হারিয়ে পাওয়া
হয়তো তোমার একটা রাজপুত্র ছিল, অদ্ভূত আইনে প্রেম করতে তোমরা- রমাদানে হাত ধরা যাবে না, এক রিকশায় বসা যাবে না, এরকম আরো অদ্ভূত অনেক কিছু নিউমার্কেটের বহু অলিগলি ঘুরে খুঁজে এনেছিল পায়েল, সযত্বে পরিয়ে দিয়েছিল তোমার পায়ে, রোজ রাতে নিটোল প্রেমের গান শোনাতো সে... তোমাকে আর ব্যালকনির ওপাশের রাত জাগা ক্লান্ত তারাটাকে। এখনও সে গান শোনায়। তবে সেটা তুমি না। ইনবক্সে চাহিদামাফিক ছবি দিতে পারোনি। এটাই ছিল তোমার অপরাধ। অথবা তোমার কেউই ছিল না, বুকে ছিল শুধু হাহাকার, চরাচর ডুবে যাওয়া সিক্ত বিষণ্নতা, অন্ধকারে নির্বাসিত। অথবা হয়তো কাউকে ভালো লেগেছিল তোমার, নির্নিমেষ দৃষ্টি ফেলে একদিন দেখেছিলে কৈশোর পেরোনো sel গাছটার নিচে রিকশাতে উঠছে সে। কী জানি বলবে বলে এক দৌড়ে রাস্তা পেরুলে, ভীরু সমর্পিত চোখে রিকশা থামিয়ে নেমে গিয়েছিল সে-ও। কিন্তু কোনো এক অন্তর্নিহিত বাধায় বলতে পারোনি কিছু। নিষ্প্রাণ চোখে অসংখ্য ব্যথা আর প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে কিছুক্ষণ। অন্তহীন নৈরাশ্য বুকে ফিরে এসেছিলে তুমি। অথবা হয়তো হঠাৎ করেই একজনের সাথে দেখা হয়ে গেল তোমার। বছর দশেক পরে। দেখা না হলেই মনে হয় ভালো হতো। শরীরের সমস্ত অণু-পরমাণু দিয়ে ভালোবেসেছিলে তাকে। আত্ত:পারমাণবিক ব্যবধান ভুলে রেখেছিলে হৃদয়ের একেবারে কাছে। একদিন সেই তোমার পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে... লঞ্চের বদ্ধ কেবিনে বরিশাল যাওনি বলে। হঠাৎ দেখা হওয়ায় বিস্মৃতির পথ ধরা স্মৃতিরা প্রত্যাবর্তন করছে। একে একে এসে ঝাপটা মারছে। ছাইচাপা আগুন ধিকিধিকি করে মাথাচাড়া দিচ্ছে আবার। আঁধারের মতো কষ্ট নামছে বুকে। হয়তো রাত জাগা তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছে আরো কিছু রাত...
দুই.
সুশীল প্রগতিশীলদের ক্রমাগত প্রোপ্যাগান্ডার ফলে প্রেম করতে না পারলে, প্রেমে ছ্যাঁকা খেলে বা লিটনের ফ্ল্যাটে না যেতে পারলে তোমরা নিজেদের মনে করো জীবনে
পরাজিত এক সৈনিক। ঘোর বর্ষা নামা চোখে, তামাক পাতার ধোয়ায় নিজেকে পুড়িয়ে ভাবো- আমার বন্ধুরা কতই না এনজয় করছে, আর আমি জীবনে কিছুই করতে পারলাম না। আমার জীবনটাই ব্যর্থ হয়ে গেল!
বিয়ে বহির্ভূত এই রিলেশনগুলো যে হারাম, এগুলো করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন- এমন কিছু বলে AGT FCS গেলে তোমরা মুখে হয়তো কিছু বলো না, কিন্তু মনের ভেতর ঠিকই একটা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করো- ধুর, এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না, সবই খালি হারাম! ইসলাম মানতে গেলে জীবনটা একেবারে তেজপাতা হয়ে যাবে। আনন্দ, মজা করার কোনো সুযোগই নেই।
আল্লাহ বলেছেন এই হারাম রিলেশন, এই যিনা-ব্যভিচার এসবের মধ্যে সুখ নেই। ৯৭ অন্যদিকে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, মিডিয়াসাহা-রা বলছে না! জীবনের চরম মজা লুকিয়ে আছে এর মধ্যেই!
তুমি কার কথা বিশ্বাস করবে? আল্লাহকে নাকি সুশীল প্রগতিশীলদের? আল্লাহকে নাকি বিনোদন যন্ত্র আর মিডিয়াসাহা-কে?
আমাদের সবচেয়ে ভালোবাসেন কে?
-আল্লাহ
এখন বলো, আল্লাহ কি আমাদের খারাপ চান? আমাদের জীবন থেকে সকল আনন্দ কেড়ে নিতে চান? আল্লাহ্ কি আমাদের কষ্ট দিতে চান? আমাদের জীবনকে দুঃখের মহাসাগর বানাতে চান? প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে ভালোমতো ভাবো।
আল্লাহ্ বিয়ে বহির্ভূত প্রেমকে যখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন তার মানে অবশ্যই এটার মধ্যে প্রকৃত সুখ বা শাস্তি নেই। লিটনের ফ্ল্যাটে দশ-বারোটা মেয়ের কাপড় খুলতে পারার মধ্যে ক্ষণিকের মজা থাকলেও শান্তি নেই।'৯*% যারা এটা করতে পারে না তাদের নিজেকে লুযার মনে করার কিছু নেই বরং এর উল্টোটা সত্যি। যারা এই তথাকথিত প্রেম ভালোবাসা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারে তারাই আসল পুরুষ। তারাই পরিপূর্ণ, আলোকিত, সাহসী নারী। যুগে যুগে কালে কালে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়ানো সবচেয়ে মহান, সবচেয়ে সাহসী, সবচেয়ে ড্যাশিং স্মার্ট মানুষদের দলে তারা। তারাই এমন মানুষ, এপারের জীবনে যাদের নানান জাতের, নানার রঙের আদি ও আসল সুখ আর শাস্তি অনুগত ভৃত্যের মতো অনুসরণ করে সবসময়, ঠিক তেমনি ওপারের অসীম জীবনটাতে এমন কিছু পুরষ্কার অপেক্ষা করে থাকে যা মানব মস্তিষ্কের কল্পনারও বাইরে!
তিন.
এলাকায় এলাকায় ঘোষণা দেওয়া হলো। “খুনী মূসা” যেন পালাতে না পারে। যে করেই হোক ওকে গ্রেফতার করতে হবে- এমন কড়া নির্দেশ জারি করলো ফিরআউন। নগরের একপ্রান্ত থেকে ছুটে এলেন মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি সহানুভূতিশীল এক ব্যক্তি। ত্রস্ত কে জানিয়ে দিলেন- পালাও মূসা! তোমাকে খুন করার জন্য তন্ন তন্ন করে খুঁজছে ফিরআউনের লোকেরা! মূসা আলাইহিস সালাম SFR স্থান ত্যাগ করলেন। পাড়ি দিলেন এক দীর্ঘ বিরান পথ। পৌঁছালেন মাদায়েনে। ক্ষতবিক্ষত পায়ে বিশ্রাম নেবার জন্য বসলেন এক গাছের ছায়ায়। পেছনে গ্রেফতারি পরোয়ানা, সামনে ফেরারি অনিশ্চিত জীবন, অপরিচিত পরিবেশ... নিঃস্ব, রিক্ত। গাছের অদূরেই ছিল এক কুয়া। রাখালেরা পশুদের পানি পান করাচ্ছে সেখানে। পশু আর রাখালের ভিড়, হাঁকডাকে জায়গাটা সরগরম হয়ে আছে। কে কার আগে পশুকে পানি খাওয়াতে পারে চলছে তার প্রতিযোগিতা। ভিড় থেকে একটু দূরে দুজন তরুণী তাঁদের পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকক্ষণ ধরে। পুরুষদের এই হট্টগোলের মাঝে তাঁদের পশুকে পানি খাওয়ানোর সুযোগ মিলছিল না। রাখালদের কারো কোনো খেয়াল নেই তাঁদের প্রতি। ক্লান্ত মূসা উঠে দাঁড়ালেন। তাঁদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন, আপনাদের ব্যাপারটা কী”? তাঁরা উত্তর দিলেন- রাখালরা চলে গেলে তারপর আমরা আমাদের পশুদের পানি পান করাবো। আমাদের পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। মূসার মনে দয়া হলো। সেই সাথে কিছুটা বিরক্তও হলেন রাখালদের উপর। এরা কেমন পুরুষ! নারীদের সম্মান করতে জানে না। শক্তিশালী মূসা রাখালদের ভিড় ঠেলে পশুকে পানি পান করালেন। তারপর কোনো কথা না বলে, কোনো বিনিময় না চেয়ে সোজা ফিরে গেলেন আগের জায়গায়, গাছের ছায়ায়। ফিরেও তাকালেন না আর তাঁদের প্রতি। নিঃসঙ্গ এক আগস্তক তিনি। বাড়ি থেকে বহুদূরে, ফিরআউনের প্রাসাদে প্রাচূর্যের মাঝে বড় হয়েছেন। আজ হঠাৎ করেই তিনি নেমে এসেছেন অতি সাধারণের কাতারে। ঠিক এই সময়টাতে মূসা আলাইহিস সালাম করলেন তাঁর সেই বিখ্যাত দু'আটি -
“হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার উপর যেকোনো কল্যাণই অবতীর্ণ করবেন, আমি তার অত্যন্ত মুখাপেক্ষী।”*১)
খানিক বাদেই দিগন্তে দেখা গেলো সেই দুই তরুণীর একজনকে। লাজ-নন্র কুণ্ঠিত
পায়ে এগিয়ে আসছিলেন তিনি। আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলাও পছন্দ করলেন
তাঁর এভাবে হেঁটে আসা। কুরআনের আয়াত নাযিল করে সম্মানিত করলেন তাঁকে, “অতঃপর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর কাছে আগমন FACE)
মুসার কাছে এসে বললেন- 'আপনি কি একবার আমাদের বাড়িতে আসবেন?
আমাদের পশুকে পানি পান করানোর জন্য বাবা আপনাকে কিছু পুরষ্কার দিতে চান”
“আপনি পথ বলে দিন, আমি সামনে যাচ্ছি, আপনি পেছনে আসুন। যদি আমি ভুল
পথেযাই তাহলে নুড়ি পাথর ছুঁড়ে আমাকে পথ বাতলে দিবেন”- মূসা উঠে দাঁড়ালেন। ১১!
মুসা আলাইহিস সালাম এগোতে থাকলেন। তাঁর পিছু নিলেন সেই তরুণী।
সেই দুই তরুণীর বাবা ছিলেন একজন বৃদ্ধ ধার্মিক fe | পিতৃসুলভ স্সেহের সুরে
মূসার কাছে জানতে চাইলেন- ব্যাটা বলো তো তোমার কাহিনী।
মুসা আলাইহিস সালাম একে একে সব বললেন। জানালেন কেন তাঁকে বেছে নিতে
হয়েছে এই ফেরারি অনিশ্চিত জীবন। দুই তরুণীর একজন পিতাকে বললেন- আপনি
দয়া করে তাঁকে কর্মচারী হিসেবে নিয়ে নিন। কর্মচারী হিসেবে শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত
ব্যক্তিই তো সবচেয়ে ভালো।
সেই বৃদ্ধ ব্যক্তি বললেন, আমার মেয়েদের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই,
আর আমার সাথে আট বছর কাজ করতে হবে এবং তুমি চাইলে দশ বছরও করতে
পারো। ১১
কিছুক্ষণ আগেও মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন নিঃস্ব, রিক্ত, একা। হঠাৎ করে মহান
আল্লাহ তাঁর থাকার নিরাপদ আশ্রয়, উপার্জনের পথ, পরিবার, সবকিছুর ব্যবস্থা করে
দিলেন।
কী অপূর্ব এক গল্প! এই গল্প থেকে আমাদের জন্য রয়েছে অনুপ্রেরণা পাবার বেশ কিছু
উপাদান। প্রথমে চলো মুসা আলাইহিস সালামের কাজের কিছু বিশ্লেষণ করা যাক-
ক) আমাদের খেলার মাঠের পাশ দিয়ে মাঝে মাঝেই প্রাইভেট-কোচিং ফেরত
বালিকারা বাসায় যেতো। এমন কোনো বালিকা পাশ দিয়ে গেলেই খেয়াল করতাম
পোলাপান খুব সিরিয়াস হয়ে খেলছে। যে ব্যাট ধরছে সে ছক্কা মেরে বালিকাদের সামনে হিরো সাজতে চাচ্ছে। যে বোলিং করছে সে চাইছে ব্যাটসম্যানের মিডল স্ট্যাম্প ভেঙে চিৎকার চেঁচামেচি করে বালিকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। বাইক নিয়ে উরাধুরা টান মারা, সাইকেলের স্টান্ট করা বা ডিএসএলআর দিয়ে মাঞ্জা মেরে ছবি তুলে ভার্চুয়াল জগতে মেয়ে পটানোর ব্যাপারটা ছেলেপেলে খুব নিষ্ঠার সাথে করে। মেয়ে জুনিয়রের আ্যাসাইনমেন্ট করে দিয়ে ভাই-ই-য়া ডাক শুনতে চাওয়া বা ফার্স্ট ইয়ারের জুনিয়রকে নাম্বার দিয়ে ও সমস্যা হলে এই ভাইকে স্মরণ করো, ডায়ালগ ঝেড়ে হিরোগিরি করে PT FACS চাওয়া পোলাপাইনেরও অভাব নেই। মুসা আলাইহিস সালামের পরিস্থিতি এবার একটু মিলাও। একেবারেই নিঃস্ব, কপর্দকহীন তিনি। বাড়িঘর, আপনজন ছেড়ে বহুদুরে। কবে ফিরতে পারবেন, আদৌ পারবেন কি না সেটাও জানেন না। রাজার ঘরের মানুষ। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কখনো পড়েননি। রাখালদের ভিড় ঠেলে দুই তরুণীর পশুকে তিনি পানি পান করালেন। উপকারের বিনিময়ে কিছু অর্থ বা খাবার তাদের কাছ থেকে চাইতে পারতেন। কিন্তু বিনিময়ে তিনি কিছুই চাননি। তরুণীদের সামনে নিজেকে বীর হিসেবেও জাহির করেননি। তিনি একটা কথাও বলেননি। সোজা এসে বসেছেন গাছতলায়। পুরো ঘটনা যদি দেখো- মূসা আলাইহিস সালাম দুই তরুণীর সাথে প্রয়োজনের বাইরে একটা শব্দও বেশি বলেন নি। এমনই ছিল তাঁর শালীনতাবোধ, লজ্জাবোধ, পবিত্রতার প্রতি ভালোবাসা। মুসা আলাইহিস সালামের মতো এমন বিপদে পড়লে আর এমন সুযোগ পেলে আমরা কী করতাম? মূসা আলাইহিস সালামের মতো কিছু করলে নিশ্চয় এ সমাজ আমাদের বোকা উপাধি দিতো, তাই না?
২) বৃদ্ধের বাড়ির পথ মূসা আলাইহিস সালাম চিনতেন না। তিনি বৃদ্ধের কন্যার পিছু পিছু যেতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি বললেন, আমি সামনে সামনে যাচ্ছি, আপনি পেছনে পেছনে আসুন। যদি আমি ভুল পথে যাই তাহলে নুড়ি পাথর ছুঁড়ে আমাকে পথ বাতলে দিবেন। দেখো, এখান থেকেও দুইটি বিষয় বের হয়ে আসে- ক) কারো পেছনে পেছনে চললে তার দিকে তাকাতে হয়। মূসা আলাইহিস সালাম সেই নারীর দিকে প্রয়োজন ছাড়া তাকাতে চাচ্ছিলেন না। তাই অপরিচিত রাস্তাতেও সেই তরুণীর সামনে সামনে চলেছেন। এভাবে তিনি তার দৃষ্টির হিফাযত করলেন। খ) পথ ভুল করলে পথ ঠিক করে দেবার জন্য যেন অতিরিক্ত কথা বলতে না হয়, তাই নুড়ি পাথর দিয়ে পথ চেনানোর কথা বললেন। এমনই ছিল মূসা আলাইহিস সালামের শালীনতাবোধ। ©) মূসা আলাইহিস সালাম সব কিছু থেকে, সব সৃষ্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন এমন একজনের কাছে যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আল্লাহকে ডেকেছেন। আবেদন জানিয়েছেন- ইয়া আল্লাহ, তুমি আমার
কাছে যে কল্যাণই পাঠাবে আমি তার পথ চেয়ে আছি। মূসা আলাইহিস সালামের এই শালীনতাবোধ, লজ্জাশীলতা, আমানতদারিতা আর সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহর দিকে আসা- এই কয়েকটি কাজের প্রতিদান হিসেবে তৎক্ষণাৎ আল্লাহ উনাকে যা দিলেন-
- নিরাপদ আশ্রয়।
- চোখ শীতলকারী A
- খাবার-দাবার, অর্থ। অথচ কিছুক্ষণ আগেও তিনি ছিলেন এক ফেরারি যুবক, আশ্রয়, খাবারদাবার, টাকাপয়সা কিছুই ছিল না তাঁর। আলাইহিস সালাম। নিজেদের উপর কর্তৃত্বশীল, অভিজাত নারীদের নিয়ে পুরুষের একটু বিশেষ ফ্যান্টাসি থাকে। বিশেষ করে সেই নারী যদি সুন্দরী হয়। ইউসুফ আলাইহিস সালামের মালিকের স্ত্রী ছিল অত্যন্ত সুন্দরী, অভিজাত, কর্তৃত্বশীল। আল্লাহর নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম ফ্যান্টাসি থেকে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালামের সৌন্দর্য দেখে কুচক্রান্ত করতে শুরু করে মালিকের স্ত্রী GER | ক্রমাগত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে প্ররোচিত করতে থাকে যিনার জন্য। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালাম বরাবর প্রত্যাখ্যান করতে থাকেন। একদিন জুলায়খার স্বামী আযিয বাড়িতে ছিল না। কুটিল ষড়যন্ত্র করলো জুলায়খা। কৌশলে ইউসুফকে ডেকে নিলো নিজের ঘরে। বন্ধ করে দিলো ঘরের দরজা। ইউসুফের সামনে অপূর্ব সাজে সঙ্জিত অভিজাত সুন্দরী নারী জুলায়খা। বদ্ধ ঘর, দুজনে একা। বারবার প্রলোভন দেখাচ্ছে জুলায়খা- চলে এসো, এতো অপরূপ সাজে সেজেছি আমি শুধু তোমার জন্য। এসো আমার কাছে... অনড় থাকলেন ইউসুফ আলাইহিস সালাম। মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইলেন। জুলায়খা জোর করে ইউসুফকে তার কাছে টানতে চেষ্টা করলো। পবিত্রতা রক্ষার জন্য দরজার দিকে দৌড়ে গেলেন ইউসুফ। জুলায়খাও গেল পিছু পিছু এবং দরজাতেই দুজনের সাথে দেখা হয়ে গেল জুলায়খার স্বামী আযিযের। সঙ্গে সঙ্গে পবিত্রতার মুখোশ পরে নিলো জুলায়খা। এক গুরুতর অভিযোগ করলো ইউসুফ আলাইহিস সালামের নামে- SRE অনুপস্থিতিতে জুলায়খার পবিত্রতা নষ্ট করার চেষ্টা করছিল ইউসুফ! ইউসুফ আলাইহিস সালাম তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানান- না, বরং সেই আমার পবিত্রতা নষ্ট করতে চাচ্ছিল। ইউসুফের জামা পরীক্ষা করা হোক- ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ভৃত্য বললো-যদি দেখা যায় ইউসুফের জামার সামনের অংশ ছেড়া তাহলে বোঝা যাবে যে ইউসুফ দোষী। আর যদি দেখা যায় যে ইউসুফের জামার পেছনের অংশ ছেড়া তাহলে ইউসুফ নিরপরাধ।
জামা পরীক্ষা করার পর সকলেই নিশ্চিত হয়ে গেলো - ইউসুফ আলাইহিস সালামই সত্য কথা বলছেন। দোষী প্রমাণিত হলো জুলায়খা। কিন্তু তারপরেও জুলায়খার কোনো শাস্তি হলো না৷ এদিকে খবর ছড়িয়ে গেলো শহরে- আধিযের স্ত্রী জুলায়খা তার দাসের সাথে জোর করে যিনা করতে চেয়েছে। শহরের নারীরা ছি ছি করতে থাকলো। জুলায়খা একদিন দাওয়াত করলো ওদের। সবার সামনে একটা আপেল আর একটা ছুরি রাখলো। বললো তোমরা ছুরি দিয়ে আপেল কাটো। নারীরা আপেল কাটা শুরু করলে জুলায়খা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে তাদের সামনে দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে গেলো। ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর রূপে নারীরা এতোটাই মজে গেলো যে তারা আপেল কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেললো, কিন্তু টেরও পেলো না। অবাক বিস্মিত নারীদের মুখ থেকে বের হয়ে আসলো- এ তো মানুষ নয়, মনে হচ্ছে কোনো ফেরেশতা! জুলায়খা বললো- “হ্যাঁ দেখো, এর জন্যেই তোমরা আমাকে কটু কথা ACER! | আমি ওর সাথে যিনা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ও রাজি হয়নি, পবিত্র থাকতে চেয়েছে। ওকে আমার প্রস্তাবে রাজি হতেই হবে। না হলে ওকে কারাগারে যেতে হবে। ইউসুফ আলাইহিস সালাম জুলায়খার কথা শুনে আল্লাহকে বললেন,
“হে আমার রব! এই নারীরা আমাকে যেদিকে ডাকছে, এর চেয়ে কারাগার আমার কাছে বেশি fer) ie অবশেষে জুলায়খার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইউসুফ আলাইহিস সালামকে কারাগারেই ছুঁড়ে ফেলা হলো। অভিযোগ আনা হলো- সে তার মালিকের স্ত্রীর পবিত্রতা নষ্ট করতে চেয়েছে। পুরো শহর জানে ইউসুফ নির্দোষ, আধিযের স্ত্রী জানে, আযিয জানে, সবাই জানে ... তাও কারাগারের অন্ধকূপে ছুঁড়ে ফেলা হলো ইউসুফকে। ১৭ ভাইদের চক্রান্তে পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে দাসের জীবনযাপন করা, তারপর বিনা দোষে কারাবরণ। ২১! এবার আমরা একটু বিরতি নেবো। নিজেকে একটু কল্পনা করবো ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর জায়গায়। একজন অভিজাত সুন্দরী নারীর সাথে একই বাড়িতে থাকো তুমি। দীর্ঘদিন ধরে দিনরাত অনবরত তোমাকে প্রলুব্ধ করে সে। একদিন ঘরে ডেকে
দরজা বন্ধ করে দেয় সে। তোমার সামনে অভিজাত, অপরূপা এক নারী, আশেপাশে আর কেউ নেই। বদ্ধ ঘরে সেই লাস্যময়ী SEAT নারী আহ্বান করছে তার সাথে এক হয়ে যাবার। এমন অবস্থায় তুমি কী করতে? এমন সুযোগ পেলে আমাদের অবস্থা কী হতো? এমন সুযোগ হাতছাড়া করার কথা আমাদের কলিজার বন্ধুরা জানতে পারলে আমাদের কি মান সম্মান কিছু অবশিষ্ট থাকতো? আমাদের পুরুষত্ব নিয়ে কথা উঠতো না? এমন মজা নেবার সুযোগ কি আসলেই কেউ হাতছাড়া করতো? লাস্যময়ীর সাথে বিছানায় না গেলে কারাগারে যেতে হবে এমন হুমকি পাবার পরেও আমরা কি রাজি না হয়ে থাকতাম? বা এই কারণে কারাগারে গেলে সমাজ আমাদের কি বোকা বলতো না? ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর এই পবিত্রতাবোধের পুরষ্কার আল্লাহ ফিরিয়ে দিলেন বহুগুণে। ১ কয়েক বছর পর দেশের রাজাই IPT তাঁকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসলো। সবাই স্বীকার করে নিলো ইউসুফ আলাইহিস সালাম নির্দোষ ছিলেন। অর্থমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো তাঁকে। তাঁর যে ভাইয়েরা তাকে ষড়যন্ত্র করে কুয়ায় ফেলে দিয়েছিল তারা ভূল স্বীকার করে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলো। ইউসুফ আলাইহিস সালাম ফিরে পেলেন তাঁর হারানো পরিবার। অনেক আগে ইহুদী সম্প্রদায়ের মধ্যে কিফ্ূল নামের এক লোক ছিল। ১০ এলাকায় নতুন কেউ আসলে স্থানীয়রা FEE পরিচয় দিতো এক শব্দে- প্লেবয়! একদিন একজন নারী আসে তার কাছে। কিফ্ল এই সেই বলে ষাট দিনারের বিনিময়ে তার সাথে যিনা করার সুযোগ পায়। অগ্রিম টাকাও দিয়ে দেয়। যিনার চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশের আগে মহিলাটি হঠাৎ কেঁদে উঠে। প্রচণ্ড অবাক হয়ে যায় কিফ্ল। সেই সাথে কৌতূহল। কী হলো? তোমাকে তো আমি টাকা দিয়েছিই। কোনো জোর জবরদস্তি করে কিছু করছি না। তুমিই তো রাজি হয়েছিলে! এভাবে কাঁদছে কেন? কৌতূহলী কিফ্ল প্রশ্ন করে। না, তা না...আসলে এটা একটা পাপ কাজ। আমি আগে কখনোই করিনি। আজ
নিরুপায় হয়ে এসেছি- কাঁদো কাঁদো গলায় জবাব দেয় মেয়েটি। জবাব শুনে কী যেন হয়ে গেল কিফ্লের। এঁ মেয়ের কাছ থেকে সরে আসলো। কিছুক্ষণ থম মেরে থেকে বললো, “ঠিক আছে। তুমি চলে যাও। এই দিনারগুলোও নিয়ে যাও। তোমাকে দিয়ে MeN |” অবাক মহিলা, দিনার নিয়ে চলে গেল। কিফ্ল আল্লাহর নামে শপথ করলো- আল্লাহর কসম! কিফূল আর কখনো আল্লাহর অবাধ্যতা করবে না। সে রাতেই মারা গেল কিফ্ল। সকাল হতেই দেখা গেল তার দরজায় লেখা আছে- অবশ্যই আল্লাহ কিফূলকে মাফ করে দিয়েছেন। আচ্ছা, এবার তোমাকে কিছু প্রশ্ন করি। আল্লাহর নবী মূসা আলাইহিস সালাম পশুকে পানি খেতে নিয়ে আসা তরুণীদের সাথে ফ্লার্ট করেননি। তিনি কি বোকামি করেছেন? ইউসুফ আলাইহিস সালাম জুলায়খার মতো সুন্দরী অভিজাত নারীর শত প্রলোভন CGS তার সাথে পরকীয়া করেননি, সুবর্ণ সুযোগ পাবার পরও নিজেকে সংযত রেখেছেন। এমনকি জুলায়খার প্রস্তাবে সাড়া দেবার চাইতে কারাগারে যাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি কি বোকামি করেছেন? কিফ্ল.... তিনিও কি বোকা ছিলেন? না হলে এভাবে সুযোগ পাবার পরেও কিছু না করে ফিরে আসে? সেক্যুলার রোল মডেল, বুদ্ধিজীবী, সুশীল আর আজকের ইয়ুথ আইকনদের কথা অনুসারে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর একটাই হয় না- “হ্যাঁ, তারা সবাই বোকা ছিল।” এমন চিন্তা থেকে আমরা মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। এই মানুষগুলোর কাজের প্রশংসা করেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। যুগ যুগ ধরে মানুষদের অনুপ্রাণিত করার জন্য, প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে এই মানুষগুলোর গল্প তিনি মানুষের মধ্যে সংরক্ষিত রেখেছেন। যারা যিনা-ব্যভিচার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখে, তাঁদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাঁদের দু হাত ভরে দান করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন, “যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হবার ভয় রাখে তার জন্য রয়েছে দুইটি Gir |x] এই আয়াতের তাফসীরে মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন,
“এই জান্নাত দুটি সেই ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে যে গুনাহ করার সংকল্প করার পর আল্লাহর ভয়ে গুনাহ হতে বিরত থেকেছে।” ১1 পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে বিচার চলবে হাশরের ময়দানে। সূর্য থাকবে মানুষের একদম কাছে। মাথার আড়াই হাত উপরে। সূর্য আজ আমাদের থেকে কতো কোটি কিলোমিটার দূরে, তারপরও তার তাপে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাই। হাশরের সেই ভয়ঙ্কর দিনের কথা চিন্তা করো। সেদিন কী দুরবস্থায় পড়তে হবে মানুষদের! ঘামের সাগরে মানুষ হাবুডুবু খাবে, তৃষ্ণয় বুকের ছাতি ফেটে যাবে, ছায়া মিলবে না। আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না সেইদিন। সেই আরশের ছায়ায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা দয়া করে যাদের আশ্রয় দিবেন তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো সেই যুবকরা যাদের যৌবন কেটেছে আল্লাহর ইবাদাতে, আরেকটি শ্রেণি হলো সেই পুরুষ যে পরমাসুন্দরী অভিজাত মহিলার যিনার আহ্বান ফিরিয়ে দিয়ে বলে, '“আমি আল্লাহকে ভয় করি” রাসূলুল্লাহ (4) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে নিষিদ্ধ সুযোগ পাওয়া সত্ত্রেও আল্লাহর ভয়ে তাকে ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাকে মহা ভয়ঙ্কর দিনে নিরাপত্তা দান করবেন, তাঁকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন এবং তাঁকে জান্নাতে দাখিল করবেন।' রাসূলুল্লাহ (৯) আরো বলেছেন, “হে কুরাইশ বংশের যুবকেরা, তোমরা তোমাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করো। ব্যভিচার করো না। যে তার প্রবৃত্তির তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণ রাখবে, তার জন্য রয়েছে জান্নাত।' ১১ আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ্ এর চাইতেও শতগুণ বেশি পুরস্কার দান করেন। আল্লাহর জন্য স্যাক্রিফাইস করো। আখিরাতের সুবিশাল পুরস্কারের পাশাপাশি দেখবে তোমার দুনিয়ার এই জীবনটাতেও নেমে আসবে জান্নাতের প্রশান্তি এমন এক শান্তির দেখা পাবে, যা ভাষায় বোঝানো অসম্ভব। তোমার জীবনটা সহজ হয়ে যাবে। তুমি বুঝতে পারবে অলক্ষ্যে থেকে কেউ একজন তোমার জীবনপথে বিছানো কাঁটাগুলো তুলে সেখানে লাগিয়ে দিচ্ছে ফুলগাছ। গার্লফ্রেন্ড নেই, প্রেম করতে পারছো না?
মন খারাপ করো না, আল্লাহ্ তোমাকে পবিত্র রাখতে চাচ্ছেন। ব্রেকআপ হয়েছে? আল্লাহ্ তোমাকে অন্ধকার থেকে আলোতে আসার সুযোগ করে দিচ্ছেন, সসীম এই জগতের একটা মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচিয়ে আল্লাহ্ তোমাকে অসীম জীবনের জান্নাত দিতে চাচ্ছেন। এমন এক জান্নাত দিতে চাচ্ছেন যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান। এরপরও কি তুমি মন খারাপ করে থাকবে? আল্লাহর কথা তোমার বিশ্বাস হয় না? “সেই মুমিনরাই সফল, যারা তাঁদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ FE)! “যাকে আগুন হতে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই সফলকাম। বস্তুত পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়।”'১%! “নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম, নিশ্চয় তারাই হলো সফলকাম।“ ২ রাসূলুল্লাহ (৯) তো তোমাকে জান্নাতের গ্যারান্টি দিয়েছেন। বলেছেন- “যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্ত (জিহবা) এবং দুপায়ের মধ্যখানের (লজ্জাস্থান) হিফাযতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জান্নাতের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেব” যেই আল্লাহ মুসাকে দিলেন, ইউসুফকে দিলেন, কিফ্লকে দিলেন সেই আল্লাহ পবিত্র থাকার পুরস্কার আমাদের দেবেন না- এমন কী কোথাও লেখা আছে? আল্লাহ তো সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েই রেখেছেন, “যে আল্লাহকে ভয় করে আর ধৈর্য ধরে, আল্লাহ্ এমন ভালো মানুষদের প্রতিদান নষ্ট করেন না” এরপরও কেন আমরা সন্দেহ করি? কেন আল্লাহর ওপর ভরসা করতে পারি না? হারাম রিলেশন থেকে দূরে থাকলে আমাদের জীবনের সব রং, সব আনন্দ পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং এর মতো একযোগে নিভে যাবে- কেন এমন হাস্যকর বিশ্বাস আমরা আঁকড়ে ধরে বসে থাকি? আল্লাহ্ কি ওয়াদার খেলাফকারী? আল্লাহ্ কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন?
নিজেদের প্রশ্ন করো। প্রশ্নগুলো এড়ানোর চেষ্টা করো না। ছাড়াছাড়াভাবে তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিয়ে মনকে ভুলিয়ে রেখো না। সময় নিয়ে ভাবো। পর্দার লাল নীল জগতের স্বপ্ন বেচার চোরাকারবারি, বিজ্ঞানমনস্ক STR আর কিউট কিউট ভাইয়ারা কথার মায়াজাল বিছিয়ে রেখেছে:
সময় তো তোমার এখনই, এ সময় প্রেমহীন কাটালে কলঙ্ক হয়ে যাবে মানবজন্মের নামে। অনেক কিছু হারাচ্ছে তুমি, জীবনের অনেক মজা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, উপভোগ করতে পারছো না, পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে তারুণ্যের সব আবেগ ...ব্যর্থতায় নষ্ট কষ্টে অবলীলায় কেন শেষ করছে৷ এই স্বপ্নের জীবন এক অবেলায়?
সেক্যুলার ধর্মের পীরবাবাদের দ্বারা ব্রেইনওয়াশড হয়ে তোমরা হয়তো ভেবেছিলে বিয়োগান্তক কোনো উপন্যাসের নায়কের মতো পা টেনে টেনে হেঁটে বিদায় নেবে এই আলো ঝলমলে পৃথিবী থেকে। তোমাদের জীবনের কোনো লাভ লস নেই। পুরোটাই লস। সব সমপিত ব্যর্থতার কাছে, হতাশার কাছে।
তোমরা ভুল ভেবেছিলে। তোমরা ভুল ছিলে।
হয়তো তথাকথিত প্রগতিশীলদের চোখে তুমি বোকা, ধর্মান্ধ মোল্লায় পরিণত হয়েছে হয়তো ওদের তৈরি সংজ্ঞায় হেরে গেছো তুমি সেই রূপসীর চোখে, ধোঁকা দিয়েছে তোমাকে সেই রাজপুত্র। কিন্তু তারা জানে না, হেরে গিয়েও জিতে গেছো তুমি!
“হেরে গিয়ে*ও জেতা যায়!
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[২৪৭] আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে তার জন্য থাকবে সংকীর্ণ জীবন।” সুরা ত্বহা ২০:১২৪। [২৪৮] এগুলো নিয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। [২৯] সূরা ক্বাসাস, ২৮:২৪ [২৫০] সূরা ক্বাসাস, ২৮:২৫ [২৫১] ঘটনার এই অংশটুকু কুরআন বা হাদিসের বর্ণনা নয়। এটা ইসরাইলী বর্ণনা। এই ধরণের বর্ণনার সত্যতা জানা যায় না। তাই নিশ্চিত সত্য মনে না করে কেবল শিক্ষণীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ বা বা পড়া যেতে পারে। - শরয়ী সম্পাদক। [২৫২] অনেকে বলেছেন এই বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন নবী শুআইব আলাইহিস সালাম। [২৫৩] সূরা ক্বাসাস,২৮:২৭-২৮ [২৫৪] সূরা ইউসুফ, ১২: ৩৩ [২৫৫] সূরা ইউসুফ, আয়াত ২৩ থেকে ৩৫ দ্রষ্টব্য। [২৫৬] তাফসীর ইবনু কাসীর, সূরা ইউসুফ The Story of Prophet Yusuf and the Wife of al-Aziz, Dr. Mohsen Haredy, aboutislam.net, July 01, 2020- tinyurl.com/5vnjf44d [২৫৭] অথচ আমাদের সমাজে খুবই জঘন্য একটা কথা প্রচলিত আছে। ইউসুফ (আ) ও প্রেম করেছেন (নাউযুবিল্লাহ), গানও আছে “প্রেম করেছে ইউসুফ নবী, তার প্রেমে জুলেখা বিবি গো...'- নিঃসন্দেহে এগুলো মিথ্যা। [২৫৮] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ (৯) এর কাছ থেকে সাতবারের বেশি শুনেছি। তিরমিযী: ২৪৯৬, মুসনাদ আহমাদ: 8৪৭৪৭। তবে বর্ণনাটির বিশুদ্ধতা নিয়ে মতবিরোধ আছে। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম ইবনু কাসীর বলেছেন, “অতি গারীব (বিরল) একটি হাদিস। এর সনদের ব্যাপারে আপত্তি আছে” (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১/২২৬)। আলবানী হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন (যয়ীফাহ: ৪০৮৩)। [২৫৯] সূরা রহমান, ৫৫:৪৬ [২৬০] তাফসীর তাবারী- উক্ত আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য। (২৩/৫৬) [২৬১] বুখারী:৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯, ৬৮০৬, মুসলিম: ১০৩১ (ইফা. ২২৫২) Those whom Allaah will shade with His shade, Islamqa- tinyurl.com/3kx42xn2 [২৬২] মুসতাদরাক আল-হাকেম: ৮০৬২, শুআবুল ঈমান: ৪৯৮৪। বুসীরী, হাইসামী, আলবানী প্রমুখ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন (মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭৩১২, ইতহাফুল খিয়ারাহ: ৩০৬৬, 8৪/৬, সহীহাহ: ২৬৯৬) [২৬৩] সূরা আল-মু'মিনুন, ২৩: ১ ও ৫ [২৬৪] সূরা আলে-ইমরান, ৩:১৮৫ [২৬৫] সূর আল-মু'মিনুন, ২৩:১১১ [২৬৬] বুখারী, ৬৪৭৪ [২৬৭] সূরা ইউসুফ, ১২:৯০
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।