চশমা
বিয়ে বহির্ভূত প্রেম ভালোবাসার ভয়ঙ্কর দিক জানার পর আশা করি এখন তোমরা এর থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করবে। প্রত্যাবর্তনের পথে তোমাদের স্বাগতম। এই পথে অনেক ধরনের সংশয়, অনেক ধরনের দ্বিধাদ্বন্ব তোমাদের মাঝে কাজ করবে। এই দ্বিধাদ্বন্থ সংশয়গুলো দূর করার পাশাপাশি প্রত্যাবর্তনের পথের প্রতিটি ফাঁদ এবং সেগুলো এড়ানোর উপায় নিয়ে আমরা আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। বইয়ের কলেবর ছোট রাখার জন্য খুব বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। সেগুলো আমাদের ওয়েবসাইট এবং পেইজে পাবে। তবে সে আলোচনায় যাবার আগে তোমাদের একটি বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থা, মিডিয়া, সুশীল-প্রগতিশীল গোষ্ঠী আর লিবারেল মিশনারীদের মগজধোলাইয়ের শিকার হয়ে তোমরা বিশ্বকে, নিজের জীবনকে যে চশমার মধ্য দিয়ে দেখতে শিখেছো। সেই চশমা খুলে ফেলতে হবে। এর বদলে পরতে হবে ইসলামের চশমা। পৃথিবী এবং জীবনকে দেখতে হবে তাওহীদের চশমা দিয়ে। দেখো, আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদেরকে এই পৃথিবীতে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন আমাদের জন্য কোনটা উপকারী আর কোনটা ক্ষতিকর। তিনি আমাদেরকে সেই বিষয়গুলো করতে আদেশ দিয়েছেন যা আমাদের নিজেদের জন্য, পরিবার সমাজ ও সভ্যতার জন্য উপকারী। তিনি সেই বিষয়গুলোকেই নিষিদ্ধ করেছেন যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। নৈতিকতার ভিত্তি হলো আল্লাহ্ ও ইসলাম। শালীনতা, অশ্লীলতা, ঠিক-বেঠিক, ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবাধিকার সবকিছুর একমাত্র নীতি নির্ধারক হলেন আল্লাহ। কোনো মানুষ, কোনো সংঘ, সভ্যতা, এঁতিহ্য বা সংস্কৃতি নয়। আল্লাহ বলেছেন,
“যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য জীবনব্যবস্থা অনুসন্ধান করবে, তার পক্ষ থেকে তা
(অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা) কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর সে হবে পরলোকে
ক্ষতিগ্রস্তদের erg |]
তুমি যখন ইসলামের এই চশমা চোখে দুনিয়াটা দেখা শুরু করবে তখন অনেকগুলো সন্দেহ আর দ্বিধাদ্বন্দব তোমার মধ্য থেকে চলে যাবে। নারী-পুরুষের সম্পর্ককে ইসলামের চশমায় দেখার জন্য আমাদের কিছু জিনিস জানা ও মানা জরুরি:
১। যৌনতা কেবল বিয়ের মাঝেই হবে। বিয়ের বাইরে নারী পুরষের যৌন সম্পর্ক
জায়েজ (211 আল্লাহ্ বলেছেন, “আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে রাখে সংরক্ষিত, নিজেদের স্ত্রী বা অধিকারভূক্ত দাসীগণ ছাড়া, এতে তারা হবে না নিন্দিত। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারাই হবে Sela |!
২। মাহরাম ছাড়া অন্য নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামে জায়েজ নেই। মাহরাম
হলো সেই সমস্ত নারী-পুরুষ যাদের সাথে বিয়ে হারাম। মেয়েদের জন্য মাহরাম হলো- বাবা, দাদা, চাচা, মামা, নিজ ভাই, দুধ ভাই ইত্যাদি। ছেলেদের জন্য মাহরাম হলো মা, খালা, ফুপি, দাদি, নানি, নিজ বোন, দুধ বোন ইত্যাদি। মামাতো, চাচাতো, খালাতো, ফুপাতো ভাইবোন, দেবর-ভাবী, দুলাভাই-শালী একে অপরের মাহরাম TET এদের সাথে শরীয়াহ অনুযায়ী পর্দা করতে হবে, অবাধ মেলামেশা করা যাবে না। শুধু যে নির্জনেই মেলামেশা বন্ধ করতে হবে এমন না। সামাজিক গ্যাদারিং যেমন ধরো অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে। শরীয়াহসম্মত কোনো কারণ ছাড়া অনর্থক কথা বলা যাবে না, খোশগল্প করা, চ্যাট করা হাই হ্যালো করা তো বহু দূরের কথা। আলকেমি লেখাতে আমরা দেখেছি নারী পুরুষ কাছাকাছি অবস্থান এবং কথাবার্তা কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে।
৩। নারী-পুরুষ উভয়কেই পর্দা করতে হবে। পোশাক পরতে হবে শরীয়াহর নির্দেশনা
অনুযায়ী। শুধু শরীর ঢাকা যথেষ্ট না, শরীরের কাঠামো যেন বোঝা না যায়, তাও লক্ষ্য রাখতে হবে। এই কথা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য TE | আলকেমির লেখাতে আমরা দেখেছি নারীর সৌন্দর্য, শরীরের গঠন ছেলেদের কীভাবে পাগল করে দেয়।
৪। চোখের হিফাযত করতে হবে- নারী-পুরুষ উভয়কেই। বিশেষ করে পুরুষের
জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। নারীর তুলনায় পুরুষেরা সৌন্দর্য আর চেহারা দেখে বেশি প্রভাবিত হয়।
৫। সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিকভাবে তাওহীদ বোঝা। নিজেদের মুসলিম দাবি করলেও
আমরা অনেকেই তাওহীদের অর্থ, এর দাবিগুলো বুঝি না। তাওহীদের একটা অর্থ হলো আল্লাহ্ আমার মালিক। আমি তাঁর দাস। তিনি আমাকে যা বলবেন সেটাই আমাকে করতে হবে। শুনলাম ও মানলাম, এই হবে মুসলিমের মনোভাব। তাই যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে আমাদের দেখতে হবে কাজটা শরীয়াহতে হালাল না হারাম? এই কাজটা কি আল্লাহ্ পছন্দ করবেন নাকি অপছন্দ করবেন? তুমি যখন এই বিষয়টা মেনে নেবে তখন ব্রেকআপ করলেও মনে কষ্ট পাবে- এমন সংশয় থাকবে না। “দ্বীনি” গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড নামের আত্মপ্রতারণার সুযোগ থাকবে না। GFA পর গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের ক্ষতি করা, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ছবি ভাইরাল করে দেওয়া, মিথ্যা ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়া, আত্মহত্যা করা, মদ-গাঁজা, সিগারেট খেয়ে জীবন নষ্ট করার মতো কাজগুলো করার সুযোগ পাবে না। কারণ এগুলো সবই মহান আল্লাহর অবাধ্যতা। প্রেম-ব্রেকআপের পরের এই চরমপন্থী প্রতিক্রিয়াগুলোর মূল কারণ হলো, ক্রমাগত ব্রেইনওয়াশিং-এর ফলে আমরা প্রেমকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য ও সার্থকতা হিসেবে দেখি। পাশাপাশি আমাদের জীবনের সত্যিকারের উদ্দেশ্য কী, জীবনের সার্থকতা কোথায়, আমরা জানি না। বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থার বিপরীতে ইসলাম আমাদের শেখায় আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদাত করা। আল্লাহ্ এ জন্যেই আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।
“আর আমি সৃষ্টি করেছি জ্বীন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।” ১
এটা কিন্তু শুধু নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ করা ইত্যাদি আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। বরং মহান আল্লাহর নির্ধারিত শরীয়াহ অনুযায়ী ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিটি বিষয়ে আমল করা, সে অনুসারে চলাও আল্লাহর ইবাদাত। এটাই দুনিয়াতে আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে দেখায়, এর মাধ্যমেই সৃষ্টির হক সংরক্ষিত হয়, দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা হয় ভারসাম্য। কাজেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আচার-আচরণ, লেনদেন, সামাজিক কিংবা অন্য ইস্যুতে আল্লাহর কথা অনুযায়ী কাজ করা, তাঁকে MES FAR উদ্দেশ্যে কাজ করাও ইবাদাহ। এই জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য প্রেম করা না। বোহেমিয়ানের মতো জীবন কাটিয়ে দেওয়া, ভবঘুরের মতো দুয়ারে দুয়ারে সস্তা সুখের খোঁজ করা, মানুষের কাছে আকর্ষণীয় বা কাঙ্ক্ষিত হওয়া মানুষের জীবনের
উদ্দেশ্য না। মানুষ আল্লাহর দাস। আর হিসেবে আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর গোলামি করা। এতেই আমাদের জীবনের প্রকৃত সফলতা, সুখ ও শান্তি নিহিত | [২৭৩] শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) যেমনটা বলেছেন- “মানুষের অন্তর সৃষ্টিগতভাবেই দুইভাবে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। একটি হলো ইবাদাতের ক্ষেত্রে, যা মানুষের জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য। আর একটি হলো আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর উপর ভরসা করার ব্যাপারে। আল্লাহর ইবাদাত ছাড়া, তাঁকে ভালোবাসা ছাড়া, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন ছাড়া অন্তর কখনোই বিশুদ্ধ হবে না, সফলতা লাভ করবে না। খুশি হবে না, সুখ পাবে না, প্রশান্তি পাবে না। এমনকি যদি সে উপভোগের সব কিছু পেয়েও যায়, তারপরও অন্তর প্রশান্ত হবে of 71+! এ বিষয়গুলোর পাশাপাশি নারী-পুরুষের সম্পর্কের ব্যাপারেও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে তোমাকে। এতোদিন নারী-পুরুষের সম্পর্ককে তুমি দেখেছে প্রেমের ফিল্টারের ভেতর দিয়ে। আসলে বলা ভালো, এভাবেই তোমাকে শেখানো হয়েছে। কিন্তু নারী-পুরুষের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বিয়ে। আর প্রেম আর বিয়ের মধ্যে আছে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই, সেটা অন্য কোনো দিনের জন্য তোলা থাক। তবে এখানে আমরা সংক্ষেপে কিছু বিষয় বলি- ক। প্রেমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো আকর্ষণ, নতুনত্ব, যৌনতা। অন্যদিকে যৌনতার পাশাপাশি বিয়ের বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্ব, সম্মান, মায়া, যত্ন, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, স্থায়িত্ব। বিয়েতে মজার সাথে সাথে আপাতভাবে কঠিন কঠিন অনেক বিষয় আছে। অন্যদিকে প্রেমে আপাতদৃষ্টিতে শুধুই মজা। কোনো দায়িত্ব নেই, কোনো টেকসই বন্ধন নেই। নতুন নতুন প্রেম করে নতুন নতুন শরীরে ডুব দেওয়া কিংবা পছন্দের মানুষের সান্নিধ্য উপভোগ করাই এর সহজাত বৈশিষ্ট্য। এখানে কেবল সুখ আর সুখ। কিন্তু সাধারণত যেসব বিষয় শুধুই সুখের প্রতিশ্রুতি দেয় সেগুলো মরীচিকা হয়। প্রেমও মরীচিকা। যার বিস্তারিত আলোচনা আমরা করে এসেছি। নোঙর ছাড়া নৌকা মুক্ত ভাবে চলতে পারে। কিন্তু দিন শেষে সেই ছুটে চলার পরিণতি কী হয়? সেই নৌকা কি গন্তব্যে পৌঁছায়? খ। এই পার্থক্যের কারণে বিয়ে এবং প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষের মাইন্ডসেট প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। এজন্যই অনেকসময় বলতে দেখা যায়- অমুক প্রেম করার জন্য ভালো, কিন্তু বিয়ের মতো ম্যাটেরিয়াল না। মানুষ যাদের সাথে প্রেম করে তাদের
অনেককেই বিয়ের উপযুক্ত মনে করে না। বিয়ে করতে গিয়ে একজন পুরুষ শুধু তার যৌনসঙ্গী খোঁজে না, সে তার সন্তানের মা-কে খোঁজে। নারী শুধু বিছানার সঙ্গী আর টাকার মেশিন খোঁজে না, তার সম্ভানদের পিতাকেও খোঁজে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানুষ সুখ দুঃখের ভাগীদারকে খোঁজে, জীবনের অংশীদারকে খোঁজে, দুনিয়া ও আখিরাতের সাথীকে খোঁজে। বিয়ের মাধ্যমে দুটো পরিবারের সম্পর্ক হয়, দুটো বংশগতি এক সূত্রে এসে মেলে। সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিয়ে সহজাতভাবেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে স্থিতিশীল করে। উড়নচণ্ডী, বাউন্ডুলে ছেলেটাও বিয়ের পর সিরিয়াস হয়ে যায়। তাকে দায়িত্বশীল হতে হয়। সে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করে। সন্তানের দায়িত্ব নেয়। পরিবার ও সমাজে অবদান রাখে। অন্যদিকে প্রেমের উদ্দেশ্য কী? প্রেমের উদ্দেশ্যই হলো ক্ষণিকের সুখ। স্রেফ আনন্দ, আর কিছু না- হয় শরীরের মাধ্যমে নয়তো সান্নিধ্যের মাধ্যমে। প্রেমের সময় মানুষ সেই মানুষটাকেই বেছে নেয় যাকে তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয়। তৎক্ষণাৎ যার কারণে তার মস্তিকে ডোপামিন কিংবা সেক্স হরমোন রিলিয হবে। যৌনতা অথবা বিচ্ছেদ ছাড়া প্রেমের আর কোনো চুড়ান্ত গন্তব্য নেই। প্রেম সবসময়ই একটা সাময়িক অবস্থা। সাময়িক সুখ, সাময়িক সান্নিধ্য, সাময়িক মনোযোগ, সাময়িক আবেগ ও অবস্থান। কাজেই এ সম্পর্ক হয় ক্ষণস্থায়ী। হরমোনের নেশা কেটে গেলেই সম্পর্কও হারিয়ে যায়, অথবা দুর্বল হয়ে পড়ে। সম্পর্ক হিসেবে বিয়ে আর প্রেম যে একেবারেই আলাদা, অনেক ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী, এ বিষয়টা খুব ভালোভাবে বোঝা যায় উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের সময়কার একটি ঘটনা থেকে। একদিন এক লোক আসলো খলীফাহ উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে। বললো,
“হয়া, আমিরুল মুমীনিন, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাই।”
“কেন? কেন তুমি তাকে তালাক দিতে চাও?”
“কারণ আমি তাকে ভালোবাসি না।”
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'সব ঘর কবে থেকে কেবল
ভালবাসার উপরে গড়ে উঠেছে? সেবা-যত্ন, তদারকি, অভিভাবকত্ব এগুলো
কোথায়?” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যা বললেন তা হলো- ভালোবাসাই বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। এমন অনেক পরিবার আছে যেগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছুর উপর ভিত্তি করে। হতে পারে তারা আগে একে অপরকে ভালবাসতো। কিন্তু মানুষের মন বদলায়। অনেক কিছুই ভুল হতে পারে। কিন্তু তার মানে কি -স্ত্রীকে বা স্বামীকে আর ভালোবাসি না- এই কারণে পরিবার ভেঙে ফেলতে হবে?
আল্লাহ্ তা'আলা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা এবং দয়া দিয়েছেন। যদি ভালোবাসা শেষ হয়ে যায় তারপরেও সেখানে দয়া থাকে। যত্ন, অভিভাবকত্ব, দায়িত্ব, সমবেদনা আর সহানুভূতি থাকে। একজন স্বামীর উচিত তার স্ত্রীর যত্ন নেওয়া যদিও সে তার স্ত্রীকে এখন আর ভালো না বাসে। ঠিক একই কথা প্রযোজ্য স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও। একজন মুসলিম আখিরাতকে কেন্দ্র করে বাঁচে। তার কাছে পরিবার হলো এমন এক নিউক্লিয়াস যেখানে সে তার বাচ্চাদের লালনপালন করে। উমার ইবনু খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছে করে না। এরপরও স্ত্রীর সাথে নিজের উপর জোর খাটিয়ে ঘুমাই।” উমার ইবনু খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কামনা অনুভব করা না সত্ত্বেও নিজের উপর জোর করে কেন স্ত্রীর সাথে ঘুমাতেন? হয়তো এর মাধ্যমে আল্লাহ এমন একজন বান্দা তৈরি করবেন যে আল্লাহর প্রশংসা করবে। যার মাধ্যমে দ্বীন প্রচার হবে, ইসলামের সুরক্ষার জন্য যে লড়াই করবে, যে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করবে। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকটিকে বললেন, তাঁকে তালাক দিও না। প্রেমই জীবনের সবকিছু না। প্রেম অনেকটাই মরীচিকার মতো। বিয়ের পর সময়ের লশ্রোতে বাস্তবতায় ধাক্কা খেয়ে শুরুর সেই অমোঘ আকর্ষণ কমে যায়। এসব নিয়ে অনেক আলোচনা আমরা করে আসলাম। কিন্তু প্রেম ফুরিয়ে যেতেই পারে, প্রেম ফুরালেও দয়া ফুরালে চলবে না, ভালো আচরণ থাকতেই হবে। আশা করি, বিয়ে, প্রেম এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের ব্যাপারে ইসলাম তোমার কাছ থেকে কী দাবি করে, তা বুঝতে পেরেছে আসলে শুধু একটা জিনিস মাথায় রাখলেই সব কিছু অটোম্যাটিক ঠিক হয়ে যাবে। আর তা হলো- সবার আগে আসবেন আল্লাহ। কোনো একটা কাজে যদি দুনিয়ার সব মানুষ অসন্তুষ্ট হয় কিন্তু সেটা আল্লাহর আদেশ হয়, তাহলে দুনিয়ার সব মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই কাজটি করতে হবে। প্রেম থেকে দূরে সরে আসো, ব্রেকআপের সময়, ব্রেকআপের পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা- সব ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখবে। “আল্লাহ ও রাসূল অধিক হকদার, সত্যিকারের মুসলমান হলে তারা যেন তাঁদেরকে TES | আলোর পথের এই অভিযাত্রায় তোমাকে স্বাগতম!
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[২৬৮] সূরা আলে-ইমরান, ৩:৮৫ [২৬৯] ক্রীতদাসীদের সাথে যৌনতা জায়েজ আছে। তবে সেই ক্রীতদাসী আমাদের সময়কার বাসাবাড়িতে কাজ করে এমন দাসী না। বিস্তারিত জানার জন্য পড়ো ডা: শামসুল আরেফিন শক্তি রচিত ইসলামে দাস-দাসী ব্যবস্থা বইটি। অবশ্যপাঠ্য একটি বই। প্রেম ভালোবাসা থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রেও পরোক্ষভাবে বেশ সাহায্য করতে পারে এই বইটি! [২৭০] সূর আল-মু'মিনুন, ২৩:৫-৭ [২৭১] সম্পূর্ণ মাহরাম লিস্ট পাবে এখানে- https://www.hadithbd.com/mahram/ [২৭২] সূরা আয যারিয়াত, ৫১:৫৬ [২৭৩] Al-’Ubudiyyah, Ibn Qayyim al-Jawziyyah Rahimahullah, sunnahonline. com- tinyurl.com/3s4rerez [২৭৪8] Al-’Ubudiyyah: Being a True Slave of Allah, Ibn Taymiyyah Rahimahullah, sunnahonline.com- tinyurl.com/4msrb8y7 [২৭৫] উমার ইবনুল খাত্তাবের (রা.) জীবনী, শাইখ আনওয়ার বিন নাসির আল-ইয়ামানী [২৭৬] সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৬২
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।