এক.
যৌনতা ও নৈতিকতার ব্যাপারে আজকের এই অবস্থা, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন-এই সবকিছুই AG ও সত্তরের দশকের সেক্সুয়াল রেভোলুশান বা যৌন বিপ্লবের ফসল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বৈশ্বিক পরাশক্তি এবং পশ্চিমা সভ্যতার প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভাব ঘটে আ্যামেরিকার। এ সময়কার SHERPA প্রজন্মকে বলা হয় “দা (AE (SHIEH | ১৯০০ থেকে ১৯২০ এর মাঝে জন্ম নেওয়া এই “(AID (EIR দূরদেশে গিয়ে মহাযুদ্ধে লড়াই করেছিল। যুদ্ধকালীন অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। এ প্রজন্ম ছিল পরিশ্রমী, বাস্তবমুখী। তাদের নৈতিকতা ছিল ইহুদি ও BR ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক প্রগাঢ় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঝড় সবকিছু আমূল বদলে দেয়। পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলন আগের প্রজন্মের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া চিন্তা ও মূল্যবোধগুলোকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এর মধ্যে পঞ্চাশের বিট জেনারেশান আর ষাটের দশকের হিপি মুভমেন্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাংস্কৃতিক অঙ্গন, বুদ্ধিজীবি, বিশ্ববিদ্যালয় আর ম্যাস মিডিয়ার মাধ্যমে চলতে থাকে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। “শ্রেষ্ঠ' প্রজন্মের পিতামাতার সন্তানরা বেড়ে ওঠে জীবন ও নৈতিকতার প্রতি সম্পূর্ণ নতুন, প্রায় বিপরীতমুখী এক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। চিন্তা, চেতনা, আদর্শ ও দর্শনে দুই প্রজন্মের মাঝে তৈরি হয় এক গভীর বিভাজন। এ বিভক্তি তুঙ্গে পৌঁছায় ষাটের দশকের যৌনবিপ্লীব বা সেক্সুয়াল রেভোলুশানের মাধ্যমে। এসময় যৌনতার ব্যাপারে ধর্মীয় নৈতিকতা ছুড়ে ফেলে আ্যামেরিকা আলিঙ্গন করে নেয় ফ্রি সেক্সের দর্শনকে। তৈরি হয় সব ধরনের যৌনাচার আর বিকৃতির অবাধ প্রচলন ও বৈধতার এক দর্শন। পরবর্তী vo বছরে এই যৌনবিপ্লব আ্যামেরিকা থেকে রপ্তানি করা হয়েছে বাকি বিশ্বে। মিডিয়া, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাব্যবস্থা, বৈশ্বিক করপোরেশন...সেই পুরনো কালপ্রিটদের মাধ্যমে। আজ প্রেম, যৌনতা, পরিবার ও সমাজের ক্ষেত্রে যে বিকৃত চিন্তা আমরা দেখছি তা এই [ease ফসল।
দুই.
ষাটের দশকের শেষদিকে শুরু হওয়া সেক্সুয়াল রেভোলুশানের ভিত স্থাপিত হয় আরো আগে। যৌনবিপ্লীব নামের সভ্যতার অবৈধ এ সন্তানের বংশগতিকে সংক্ষেপে এভাবে উপস্থাপন করা যায়: মানুষের মনোদৈহিক প্রায় সব ধরনের সমস্যার কারণ হিসেবে অবদমিত কামনাবাসনা তথা যৌনতাকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে সেক্সুয়াল রেভ্যুলুশানের প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করায় সাইকোআযানালাইসিসের জনক DIS FRAT (মৃত্যু. ১৯৩৯)। মানুষের ব্যক্তিত্ব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অনুপ্রেরণা-প্রায় সবকিছুর পেছনে FET যৌনতা খুঁজে পায়। ফ্রয়েডের মতে, মানবজীবনের সব আনন্দ ও কষ্টের সম্পর্ক লিবিডোর (যৌনতাড়না) সাথে। এমনকি শিশুকেও ফ্রয়েড আবিষ্কার করে যৌন প্রাণী হিসেবে। ফ্রয়েডের চিন্তাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যায় উইলহেম রাইশ এবং হার্বার্ট মারক্যুসার মতো লোকেরা। জার্মান মার্কিস্ট মনোবিদ ডাক্তার উইলহেম রাইশ (মৃত্যু. ১৯৫৭) নিজ বইয়ে সর্বপ্রথম যৌনবিপ্লীব বা “Sexual Revolution” কথাটি ব্যবহার করে। উইলহেম রাইশের বইটির নাম ছিল ‘Die Sexualitiit im Kulturkampf’, যার অর্থ দাঁড়ায়- “সাংস্কৃতিক যুদ্ধে যৌনতার ভূমিকা”। ফ্রয়েডের ছাত্র রাইশের মূল বক্তব্য ছিল, যৌনতার ব্যাপারে রক্ষণশীল মনোভাব” আসলে স্বেরাচারী শাসনের শোষণযন্ত্রের অংশ। এই শোষণ থেকে বের হয়ে আসতে হলে কয়েকটা কাজ করতে হবে। যেমন -
ছ সমকামিতাসহ অন্য সব বিকৃত যৌনাচারকে সামাজিক ও আইনীভাবে গ্রহণ
করে নিতে হবে। ছ" কোলের শিশুর সাথেও যৌন সম্পর্ককে মেনে নিতে হবে। শিশুর যৌনতাকে জোর করে দমন করা যাবে না।
ছ" গর্ভপাতকে বৈধ এবং সহজলভ্য করতে হবে।
ছ* কিশোর-কিশোরীদের খোলামেলা যৌন শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
*" কিশোর বয়স থেকেই সবাইকে যৌন স্বাধীনতা দিতে হবে। রাইশের মতে শোষণমুক্ত, আদর্শ সমাজ গঠনে উপরের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা অপরিহার্য। উইলহেম রাইশের এ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। গত আট দশকে রাইশের এই প্রেসক্রিপশান প্রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হয়েছে৷ জীবনে তার নাম না শুনলেও এই বাংলাদেশের অনেক তরুণ-তরুণীও আজ উইলহেম
রাইশের চিন্তাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তার বিকৃত চিন্তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কারণে অনেকে তাকে “যৌনবিপ্লপবের ধাত্রী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তবে ফ্রয়েডের তৈরি করা কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে যে মানুষটি সত্যিকার অর্থে সেক্ময়াল রেভোলুশান এবং আজকের এই যৌনোন্মাদ সমাজের জন্ম দেয় তার নাম SITES কিনসি (মৃত্যু. ১৯৫৬)। রকাফেলার ফাউন্ডেশানের সমর্থন নিয়ে ফ্রয়েড এবং রাইশের চিন্তার সাথে কিনসি যুক্ত করে নতুন এক দিক।
কিনসি দাবি করে, মানুষের যৌনতা নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোতে আবদ্ধ না। যৌনতা ক্রমপরিবর্তনশীল, এখানে ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই। মানুষের যৌনতা রঙধনুর মতো। এখানে আছে অনেক রঙ, অনেক মাত্রা। রঙধনুর একপ্রান্তে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক যৌনতা, আর অন্য প্রান্তে সমকামিতা। এ দুইয়ের মাঝে আছে শিশুকামিতা, পশুকামিতা, উভকামিতা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিকৃতি। সমাজের মানুষেরা এই রঙধনু বা বর্ণালীর মধ্যে একেক অবস্থানে থাকতে পারে। আবার একজন মানুষ তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এই বর্ণালীর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতে পারে। কিনসির মতে, অধিকাংশ মানুষের অবস্থান রঙধনুর মাঝামাঝি, উভকামিতায়। কিন্তু সমাজ, সংস্কার ও ধর্মের মাধ্যমে আরোপিত নৈতিকতার কারণে মানুষ এই স্বাভাবিক অবাধ যৌনতার প্রবণতাকে চেপে রাখে। একে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে অথবা নিজের আসল যৌনাচারকে গোপন রেখে সমাজের প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বাভাবিকতার মুখোশ পরে থাকে।
কিনসি তার কুখ্যাত দুটি বইয়ের (Sexual Behavior In The Human Male/ Female) মাধ্যমে “প্রমাণ' করে দেখায় যে যেগুলোকে আমরা বিকৃত যৌনতা বলি সেগুলো আসলে অনেক বেশি প্রচলিত। সমকামিতা, উভকামিতা, বহুগামিতাসহ অনেক কিছুই সমাজের অনেকেই করে। যদিও তারা লোকলজ্জার ভয়ে সেটা গোপন রাখে। এই দাবির পক্ষে কিনসি বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। কিন্তু আসল ফাঁকিটা ছিল তার পরিসংখ্যানেই। কিনসি যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল তাদের মধ্যে বিশাল একটি অংশ ছিল পতিতা, ধর্ষক, সমকামী, সমকামী পুরুষ পতিতা, যৌন অপরাধের কারণে কারাভোগকারী এবং শিশু ধর্ষক। অর্থাৎ কিনসি গবেষণার জন্য এমনভাবে মানুষ বেছে নিয়েছিল যাতে বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত মানুষদের অনুপাত বেশি হয়। ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা করো। তুমি যদি “বাংলাদেশের চুরি” শিরোনামে গবেষণায় ১০০ জন মানুষের উপর জরিপ চালাও আর ইচ্ছে করেই সেখানে ৬০ জন চোরকে রাখো, তাহলে অবশ্যই তোমার জরিপের ফলাফলে দেখা যাবে বাংলাদেশের প্রায় ৫০-৬০% মানুষের মধ্যে চুরির প্রবণতা আছে। কিনসি ঠিক এ কাজটাই করেছিল।।' ৭
চল্লিশের দশকের শেষ দিকে আর পঞ্চাশের দশকে কিনসির “রিসার্চ” ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। রকাফেলার ফাউন্ডেশানের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও সমর্থনে আ্যামেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে নিজের আবিষ্কৃত “বৈজ্ঞানিক সত্য'গুলো প্রচার করে বেড়ায় কিনসি। তার বইগুলো পরিণত হয় বেস্টসেলারে। কিনসির এই জালিয়াতি ভরা গবেষণার উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গি কিনসির উপসংহারের উপর ভিত্তি করে স্কুলের যৌনশিক্ষা বই এবং আইন পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়। ষাট ও সত্তরের দশকে THREE দুজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, প্লেবয় ম্যাগাযিনের হিউ হেফনার এবং সমকামী অধিকার আন্দোলনের হ্যারি হেই- গভীরভাবে কিনসির দ্বারা প্রভাবিত ছিল। অন্যদিকে ফ্রয়েড, মার্ক্স আর রাইশের চিন্তার সমন্বয় করে কালচারাল মার্স্িসম ও আইডেন্টিটি পলিটিক্সের ছাঁচে সমকামিতাসহ অন্যান্য বিকৃত যৌনাচারের স্বাভাবিকীকরণের আন্দোলনের জন্য একটি আদর্শিক কাঠামো তৈরি করে ফ্র্যাক্কফুর্ট স্কুলের নিও-মার্কিস্ট তাত্তিক হার্বাট মারক্যুসা (মৃত্যু. ১৯৭৯)। ১৯৫৫ সালে লেখা Eros and Civilization বইয়ে সে বলে -
“যৌনতার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা বা দমন করার মানসিকতা, মানবজাতিকে
ক্ষতিগ্রস্তকরছে। আর যৌনতার ক্ষেত্রে ভিক্টোরিয়ান (অর্থাৎ রক্ষণশীল) মানসিকতা
থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই একটি উন্নত বিশ্ব নির্মাণ সম্ভব!”*! কিনসির দেওয়া ন্যায়-অন্যায় থেকে মুক্ত যৌনতার বর্ণালীতে নতুন একটি অক্ষ যোগ করে জন্স হপকিল্সের ©. জন মানি। যৌনতা (sexual preference), লিঙ্গ (gender) ও লৈঙ্গিক পরিচিতির (gender identity) মাঝে মানি পার্থক্য খুঁজে বের করে। সে বলে বসে মানুষের ধরাবাঁধা কোন যৌনতা তো নেই-ই, কোন ধরাবাঁধা লৈঙ্গিক পরিচয়ও নেই। আজ আমরা যে পুরুষের দেহে নারী, নারীর দেহে পুরুষ-জাতীয় বিভ্রান্তি এবং বিকৃতি দেখছি ( transgender movement/ রূপান্তরকামীতা) , সেটার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে জন মানির এই ধারণাগুলো। কিনসি, ও বিশেষ করে মানির কাছ থেকে আসা ধারণাগুলো লুফে নেয় ষাট ও সত্তরের দশকে তুঙ্গে থাকা ফেমিনিস্ট মুভমেন্ট। এই যে “বৈজ্ঞানিক প্রমাণ” পাওয়া গেছে-নারী ও পুরুষ আসলে একই। তাদের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। পুরুষ ও নারীর চিন্তা, সামর্থ্য, সামাজিক ও পারিবারিক ভূমিকার যে পার্থক্য সমাজে আছে তা আসলে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া। এসব ধারণা আসলে গড়ে উঠেছে পুরুষতন্ত্রের মাধ্যমে। প্রথা, ধর্ম, সংস্কার ব্যবহার করে পুরুষরা আসলে নারীদের ঘরে বন্দী করে রেখেছে। নারীবাদ আক্রমণ করে পরিবারকে। নারীবাদের চোখে পরিবার হলো একটি পিডিএফ লিঙ্ক - tinyurl.com/yc2phsve
“পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো যার উদ্দেশ্য নারীকে ঘরে আটকে রেখে পুরুষের আধিপত্য নিশ্চিত করা। নারীবাদে এসে সাইকোলজি, সেক্সোলজি, বিকৃতি, মানবিক পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির অদ্ভূত এক জগাখিচুড়ি তৈরি হয়। নারীবাদ নারীকে শেখাতে শুরু করে, “একজন নারীর জন্য পুরুষের কোনো দরকার নেই। প্রয়োজন নেই পরিবারের মধ্যে নিজের পরিচয় বা পূর্তা খোঁজার। পরিবার, সন্তান এগুলো তোমাকে শুধু আরো পিছিয়ে দেবে। বরং তোমার উচিত নিজের স্বাতন্ত্রা, নিজের ব্যক্তিত্ব, নিজের ক্যারিয়ারের মাঝে সাফল্য খোজা।'
যৌনবিপ্লব এসে নারী ও পুরুষ, দুজনকেই দীক্ষা দিতে শুরু করে-শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য বিয়ের কী দরকার? সেক্স শুধু শরীরের জন্য, আনন্দের জন্য। যা ইচ্ছে করো, কিন্তু এর সাথে আর কোনো কিছু জড়ানোর প্রয়োজন নেই। যখন ইচ্ছা, যার সাথে ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা শুয়ে পড়তে পারাই তো স্বাধীনতা। এটাই তো প্রগতি, এটাই তো সভ্যতা!
ষাট ও সত্তরের দশকে যা ছিল (নৈতিকতা, পরিবার, যৌনতা ইতাদির ব্যাপারে) খুব র্যাডিকাল “বিপ্লবী চিন্তা, পরের দশকগুলোতে সেগুলোই ধীরে ধীরে স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হয়। কিনসি, মানি ও মারক্যুসাদের চিন্তাধারা এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত TERE শেখানো হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর উপর এই চিন্তাধারা প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। একই সাথে সাধারণ মানুষের চিন্তায় এ বিশ্বাসগুলো বিভিন্নভাবে গেঁথে দিতে থাকে মিডিয়া। এই কলুষিত দর্শন, চিন্তার বিকৃতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা বিশ্বে। আর এভাবেই ধাপে ধাপে সব শেকল থেকে মুক্ত হয়ে যৌনতা পরিণত হয় নিছক আনন্দের এক অতৃপ্ত অশ্বেষণে।
যৌনতার ব্যাপারে এই দর্শনকে এই বিশ্বব্যবস্থা আজ মোটাদাগে গ্রহণ করে নিয়েছে। যৌনতাকে এখন এভাবেই দেখা হচ্ছে, সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। অবাধ যিনার পাশাপাশ সমকামী অধিকার, ট্র্যান্সজেন্ডার অধিকারের নামে বিকৃতির স্বাভাবিকীকরণ চলছে জাতিসঙেঘের মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উন্নয়ন, মানবাধিকার আর স্বাধীনতার নামে মুসলিম বিশ্বে এই চিন্তাধারা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে সোজা কথায় কাজ না হলে, নানাভাবে বাধ্য করছে। বিকৃতি ও অবক্ষয় সমগ্র সভ্যতার উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে।
এভাবেই আমরা এমন এক বিচিত্র সময়ে এসে পৌঁছেছি যখন আ্যামেরিকাতে বছরে সাড়ে ছয় লক্ষ আর বাংলাদেশে বছরে সাড়ে ৭ লক্ষের উপর গর্ভপাত হয়।। ৷
এভাবেই বিবাহপূর্ব ও বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা সামাজিক নিয়মে পরিণত হয়। সিনেমা, সাহিত্য, টেলিভিশন, ইউটিউব সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে নকশা, অধুনা আর পরামর্শের কলাম সন্তান আর সন্তানদের অভিভাবককে শিখিয়ে দেয় উঠতি বয়সে “প্রেম করা” আর “শারীরিক ঘনিষ্ঠতা” স্বাভাবিক ব্যপার। আর এমন কিছু ঘটে যা পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি-পর্নোগ্রাফি ঢুকে পড়ে প্রতিটি ঘরে, চলে আসে প্রতিটি মানুষের হাতের নাগালে, পরিণত হয় শত বিলিয়ন ডলারের এক বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রিতে। আর সেক্সয়াল রেভোলুশানের আদর্শ ছড়িয়ে পড়ে আ্যামেরিকার কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের টেবিলে রাখার পত্রিকার পাতাতে। unsafe abortion and its consequences in South-Southeast Asia. International Journal of Gynecology & Obstetrics, 126, S20-S23.
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[১৭২] রক্ষণশীল বলতে সে মূলত ইহুদী-থ্িষ্ট ধর্মীয় মূল্যবোধকে বুঝিয়েছে [১৭৩] আ্যালফ্রেড কিনসির ধাপ্পাবাজি নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য পড়ে যেতে পারে এই বইটি - Kinsey, Sex and Fraud: The Indoctrination of a People. [১৭৪] পৃ. ২২৭-২২৮ [১৭৫] Total abortions in the United States in 2020, Guttmacher Institute— tinyurl.com/j5rpmhnc Zaidi et al., (2014). Achievements of the FIGO initiative for the prevention of
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।