব নিতে শিখি। ছোট থেকেই বাসার কাজে সাহায্য
সহযোগিতা করি। মেয়েরা রান্নাবান্না করা, ঘরের কাজ শেখা, সংসার গুছিয়ে রাখা শিখে নেই। ছেলেরা কাঁচাবাজারে যাওয়া শুরু করি। শুধু আঁতেলের মতো মাথাগুঁজে পড়াশোনা না করে, পড়াশোনা ঠিক রেখে বাইরের দুনিয়াটাকে দেখার চেষ্টা করি। সংসার কীভাবে চলে, সংসারের খরচ কীভাবে আসে এগুলো বাবা-মা'র কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজের কাজগুলো নিজেই করি। ক্লাস ৮-৯ এ ওঠার পর থেকেই নিজের খরচ নিজে চালানোর চেষ্টা করা উচিত। টিউশনি, অনলাইনে ছোটখাটো ব্যবসা, বড় ভাই বা পরিচিতদের ব্যবসায়, কাজে পার্টটাইম কাজ করা, ফ্রিল্যান্সিংসহ অনেক অপশান খোলা আছে।
এই বয়সে অর্থ উপার্জনলকে আমাদের সমাজে খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। আবার এই সমাজই অর্থ ছাড়া দামও দেয় না। সমাজ ভণ্ডামি করে যাবেই। সমাজের কথায় কান দেবে না। অর্থ উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাও। দেখবে দ্রুত বিয়ে করে সংসার চালানোর মতো টাকা তুমি ম্যানেজ করে ফেলেছে বা অন্য একজন মানুষের দায়িত্ব নেবার জন্য যে ব্যক্তিত্ব দরকার, যে ম্যাচুরিটি দরকার তা তোমার মাঝে চলে এসেছে। আর কিছু যদি না-ও হয় এই অভিজ্ঞতা তোমার কাজে লাগবে। মেয়ের বাপ বা তোমার বাপ তোমাকে বিয়ে করাতে ভয় করবে না। পাশাপাশি ঘরের কাজ শিখে ফেলা, গোছালো হবার ফলে আপু তোমাকে নিয়েও তোমার বাবা-মা চিন্তা করবে না যে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কী করবে।
বিয়ে করার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার আসলে এই দায়িত্ব নিতে শেখা আর ম্যাচুরিটি আসার ব্যাপার্টা। টাকাপয়সার চাইতেও এ দুটো জিনিস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তোমরা এই বিষয় নিয়ে একদমই মাথা ঘামাও না। শুধু মেয়ের কিংবা নিজের বাপ-মাকে কষে গালি দাও। একটা ইমম্যাচিউর, দায়িত্ব কর্তব্যবোধহীন ছেলের হাতে কেন কোনো অভিভাবক তাদের মেয়েকে তুলে দেবেন? নিজের স্ত্রীর হাতখরচ, শ্যাম্পু-সাবানের টাকা পর্যন্ত বাবা-শ্বশুরের কাছ থেকে নিয়ে বিয়ে করবো-এমন চিন্তা করতে তোমার লজ্জা লাগা উচিত। সাহাবীদের উদাহরণ টানবে না। সাহাবীরা গরীব ছিলেন, অভাবী ছিলেন, কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিলেন না, কল্পনাবিলাসী ছিলেন না। তাদের একেকজন
একেকটা জনপদের দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত পুরুষ ছিলেন। তাঁরা ফ্যান্টাসির জগতে বসবাস করতেন না। তারা গ্রহ, নক্ষত্রের হিসেবে মিলিয়ে, বউয়ের মধ্যে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার লম্বা লিস্ট নিয়ে, ঈদের জামা কেনার মতো করে পাত্রী চুয করতেন না। তারা অনেক ক্ষেত্রেই বিধবা, বয়স্ক, দেখতে সাদামাটা নারীদেরও বিয়ে করেছেন। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম।
২। বাচ্চাদের মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকো। সব সময় হাসিঠাট্টা, মজা করা,
প্র্যাংক করা, গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘোরা, বাবা বা শ্বশুরের দেওয়া লাখ লাখ টাকার বাইক দাবড়ানো, মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকা, হিজড়াদের মতো নাচগান করা একজন দায়িত্বশীল পুরুষ বা নারীর বৈশিষ্ট্য না। এগুলো ব্যক্তিত্বহীন মানুষের কাজ। পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্য, নিজের মধ্যে আনতে শেখো। নারীসুলভ চিরায়ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের চেষ্টা করো। মোবাইলটা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে বাস্তব দুনিয়ার বাস্তব মানুষের সাথে মেলামেশা করো। রাতে ঘুমাও, শরীরচর্চা করো, গোছালো জীবনযাপন করো।
৩। বিসিএস আর সরকারি চাকরি ছাড়াও যে টাকা উপার্জন করা যায়, সম্মান পাওয়া
যায়, বিয়ে করা যায়- এই বিষয়টা বিশ্বাস করো। সমাজের মানুষের কথায় কান না দিয়ে থাকা খুবই কষ্টের। কিন্তু তারপরও এই FELT করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা ভালো না, এই বলে শিক্ষাব্যবস্থাকে গালি দিয়ে বসে থাকবে না। নিজে স্কিল অর্জনের চেষ্টা করো। ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে, অনলাইনে অনেক কোর্স আছে, একাডেমি আছে-সেগুলোর সাহায্য নাও। পরিবারের বোঝা হয়ে থেকো না, রাতের পর রাত গেইম খেলে, প্রেম করে সিনেমা-সিরিয়াল-সিরিয দেখে কাটিও না। দরকার হলে রাস্তায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করবো তবুও আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না-এমন দৃঢ় হতে হবে পুরুষের সংকল্প
৪। ভোগবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসো। পরিশ্রম করো। কষ্ট করো। চ্যালেঞ্জ
নাও। অলসতাকে ইসলামের লেবাস পরিয়ো না। আমি যুহুদ অবলম্বন করছি, তাওয়াক্কুল করছি এসব মিথ্যা বলো না। ইসলামে অলসতা, কাপুরুষতার কোনো স্থান নেই। পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য স্যাক্রিফাইস করতে শেখো। সমাজের মানুষদের নিয়ে ভাবো। প্রেম-ভালোবাসা, মাদক, পর্ন, মাস্টারবেশন, সিনেমা, মিউষিক, ওয়েবসিরিয, টিকটক, বিটিএস বা অশ্লীলতার মধ্যে যতো ডুবে থাকবে ততো তুমি দাসত্বের জীবনে বন্দী হয়ে যাবে। তত বেশি নষ্ট হবে তোমার প্রাণশক্তি, আত্মবিশ্বাস।
৫। মিডিয়া, সমাজ, এই বিশ্বব্যবস্থাকে প্রশ্ন করতে শেখো। অন্ধভাবে বিশ্বাস করে
নিও না। কেন তারা যা বলে সেটাই পরম সত্য হবে? তারা যদি সঠিক হয়, তাহলে তাদের বাতলে দেওয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে পাশ্চাত্যের সমাজের কেন এতো ভয়াবহ অবস্থা? কেন তাদের এতো হতাশা? আত্মহত্যা? কেন আজ পৃথিবীর এ অবস্থা?
বইপত্র পড়ো। জ্ঞান চর্চা করো। ভেড়া হয়ে থেকো না। কাউকে তোমার ব্রেইনওয়াশ করতে দিও না। শ্রোতের বিপরীতে যেতে শেখো।
৬। ইসলামে ফিরে এসো। ইসলামই মানবতার একমাত্র মুক্তির পথ।
“আর যদি গ্রামবাসীরা ঈমান আনতো ও তাকওয়া অবলম্বন করতো তাহলে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।”*০%! বিয়ে করতে না পারার, হতাশার, সমস্যাগুলোর কারণ চিহ্নিত করে দেওয়া হলো। সমস্যার সমাধানও তোমার সামনেই আছে। এখন তুমি কি পরিবর্তনের পথে হাঁটবে নাকি হতাশায় ডুবে থাকবে? ফেইসবুকে কিংবা বন্ধুদের সাথে কথোপকথনে বাবা-মা আর সমাজকে গালিগালাজ করবে নাকি বাস্তবতাকে বদলানোর চেষ্টা করবে? নাকি মাথা কুটে মরবে অনিঃশেষ অভিযোগের আঙুল তোলার গোলকথধাঁধায়? কিছু মানুষ সারা জীবন হা-ছুতাশ করে যায়। অভিযোগ আর অনুযোগেই তাদের জীবন কাটে। আর কিছু মানুষ পরিবর্তন আনে। তুমি কোন ধরনের মানুষ হবে? সিদ্ধান্ত তোমার!
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[৩৯৭] True Men, Manhood, And Masculinity in Islam, siasat.com, July 8, 2019-tinyurl.com/54n9h8jn 10 Qualities That Define A Man & 7 That Don’t, mensxp.com, Jul 24, 2015 -tinyurl.com/2aawvy4e 10 Qualities of a Gentleman, leadership-matters.biz, Jul 4, 2013 -tinyurl.com/ mr3hj4u6 Top 10 Qualities of Highly Successful People, inc.com- tinyurl.com/489yfmwn Top 10 Traits of a Real Man (Muslim Style), muslimmatters.org, August 28, 2012-tinyurl.com/mpr9v7bt True men, manhood, and masculinity in Islam, abuaminaelias.com, March 28, 2018- tinyurl.com/5fcstfdw [৩৯৮] 9 Qualities Every Woman Looks For In A Husband, lifehack.org- tinyurl. com/5n8ctnvv The qualities that women look for in a man, thegentlemansjournal.com- tinyurl. com/bdxe2hyb 5 Secrets to a Successful Long-Term Relationship or Marriage, Medically reviewed by John M. Grohol, Psy.D, psychcentral.com, May 17, 2016-tinyurl.com/ yd25um97 [৩৯৯] 15 Qualities of A Good Wife, Medically reviewed by Dr. Lourdes Mantecon- Garza, MD, September 14, 2022- tinyurl.com/ywry52bk Ideal character of Muslim women, arabnews.com, January 01, 2016- tinyurl. [8০০] সূরা আল-আ'রাফ, ৭: ৯৬
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।