মানুষ একা বাঁচতে পারে না। মানুষের সঙ্গীর দরকার। কিন্তু ফ্যান্টাসি দরকার না। সত্যি কথা বলতে তুমি আসলে কষ্ট করতে চাচ্ছে না, বিয়ের মাধ্যমে সঙ্গী পাবার জন্য যে কষ্ট করতে হয়, যে সংগ্রাম করতে হয়, যে যোগ্যতাগুলো অর্জন করার চেষ্টা করতে হয়, তুমি সেটা করার কথা ভাবছে! না। এই জিনিসটাকে এড়িয়ে তুমি প্রেমের শর্টকাট খুঁজছো। বাস্তবতার মুখোমুখি হবার সাহস তোমার নেই। তুমি পালিয়ে বেড়াতে চাচ্ছো। তুমি ফল চাচ্ছো, কিন্তু সে ফল পাবার জন্য যে কষ্ট করতে হয়, তা করতে চাচ্ছে না। সেগুলোকে তোমার কাছে বোরিং মনে হয়, ফালতু মনে হয়। তুমি সঙ্গী চাচ্ছে, কিন্তু একটা সম্পর্কে জড়ালে তোমার দায়িত্ব কর্তব্য কী হবে, সেগুলো তুমি জানো না, জানার কোনো আগ্রহও নেই। তাহলে কীভাবে হবে বলো? দিনশেষে বারবার তুমি এটাই প্রমাণ করছো যে তুমি ইমম্যাচিউর। একূলও হারাচ্ছো, ওকূলও হারাচ্ছে! তুমি একটার পর একটা রিলেশনে জড়িয়ে এখন যেমন দুঃস্থ সময় পার FAC | তেমনি ভবিষ্যৎ জীবনটাকেও বিষিয়ে দিচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর এবং গুরুতর ব্যাপার হলো তুমি ক্রমাগত মহান আল্লাহর অবাধ্য হচ্ছে। গুনাহ করছো। নিজের আখিরাত নষ্ট করছে৷ নিজ হাতে। এসব করার কোনো মানে হয়? দেখো, এই বয়সে জীবন তোমার জন্য যতো উপহারের পসরা সাজিয়ে বসেছে, বয়স যখন ২৫/২৬ হয়ে যাবে বা ৩০ পার করবে, তখন তা থাকবে না। জীবন কৃপণ হয়ে যাবে। সুযোগের কথা বাদ দাও, ত্রিশ বছর বয়সে তোমার কাঁধে এমন অনেক দায়িত্ব কর্তব্য চলে আসবে যা এখন নেই। বিগত বছরগুলোতে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আসা ক্লান্ত বাবা তোমার ঘাড়ে দায়িত্ব তুলে দিয়ে অবসরে যেতে চাইবেন। তুমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারবে না। দুনিয়া সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। এখন তোমার হাতে অনেক সময়, অনেক অবসর, জীবন তোমার প্রতি উদার। গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের পেছনে না ছুটে, সেক্সের জন্য ভাদ্র মাসের কুকুরের মতো সব জায়গায় কড়া না নেড়ে বরং সুযোগগুলোকে কাজে লাগাও। বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। একটু ধৈর্য ধরো। ধৈর্যের ফল মিষ্টি। সিঙ্গেল থাকলে মানুষ মারা যায় না। এখন তোমার হাতে অফুরন্ত সময় আছে। এ সময় নষ্ট করো না। অন্য কোনো মানুষের দাসে পরিণত হয়ো না। ডিম পাড়া রাজ হাঁসকে অতি লোভে নষ্ট করে দিও না। ধৈর্য
ধরে তার সেবা যত্ন করতে থাকো। সোনার ডিম পেতেই থাকবে তুমি। ইন শা আল্লাহ্ একসময় তোমারও সঙ্গী হবে। তোমারও সন্তান হবে। এখন যে জিনিসগুলো নিয়ে তুমি আফসোস করছো, তখন এগুলোর কথা মনে হলে তোমার হাসি পাবে! প্রিয় ভাইয়া, প্রিয় আপু! তথাকথিত এই প্রেমের পাশেই শুয়ে আছে দুরারোগ্য অসুখ। প্রেমের অসুখে ভুগে আর কতো কোটি ঠোকর খাবে? বিষে বিষে নীল হবে? আর কতো ভুল করবে? সিদ্ধান্ত নেবার সময় কি এখনো আসেনি? তাওহীদের আলোতে বিদায় করে দাও সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থার চাপিয়ে দেওয়া পুরোনো সব অন্ধকার বিশ্বাস। রঙিন চশমাটা খুলে ফেলো চোখ থেকে। তাওবাহর ঝুম বৃষ্টিতে ধুয়ে ফেলো তোমার ক্লান্ত, বিধ্বস্ত কিন্তু Han মুখটা।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।