বিদায় বলে দাও...
বিদায় বলতে চাইলেই কি বিদায় বলা যায়? ভুলতে চাইলেই কি ভোলা যায়? কিছু খণ্ড খণ্ড আকাশ, ভোর হয়ে যাওয়া কিছু ভাঙাচোরা রাত, সরোবরের ধারে বসে ভাঙা গলায় শোনানো “খুব জানতে ইচ্ছে করে” গানটা..কতো খুচরো স্মৃতি তার সাথে! জীবনের SF থেকে “চন্দ্রবিন্দু” জুড়ে শুধু সেই মানুষটাই। শরীরে বৃষ্টির মতো মোহ, TEER ও মগজের কোষে অনুক্ষণ অনুরণন। কিন্তু তারপরেও এই মানুষটার নাম একটানে লাল কালি দিয়ে কেটে দিতে হবে। আঁধারের মতো কষ্ট নামবে তোমার হৃদয়ের অলিন্দে। বুকের গহীনে ঝিরি ঝিরি কষ্ট ঝরবে...তবু তোমার বিদায় বলতে [| কেন ব্রেকআপ করবে? ব্রেকআপ করার আগে তোমাকে অবশ্যই মনের মধ্যে গেঁথে ফেলতে হবে তুমি কেন ব্রেকআপ করবে। চাইলে একটা লিস্ট করতে পারো, আমি এই এই কারণে ব্রেকআপ করবো। ব্রেকআপ করা আমার জন্য অনেক কঠিন। কিন্তু তারপরেও আমি ব্রেকআপ করবো কারণ-
S| ব্রেকআপ করার প্রথম ও প্রধান কারণ হলো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। বিয়ে বহির্ভূত তথাকথিত এই প্রেম একেবারেই হারাম।।' ১ এর কারণে আল্লাহ্ আমার উপর অসম্তষ্ট হন। এর কারণে আমার অনেক পাপ হচ্ছে। যিনা-ব্যভিচারের গুনাহ হচ্ছে। নিজেকে এবং আমার তথাকথিত ভালোবাসার মানুষকে আমি জাহান্নামের জ্বালানি বানিয়ে ফেলছি। আমি আল্লাহর জন্য গুনাহ থেকে সরে আসতে চাই। তাই আমি ব্রেকআপ করছি।
২। আল্লাহর ভয়ে পাপ থেকে দূরে সরে আসার কারণে আল্লাহ্ আমাকে পুরস্কার
দেবেন। দুনিয়াতে এবং আখিরাতে। তাঁর নির্দেশ মেনে চললে জান্নাতে স্থান করে
দেবেন। আমার হৃদয়কে প্রশান্ত করবেন। চোখ শীতল হয়ে যায় এমন একজন ভালোবাসার মানুষ দেবেন দুনিয়ার এই জীবনটাতেও।
৩। প্রেমের কারণে আমি পরিপূর্ণভাবে ইসলাম পালন করতে পারছি না। ইবাদাত
করতে পারছি না। অবাধ্যতা আর গুনাহর কারণে প্রতিনিয়ত দূরে সরে যাচ্ছি মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে। ঈমান ও ইবাদতের স্বাদ, মিষ্টতা অনুভব করতে পারছি না।
81 প্রেম করে ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই সুখী হওয়া যায় না। মিডিয়া, সুশীল প্রগতিশীলরা যতো যাই বলুক না কেন এ পথে ম্যাক্সিমাম মানুষ সুখ পায় না। কোনো না কোনো কারণে “BCT হয়ই। এ পথ মরীচিকার। এপথে কষ্ট, টুকরো টুকরো মৃত্যু, অসীম দুর্নিবার বেদনা। এ পথ জাহান্নামের।
কিছু পিছুটান ১৮1.
১। সাময়িক সময়ের জন্য ব্রেকআপ করি, পরে সে দ্বীনে ফিরলে/প্রতিষ্ঠিত হলে
একসময় বিয়ে করবো...
এমন চিন্তা করা যাবে না। সাময়িক ব্রেকআপ থেকে বিয়ে, মাঝখানের এ সময়টাতে পা হড়কানোর ভালো সুযোগ থেকে যায়। তোমার কথা বলতে ইচ্ছা করবে, চ্যাট করতে ইচ্ছা করবে, একটু দেখতে ইচ্ছা করবে, মাঝে মাঝে ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করবে। “আমরা তো বিয়ে করবোই”, এই চিন্তা থেকে দুর্বল মুহূর্তে শয়তানের লাড়াচাড়া খেয়ে বিছানায় চলে যেতে ইচ্ছা করবে।
হয়তো তুমি প্রেম করা হারাম বুঝতে পেরেছো, কিন্তু তোমার প্রেমিক-প্রেমিকা ভুল বুঝতে পেরেছে কি না, সে আসলেই আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত ও লঙ্জিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় তোমার হাতে নেই। আবেগ থেকে, তোমাকে হারানোর ভয়ে সে আন্তরিকভাবে তাওবাহ না করেই হয়তো বলবে, হ্যাঁ আমি তাওবাহ করেছি। গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফেরা, বান্দা এবং রবের মধ্যেকার একটা বিষয়। এই উপলব্ধি মানুষের অন্তর থেকে আসতে হয়। আরেকজনের জন্য গুনাহ ছাড়া যায় না। গুনাহ ছাড়তে হলে, সত্যিকার অর্থে অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে বদলাতে চাইলে, তা কেবল আল্লাহর জন্যই হতে হবে।
তাছাড়া আরো কিছু প্রশ্ন থেকে যায়- বাসায় বললেই তোমার সাথে বিয়ে দিতে রাজি হবে কি না? প্রতিষ্ঠিত হবার সংজ্ঞা কী? প্রতিষ্ঠিত হবার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি হবে কি না? মেয়ে ছেলের জন্য অপেক্ষা করলো, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছেলে যদি
বেটার অপশান খোঁজা শুরু করে? এরকম অনেক বিষয় আছে। সব দিক বিবেচনা করে আমাদের (লস্টমডেস্টি টিমের) মনে হয়েছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না চলে বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় একেবারে ব্রেকআপ করে ফেলা আবশ্যক।
২। ওর কাছে তোমার কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও আছে। ব্রেকআপ করলে
সেটা সে নেটে ছড়িয়ে দেবে- বিষয়টা লজ্জার এবং ভয়ের। তবে ভয় আর লজ্জার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। যিনা করা এবং ছবি-ভিডিও শেয়ার করা ছিল তোমার প্রথম ভুল। এখন ভিডিও ভাইরাল হবার ভয়ে ব্রেকআপ না করা হবে দ্বিতীয় ভুল। প্রথমত, সে তোমাকে ভালোবাসলে কখনোই তোমাকে দিয়ে এমন ছবি বা ভিডিও করাতো না। দ্বিতীয়ত, সেগুলো তার কাছে রাখতো না, ব্ল্যাকমেইল করার তো প্রশ্নই উঠে না। আর ভাইরাল করার হুমকির কারণে তুমি যদি তার সাথে প্রেম চালিয়ে যাও, তাহলে সে এই ছবি- ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে তোমাকে দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের যিনা করিয়ে নিবে (এরই মধ্যে যদি না করে থাকে)। তারপর সেটাও ভিডিও করে রেখে সেই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করিয়ে তোমাকে ভোগ করতেই থাকবে। তুমি একটু বেঁকে বসলেই বা তোমাকে ভোগ করতে করতে একঘেয়েমি চলে আসলে ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেবে। ১» ব্ল্যাকমেইল করে তোমার কাছ থেকে টাকা আদায় করবে! যা ভুল করার এর মধ্যেই করে FER আর ভুল করতে যেও না। ওর সাথে ব্রেকআপ করে এখনই বাস্তবতার মুখোমুখি হও। আল্লাহর কাছে দু'আ করো এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাবার জন্য। অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়া এবং মারধর খাবার সম্ভাবনা থাকলেও অবশ্যই অবশ্যই অভিভাবকদের জানাও। স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করো। অবস্থা বেগতিক দেখলে আইনজীবির সঙ্গে কথা বলে প্রচলিত
আইনের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।
৩। ব্রেকআপ করলে ও অনেক কষ্ট পাবে, ওর মন ভেঙে যাবে, আমার এতে পাপ
হবে, মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা এক...
বিয়ে বহির্ভূত প্রেমের মাধ্যমে তুমি প্রতিনিয়ত আল্লাহর আইন অমান্য করে যাচ্ছে। এখন তুমি এই পাপ থেকে বাঁচতে চাচ্ছে আর আল্লাহ্ তোমাকে এ কারণেই শাস্তি দেবেন? পাকড়াও করবেন? অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসার কারণে আল্লাহ্ তোমাকে শাস্তি দেবেন? আর অবাধ্যতা করলে পুরস্কার পাবে? এমন কথা কোনো লজিকের মধ্যে পড়ে?
মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সমান কথা- এটা কোনো হাদীস নয়। রাসূলুল্লাহ (৯৪) কখনোই এমন কথা বলেননি। এগুলো আমাদের সমাজের প্রচলিত কিছু ফালতু কথা ছাড়া আর কিছুই না।
81 যে মানুষটা আমাকে এতোটা ভালোবাসে, আমিই তার জীবন মরণ সবকিছু তাকে এভাবে ছ্যাকা দেওয়াটা কি বিবেকবান কোনো মানুষের কাজ? তার জীবনটা কি আমি নষ্ট করে দিচ্ছি না?
ভুলেও এই চিন্তা করবে না। ওর সাথে প্রেম করে পাপ করা, যিনা-ব্যাভিচার করে ওকে এবং নিজেকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ঠেলে দেওয়া কি প্রকৃত মানবতা? না কি সাময়িক কিছু কষ্ট দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো প্রকৃত মানবিকতা? সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে ওর ভালো হবে- এটা তোমার নিছক ধারণা। বাস্তবতা তো ভিন্ন। অধিকাংশ প্রেমের ক্ষেত্রেই কি ছ্যাড়াব্যাড়া লাগে তা তো আমরা দেখলাম। তুমি যদি সত্যিকার অর্থেই তার ভালো চাও, কল্যাণ চাও তাহলে তোমার ও তার দুনিয়া এবং আখিরাতের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থেই কিছুটা কঠোর হও।
সে অভিশাপ দিচ্ছে, দিতে দাও, ভয় পেও না। এই অভিশাপে কিছুই হবে না। সে কান্নাকাটি করছে, খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে রেখেছে, অগোছালো জীবনযাপন করছে- করতে দাও। প্রথম প্রথম কষ্ট হবে। কিছুদিন যাবার পর মোহানম্ধ মন মুক্তি পাবে। সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যায়।
৫। আমি তার সাথে যিনা করে ফেলেছি, তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এমন
অবস্থায় ব্রেকআপ করলে তা তার সাথে ভয়ঙ্কর প্রতারণা হবে না? তাছাড়া, তাকে বিয়ে করলে তো আমার যিনার গুনাহ মাফ পেয়ে যেতো...
বাংলাদেশে সাধারণত এমন একটা বিশ্বাস প্রচলিত আছে - যার সাথে যিনা করা হয়েছে তার সাথে বিয়ে দিলেই আল্লাহ্ যিনার গুনাহ মাফ করে দিবেন। কিন্তু শরীয়াহর বাস্তবতা এটা নয়। অবিবাহিত কেউ যিনা করলে, তার জন্য শরীয়াহর নির্ধারিত শাস্তি হলো ১০০ বার বেত্রাঘাত ও ১ বছরের জন্য নির্বাসন। বিবাহিত কেউ যিনা করলে
তার শাস্তি হল রজম- পাথর ছুড়ে হত্যা করা। যার সাথে যিনা করেছে তাকে বিয়ে করা না। রাসূলুল্লাহ (৯) বলেছেন,
“যিনা করার সময় মানুষ ঈমান হারিয়ে ফেলে। সে সময় তার মাথার উপর ঈমান ঝুলতে থাকে। যিনার শেষে আবার ফেরত আসে। ১১ এজন্য যিনার গুনাহ মাফ করার জন্য আন্তরিকভাবে তাওবাহ করতেই হবে। তাওবাহ করার শর্ত ৩টি — ক) সেই গুনাহ এবং গুনাহের উপকরণগুলো ছেড়ে দেওয়া, খ) আন্তরিকভাবে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা, মাফ চাওয়া এবং গ) ভবিষ্যতে এমন গুনাহ আর কখনোই করবো না- কঠোরভাবে এই সংকল্প করা। এই তিনটি শর্ত পূর্ণ করতে পারলে তোমার তাওবাহ কবুল হবে। না হলে হবে না। তাওবাহ যেন কবুল হয় সে জন্য বেশি বেশি গোপনে দান ও ইবাদাত করা উচিত। এগুলো আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ মিটিয়ে দেয়। আন্তরিকভাবে তাওবাহ করলে আল্লাহ্ তোমাকে মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।১২ যার সাথে যিনা করেছো, গুনাহ মাফের জন্য তাকে তুমি বিয়ে করতে বাধ্য-এটা ভুল ধারণা। এখন এসো প্রতারণার ব্যাপারটা দেখা যাক। যিনার গুনাহ অতি জঘন্য হওয়ার কারণে আল্লাহ তা'আলা যিনাকারী নারী-পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম করেছেন। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, “ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে।”! শাইখ সাদী (রহ.) তার তাফসীরে এই আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন, “যিনা অত্যন্ত ঘৃণ্য প্রকৃতির কাজ। মানুষের সম্মানকে যিনা এমনভাবে কলঙ্কিত করে, যা অন্য কোনো গুনাহ করে না। আয়াতে এই দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ্ আমাদের বলছেন, ব্যভিচারী পুরুষকে শুধু এ নারীই স্বেচ্ছায় বিয়ে করতে পারে, যে নিজে ব্যভিচারিণী অথবা যে মুশরিক...একইভাবে, একজন ব্যভিচারী নারীকে মুশরিক অথবা ব্যভিচারী পুরুষ ছাড়া আর কেউ বিয়ে করতে পারে না।
“...আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে'- অর্থাৎ, যিনাকারীকে বিয়ে করা আল্লাহ মুমিনদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর এ বিধানের কথা জানা সত্ত্রেও, বারবার যিনা করে এবং যিনা থেকে তাওবাহ করেনি, এমন কোনো নারী বা পুরুষকে যে জেনেশুনে বিয়ে করতে চায়— হয় সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ঞ্ যে বিধানসমূহ দিয়েছেন তা মানে না, যার অর্থ সে মুশরিক, অথবা, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল *% যে বিধানসমূহ দিয়েছেন তা সে মানে; তবুও জেনেশুনে একজন যিনাকারীকে সে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমন ক্ষেত্রে এই বিয়ে যিনা, এবং যে বিয়ে করেছে সে যিনাকারী ও ফাসিক বলে গণ্য হবে। সে যদি সত্যিকারভাবে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতো, তাহলে এই কাজ করতো না। এ থেকে বোঝা যায়, তাওবাহ করেনি এমন যিনাকারীকে (নারী বা পুরুষ) বিয়ে করা REIS এটা ব্যভিচারী পুরুষের ব্যাপারে যেমন খাটে, ব্যভিচারিণী নারীর ব্যাপারেও খাটে। তাই নিজে তাওবাহ করার সাথে সাথে, অপরজনও যদি তাওবাহ না করে, তবে বিয়ে বৈধ হবে না। তুমি আন্তরিকভাবে তাওবাহ করেছো, কিন্তু সে করেনি এমন অবস্থায় তুমি তাকে বিয়ে না করলে প্রতারণা হবে না। তবে সেও যদি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে তাওবাহ করে তাহলে চাইলে বিয়ে হতে পারে।
৬। সে যদি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা দেয়?
মামলা খাবার ভয়ের চাইতে তুমি আল্লাহর অবাধ্য হচ্ছে, সাথে যিনা করেছে৷ এবং এখন আবার রিলেশন চালিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে-এই ব্যাপারটা নিয়ে তোমার বেশি দুশ্চিন্তা করা উচিত। তুমি মামলা খাবার ভয়ে তার সাথে প্রেম চালিয়ে গেলে এবং তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হলে, সেই বিয়ে তোমার জন্য জাহান্নাম হিসেবে হাজির হবে এটা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। সুন্দর দাম্পত্য জীবন চালিয়ে নেবার জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা শ্রদ্ধা, সম্মানের সম্পর্ক থাকা জরুরি। কিন্তু এক্ষেত্রে তো তা থাকছে না। কাজেই সারাজীবনের জন্য না পস্তিয়ে এখন পরিস্থিতির মুখোমুখি হও। আইনগত দিক দিয়ে “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ' মামলা তেমন একটা জোরদার মামলা না। ১ সবাই জানে আসলে কী হয়েছে। কাজেই মামলা করার ভয় দেখালেই হাটু কাঁপা-কাঁপি শুরু হবার দরকার নেই। আল্লাহর কাছে ক্রমাগত দু'আ করতে থাকো। তুমি একটা পাপের জীবন থেকে ফিরে আসতে Bit! | তোমার fore যদি সঠিক থাকে, তাহলে আল্লাহ তোমার ফিরে আসার পথ সহজ করে দেবেন। ইনশাআল্লাহ।
| ব্রেকআপের কথা বলাতে সে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে। তার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী- এই অপরাধবোধ আমাকে আজীবন তাড়া করে বেড়াবে। তাছাড়া আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে মামলা করলেও আমি তো পুলিশি ঝামেলায় ফেসে যাব। এখন কী করবো? এটাও বেশ কমন একটা সমস্যা। তুমি আমার সাথে রুম ডেইট করতে না গেলে আমি হাত কেটে ফেলবো। ছবি না দিলে ঘুমের ট্যাবলেট খাবো, ছাদ থেকে লাফ দেবো - এমন হুমকিও অহরহ শোনা যায়। এগুলো হলো তোমার পার্টনারের নিপীড়ক (abusive) মানসিকতার প্রমাণ। খালি চোখে দেখলে মনে হবে, তোমার ভালোবাসার জন্য সে এমন করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার নিজের কামনাবাসনা পুরণ হচ্ছে না, তোমাকে দেখতে পাচ্ছে না, কথা বলতে পারছে না- এ জন্যেই সে এমন ধংসাত্মক কাজ করতে চাচ্ছে। তার কাছে তোমার প্রতি তাঁর ভালোবাসাটা গুরুত্বপূর্ণ না। সে যদি আসলেই তোমাকে ভালোবাসতো তাহলে তোমাকে এভাবে মানসিক কষ্টের মধ্যে ফেলতো না। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতো না। এই আত্মহত্যার হুমকি বা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজগুলোকে তার সাথে ব্রেকআপ করে ফেলার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। হুমকিগুলোর কারণে তুমি যদি সম্পর্ক চালিয়ে যাও, তাহলে সে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যাবে তুমি তার দাসে পরিণত হয়েছো। বাকী জীবনটা তার দাস হয়ে চরম মানসিক নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়ে কাটাতে হবে তোমার। যারা এভাবে হুমকি দেয় তারা সাধারণত আত্মহত্যা করে না। এসব হুমকি ধামকি পাত্তা দিও না। ব্রেকআপ করে ফেলো। সে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিলেও, পাগলামি করলেও, তার বাবা-মা শত রিকোয়েস্ট করলেও তুমি তার সাথে কোনো যোগাযোগ করবে না। তাহলে আর এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে না। আর টানা কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকলে ওর শোকের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাবে। তোমাকে ভূলে যাওয়া সহজ হবে। যদি তার উপকার করতে চাও তাহলে তার পরিবারকে একজন মনোবিদ খুঁজে whe |! মনোবিদের কাছে কয়েকটা সেশন কাটালে সে ঠিক হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ। তবে অনেকে আসলেই আত্মহত্যা করতে চায়। তোমার প্রেমিক বা প্রেমিকা এমন হলে সেক্ষেত্রেও ব্রেকআপ ছাড়া অন্য কিছু ভাববে না। বরং এমন হলে আরো গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্রেকআপ করতে হবে। কারণ-
ক) তার জন্য দরকার একজন মনোবিদের। তুমি তাকে সাহায্য করতে পারবে না। সে মানসিকভাবে অসুস্থ। আত্মহত্যা থেকে বাঁচানোর জন্য তুমি তার সাথে সম্পর্ক চালিয়ে
গেলেও সে মানসিকভাবে সুস্থ হবে না। বরং এই আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে তোমাকে সারাজীবন নির্যাতন নিপীড়ন করে যাবে।
খ) জীবনে নানা ঝড়বঝঞ্কা আসেই | দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, ব্যর্থতা গিলে ফেলতে চায় অজগর সাপের মতো। এটাই জীবন। মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিতে চাওয়া তার এই ভীরু দুর্বল কাপুরুষ মন জীবনের এই অন্ধকার দিনগুলোতে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে না। সে মাথা নিচু করে পরাজয় বরণ করে বারবার পালাতে চাইবে জীবন থেকে। তুমি কেন এমন একজন মানুষকে জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনী হিসেবে নেবে? সে তখন আত্মহত্যা করলে বা হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিলে তোমার বাচ্চাকাচ্চার, তোমার সংসারের কী হবে? তোমার নিজের কী হবে? ভেবেছো এসব?
আত্মহত্যা করা কবীরা গুনাহ। যে আল্লাহর নিষেধ লঙ্ঘন করে আত্মহত্যা করে, যে তার নিজের বাবা-মা”র কথা না ভেবে তাদের ভালোবাসাকে পায়ে দলে আত্মহত্যা করে, এমন মানুষের জন্য কেন তুমি নিজের জীবনকে নষ্ট করবে? কেন তোমার জীবন নিয়ে জুয়া খেলবে? কেন বাবা-মা, ভাইবোনকে কষ্ট দেবে? তুমি তো তাকে সুস্থ করেও তুলতে পারবে না। ভালোবাসা দিয়ে আমি তাকে ঠিক করে ফেলবো-এমন মিথ্যা বিশ্বাস কেবল সমস্যাকে আড়াল করে রাখবে।
প্রয়োজনে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে কাউন্সেলিং করার জন্য বলো। ঝগড়া করো না। কটু কথা বলো না, রাগারাগি করো না- তুই মর, আত্মহত্যা কর, যা খুশি তাই করো, জাহান্নামে যা, সুইসাইড করার সাহস থাকলে, করেই ফেলতি; এভাবে ন্যাকা কান্না কাঁদতি না- এ ধরনের কোনো কথা বলো না। মেসেজ দিও না। বিবেকের দিক থেকে এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের দিক থেকে তুমি তাহলে সেইফ সাইডে থাকবে। ৭
আত্মহত্যা করে ফেললেও তোমার নিজের অপরাধবোধে ভোগার কোনো কারণ নেই। তার মৃত্যুর জন্য কোনোভাবেই তুমি দায়ী নও। তার কাজের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে তার নিজের। তুমি তাকে আত্মহত্যা করতে বলোনি। তার বাবা-মা বা সমাজ যদি তোমাকে দোষারোপ করে তাহলে তা হবে পুরোপুরি অন্যায় ও সুস্পষ্ট যুলুম। বরং চাইলে তাদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা যায় কিছুটা হলেও-কেন তারা তাদের সন্তানের মানসিক অবস্থার ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখেনি? আল্লাহ্ তোমাকে এজন্য পাকড়াও করবেন না। ১
"প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের জন্য দায়ী থাকবে। কেউ অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।”। ১১!
৮। আমরা পবিত্র প্রেম করি। আমরা হাতও ধরি না, এক রিকশায় পাশাপাশি বসলেও
দূরত্ব বজায় রাখি, চোখে চোখ রাখলেও চোখ মারি না। তাছাড়া আমরা একে অপরকে দ্বীন পালনে উদ্বুদ্ধ করি। ফজরের নামাযে ডেকে দেই। আর আমরা বিয়ের নিয়্যাতে প্রেম করছি। একে অপরকে জানছি, চিনছি, [ie আমাদের ব্রেকআপ করার কী দরকার? আলকেমি এবং চশমা লেখা দুটো আবার পড়ে এসো। এবার নিজেকে প্রশ্ন করো তুমি যে অজুহাতগুলো দিচ্ছে-এগুলো আল্লাহর সামনে হাশরের ময়দানে দিতে পারবে কি না। নিজেকে প্রশ্ন করো, রাসূলুল্লাহ (&) এমনটা করতে বলেছেন কি না? সাহাবী, তাবেঈ, তাবে তাবেঈগণ এমন করে বিয়ের উদ্দেশ্যে, দ্বীন শেখার নামে প্রেম করেছেন কি না? নিজেকে প্রশ্ন করো, ওকে নিয়ে তোমার মনে কখনো খারাপ চিন্তা এসেছে কি না? আমাদের উত্তর দেওয়া লাগবে নিজেকে উত্তর দাও। হালাল মদ, হালাল পতিতালয় বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি পবিত্র প্রেম বলে কিছু নেই। এভাবে “পবিত্র প্রেম' করতে গিয়ে অহরহ যিনা হয়ে যায়। কমসেকম পর্ন মাস্টারবেশনে আসক্ত হয়ে যায়। এর প্রমাণ ভুরিভুরি, অতীতে ও বর্তমানে।
৯। এই নষ্ট হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে ভালো মেয়ে কি পাবো? প্রেম না করলে ফ্রেশ মেয়ে
পাওয়া যা না... এরেগ্জড ম্যারেজ করা মানে সেকেন্ডহ্যান্ড, অন্যের ইউজড জিনিস বিয়ে করা, প্রেম না করলে দ্রুত বিয়ে করতে পারবো না... না, এ ধরনের চিন্তাভাবনা ভুলেও করবে না। আল্লাহর অবাধ্য হবার জন্য অজুহাত তৈরি করবে না। বিয়ে করার জন্য আল্লাহ প্রেম করার শর্ত দেননি। দ্রুত বিয়ে করার জন্য সাহাবীরা প্রেম করতেন না, বরং আর্থিক, মানসিক, শারীরিক যোগ্যতা অর্জন
করতেন। তুমি এসব অর্জনের চেষ্টা না করে কেন প্রেম করছো? সকালে ঘরে খাবার নেই, দুপুরে খাবার পাওয়া যাবে-এই জন্য কি তুমি পাশের বাসায় গিয়ে শূকরের মাংস খাবে? যারা ভালো মেয়ে, তারা তোমার আমার সাথে এসে ইনবক্সে গুতাগুতি করবে না, ঢলাঢলি করবে না। জাস্ট ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড কালচার, রিকশায় ঘোরাঘুরি করা, প্রেম করা, ভালোবাসার প্রমাণ দেখানোর জন্য ভিডিও কলে কাপড় খোলা বা লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়া তো বহু দূরের কথা। এই এক শ্রেণীর মেয়েদের দেখেই পৃথিবীর তাবৎ মেয়ে সম্পর্কে এমন বাজে ধারণা করে ফেললাম আমরা? “যে আল্লাহকে ভয় করে আর ধৈর্য ধরে, আল্লাহ্ এমন ভালো মানুষদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।”১% ভাই দেখ, অনেক ভালো মেয়ে আছে। তুমি যেমন এই ঘোর কলুষতার বর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করে রাখার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধ করে যাচ্ছো, বিশ্বাস করো তেমনি এই একই আকাশের নিচে, একই পৃথিবীর বুকে অসংখ্য বোনেরাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছে, অপেক্ষা করে আছে কবে পবিত্রতার ঘোড়ায় চড়ে আসবে তার রাজপুত্র। কবে এই দমবন্ধ হয়ে আসা পৃথিবীতে তারা দুজনে মিলে দু'রুমের ভাড়া বাসায় একটুকরো জান্নাত রচনা করবে। এসবের কতোটুকুই বা তুমি জেনেছো? ভেবেছো? চতুর্দিকে ভালোবাসার আকাল দেখে তুমি হতাশ হবে না। যদি তুমি পবিত্র থাকো, যদি তোমার ভালোবাসা, জীবনসঙ্গিনীর জন্য অপেক্ষা মৌলিক হয় তাহলে আল্লাহ তোমাকে নিশ্চিত ভালো একজন মেয়ের সাথে জুড়ি বেঁধে দিবেন। জীবনের ভালোবাসা হয়তো কোনো এক ভোরে চুপ করে কড়া নাড়বে তোমার দরজায়।
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[২৭৭] The Difference Between a Haram Relationship and Love, IslamQA- tinyurl. com/4k3xjdxj যে প্রেমের শেষ পরিণতি হচ্ছে বিয়ে; সেটা কি হারাম? tinyurl.com/2vzytd6w Love and Correspondence Before Marriage, [slamQA- tinyurl.com/5¢753cc6 [২৭৮] বইয়ের কলেবর ছোট রাখার জন্য আমরা এখানে কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হলাম। এই পিছুটানগুলো ছাড়াও আরো অনেক পিছুটানের বিস্তারিত আলোচনা পাবে এই লিংকে- Lost Modesty ফেইসবুক পোস্ট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২- tinyurl. com/dsm82r8a অবশ্যই অবশ্যই পড়ে নাও। [২৭৯] কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিলো প্রেমিক, আরটিভি, জুলাই ২৬, ২০২২- tinyurl.com/5yerrzc2 নগ্ন ছবি পোস্ট করার ভয় দেখিয়ে ফেসবুক বান্ধবীকে ধর্ষণ, ঢাকাটাইমস, ডিসেম্বর ০৫ , ২০১৮-(01৮1.0017/1013]7 0177 অনলাইনে প্রেম, বিয়ের আশ্বাসে নগ্ন ভিডিও ধারণ: অবশেষে র্যাকমেইল, voiceofasiabd. net, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১- tinyurl.com/3d3f6us5 অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, ডিবিসি নিউজ, ফেব্রুয়ারি ২১,২০২১ tinyurl.com/dfy2t9wp [২৮০] অশ্লীল ছবি ধারণ করে ল্ল্যাকমেইল, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, মানবকণ্ঠ, জুলাই ০৫, ২০২১- tinyurl.com/bdfrdkes অনলাইনে প্রেম করে আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহঃ ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়, crimediarybd. com, অক্টোবর ২২,২০২০- tinyurl.com/dkx8afcp [২৮১] আবু দাউদ: ৪৬৯০। ইবনু হাজার হাদিসটিকে সহীহ সনদে বর্ণিত বলেছেন। (ফাতহুল বারী ১২/৬১ হা: ৬৭৭২ এর ব্যাখ্যায়।) [২৮২] সূরা আল-ফুরকান, ২৫: ৭০ [২৮৩] সূরা আন-নূর, ২৪:৩ [২৮৪] তাফসীরে সাদী, সূরা আন-নূর, আয়াত ৩ [২৮৫] বিয়ের প্রলোভনে '“ধর্ষণের' অভিযোগ :আইনি ভিত্তি কতটুকু? যায়যায়দিন, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২- tinyurl.com/2pjvnvmz [২৮৬] তোমাকে যে খুঁজে দিতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। [২৮৭] সমাজের মুরুব্বী স্থানীয় কাউকে বিষয়গুলো জানিয়ে রাখা যেতে পারে। সেই সাথে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অভিভাবক শ্রেণীর কাউকে সঙ্গে নিয়ে থানাতে জিডি করে রাখতে পারো। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সাহায্য করবে এবং প্ররোচনা দান করবে, সে ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে। তা ছাড়া সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ৩২ ধারায় বলা আছে, আত্মহত্যাকারীর মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া সুইসাইড নোট প্ররোচনা দানকারীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে শুধু একটি সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না। সুইসাইড নোটের সমর্থনে আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। এখন তুমি যদি ফোনে, মেসেজে বা অন্যকোনোভাবে তাকে আত্মহত্যার প্ররোচরনামূলক কোনো কথা না বলো তাহলে সুইসাইড নোটে সে যদি তোমার নাম লিখেও রাখে তাহলেও তোমার কিছুই হবে না ইন শা আল্লাহ্। কারণ তুমি তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দাওনি। আর তুমি আগেই যেহেতু তার বাবা মাকে বিষয়টি জানিয়েছ (প্রমাণস্বরূপ মেসেজের স্ক্রিনশট, কলরেকর্ড রেখেছো), প্রয়োজনে জিডি করে রেখেছ, বা সমাজের মুরুব্বী স্থানীয় কাউকে জানিয়ে রেখেছে! কাজেই তোমার কোনো ভয় নেই। তোমার কিছুই হবে না ইন শা আল্লাহ। [২৮৮] How to end a Haram relationship? assimalhakeem.net, Aug 17, 2021 - tinyurl.com/4ba6ttn3 [২৮৯] সূরা আল আন 'আম,৬:১৬৪ [২৯০] সূরা ইউসুফ, ১২:৯০
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।