এক.
ঢেউখেলানো এক মাথা চুল ছিল আমার বাবার। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা সুঠাম। খজু ভঙ্গিতে হাঁটতেন। সুদর্শন। পুরোনো ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় একসময় আমার পাড়াতো অনেক FIR’ মনে ঝড় তুলতেন বাবা। ব্যডমিন্টনের তুখোড় খেলোয়াড়। ভলিবল টিমের ক্যাপ্টেন। মাটিতে শুয়ে পড়ে বল ক্লিয়ার করার দুর্দান্ত দৃশ্য আমি বহু দেখেছি আমার প্রথম তারুণ্যেও। এখন বাবা কুঁজো হয়ে হাঁটেন। সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়। কোঁকড়া কালো চুল এক ইতিহাস! আমার মা-ও কম ছিলেন না। দুধে আলতা গায়ের রং, কাটা কাটা কালো চোখ। অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে ছোটাছুটি করতেন সারা ঘরময়। মা এখন বামহাত নাড়াতে পারেন না ঠিকমতো। চোখে কম দেখেন। মুখে বলিরেখা পড়ে গিয়েছে। এইতো সেদিনের কথা। কতো উদ্যম, কতো প্রাণশক্তি নিয়ে তাঁরা ছুটে বেড়াতেন, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়ে যেতেন! আজ সেই দিনগুলো অতীত। বাবা-মাকে বুড়ো হতে দেখা, তাদের বর্তমান অসহায়ত্ব দেখার চাইতে কষ্টকর কিছু কি আছে? একসময় যে বাবার আঙুল ধরে তুমি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে, সেই বাবা আজ খুব ধীরে ধীরে কষ্ট করে হাঁটেন, এটা কীভাবে সহ্য করা যায়? অসুস্থ হলে যেই মা সারারাত তোমার সেবা করে কাটিয়ে দিতেন, সেই মা বিছানায় শুয়ে আছেন অসুস্থ হয়ে, তুমি তাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছো-এর চেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য আর কি হতে পারে? যেই বাবার ঘাড়ে চড়ে তুমি স্কুলে যেতে, মেলায় যেতে সেই বাবার লাশের খাটিয়া তোমার ঘাড়ে, এর চেয়ে কষ্টের কিছু কি আছে এই দুনিয়ায়? জীবন বড় অদ্ভূত! বড় নিষ্ঠুর! আমাদের শৈশব কৈশোরকে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন যেসব মানুষেরা, শিশু মনে, জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিখাদ বিস্ময় আর নির্ভেজাল মুগ্ধতা, তারাই আজ ইতিহাস!
বুড়ি হয়ে গেছেন এলাকার জাতীয় ক্রাশ সুমি আপা। মাথায় টাক পড়ে গেছে এলাকার টিনা-মিনা-পিংকিদের হার্টথব সজীব ভাইয়ের। সেদিন অনেকদিন পর সামিউল ভাইয়ের সাথে দেখা। সাঁতার কাটা শিখেছিলাম উনার হাত ধরে। ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন। ভাইয়া আমাকে ধরে ধরে ক্রিকেট শিখিয়েছিলেন। ফিল্ডিং মিস করার অপরাধে কতোবার মাথায় গাট্টি মেরেছেন! সেই চঞ্চল সামিউল ভাই কতো বদলে গেছেন। খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি। মাথার চুলও পেকে গেছে। ধীর, স্থির, শান্ত এখন। ঘাড়ে হাত রেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেমন চলছে তোর দিনকাল? ভালো আছিস তো”? জীবন বড় অদ্ভূত। বড় নিষ্ঠুর। বড় প্রতারক! মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম সবাই আজ কবরে। আমাকে কী আদরটাই না করতেন উনারা! মসজিদের উঠোনে আম গাছ ছিল অনেক। সবার জন্য নিষিদ্ধ হলেও আমার জন্য ছিল উন্মুক্ত। আর ছিল ফ্রি বৈকালিক নাস্তা-চায়ের কাপে ডুবিয়ে পাউরুটি খাওয়া। কবরে শুয়ে আছেন FG খাবার পয়সা দেওয়া তালুকদার বড়াববু, পঙ্গু হয়ে গেছেন মজার মজার গল্প বলা কবির চাচা। একটা দ্রুতগতির বাস পিষে দিয়েছে ফারুক কাকুকে-আমার ছোটবড় সব আবদার যিনি মেটাতেন। পিচঢালা রাজপথের এখানে সেখানে লেপ্টে ছিল ফারুক কাকুর মগজ। বড় বীভৎস সেই দৃশ্য! জীবন বড় অদ্ভূত। বড় নিষ্ঠুর! কয়দিন আগের কথা! এইতো সেদিন! সেদিন বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে গেলাম। গতকালের কথা মনে হয়। কিন্তু ঠিকঠাক হিসেব কষলে দেখা যায় বিশ বছরও পেরিয়ে গেছে অনেক আগে। বিশ বছর! চোখের পলকে বিশ বছর পার হয়ে গেল! একদম টের পেলাম না! জীবন কতো অভিনয় জানে! কতো মুখোশ পরে থাকে এই জীবন! চোখের পলকেই এভাবে পার হয়ে যায় মাটির পৃথিবীর এই এক জীবন। কতো মায়া, কতো স্মৃতি, কত স্বপ্ন, কতো ভালোবাসা, কতো পিছুটান সব একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়। মালাকুল মাউতের সাথে সাক্ষাৎ হবার প্রথম মুহূর্তেই মানুষ বুঝে ফেলে এ জগৎ ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই না। জেনে যায় আখিরাতের সেই অনন্ত জীবনের কথা কোনো স্বপ্ন নয়, কল্পনা নয়, অবাস্তব কিছু নয়। অনাবিল সুখ আর নির্মম শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া সেই আল-কুরআন মিথ্যে নয়। মিথ্যা বলেন না আল্লাহর রাসূল (4), মিথ্যে বলেননি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। সবাই বোঝে, আমিও বুঝবো, তুমিও বুঝবে। কষ্টের দিন আসুক আর সুখের দিন আসুক, দিন একসময় চলে যাবেই। পৃথিবীর যতো সুখ আর ভালোবাসা আছে সব তুমি বেসে ফেললে, ধরো প্রতি দিন গার্লফ্রেন্ড বদলালে, ধরো দুনিয়ার সবচেয়ে রূপবতীরা
তোমার গার্লফ্রেন্ড, ধরো তুমি প্রত্যেকদিন একজন একজন করে পৃথিবীর সবচেয়ে হট, লাস্যময়ী নারীদের সাথে বিছানায় গেলে, ধরো এই পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়ানো যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হলে। তুমি এভাবেই জীবন কাটিয়ে দিলে। কিন্তু তারপর? তারপর কী হবে? সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে যাবে, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। একদিন বয়স ঘড়িটা জানান দিবে-তোমার সময় শেষ। তুমি টেরও পাবে না। একদিন মরতে হবে তোমাকে। হ্যাঁ, তোমাকেই মরতে হবে। একা একা অন্ধকার কবরে যেতে হবে। কেউ থাকবে না সেখানে। তোমার গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড, জাস্ট ফ্রেন্ড, অনলি ফ্রেন্ড, তোমার গ্যাং, তোমার ATA, তোমার বাবা-মা-কেউই না। এমন এক জীবন শুরু করতে হবে যার শুরু আছে কিন্তু কোনো শেষ নেই। সেখানে তুমি কখনোই মৃত্যুবরণ করবে না। ১০০ বছর? ৫০০ বছর? ১০ লাখ বছর? ১০ কোটি বছর? ১০০০,০০,০০,০০০ কোটি বছর? কখনোই না। সেই জীবনের শুরু আছে। কিন্তু শেষ নেই। দুই, তোমাকে ছোট্ট একটা পরীক্ষা করতে বলি। মোমবাতি জ্বালাও বা আগুনের শিখার উপর কিছুক্ষণ আঙুল ধরে রাখো। কেমন লাগছে? এই সামান্য আগুনের শিখার উত্তাপ তুমি সহ্য করতে পারছো? হাতে কখনো পিন ঢুকেছে তোমার, বা সূচ? দীর্ঘ একটা স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ (4) | আর নবীদের স্বপ্ন সত্য। নবীদের স্বপ্ন ওয়াহীর অংশ। স্বপ্নের ব্যাপারে তিনি (৯) বলেন, “একপর্যায়ে আমরা (বড়) একটা চুল্লির মত বস্তুর কাছে এসে পৌঁছলাম। সে চুল্লির উপরিভাগ সংকীর্ণ ও নিম্নভাগ প্রশস্ত। ভেতরে বিরাট চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। আমরা চুক্লিটার ভেতরে দেখতে পেলাম উলঙ্গ নারী ও পুরুষদেরকে। তাদের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর পর এক একটা আগুনের হলকা আসছিল, আর তার সাথে সাথে আগুনের তীব্র দহনে তারা প্রচণ্ডভাবে চিৎকার করছিল। আমি বললাম, “হে জিবরীল, এরা কারা?” তিনি বলেন, এরা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ।“১*৷ রাসূলুল্লাহ (৯) আরো বলেছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ওই নারীকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভালো, যে নারী তার জন্য হালাল নয়।”১%
পৃথিবীর এই ছোট ছোট ব্যথা তুমি সহ্য করতে পারছে! না। তাহলে মৃত্যুর ওপারের ভয়ঙ্কর ব্যথা কীভাবে সহ্য করবে তুমি? যেখানে জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা হবে দুনিয়ার আগুনের ৭০ গুণ বেশি? নাকি তুমি মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা মনে করো? নবীজি (৯) -কে অস্বীকার করো? নাকি তুমি মনে করো পরকাল বলে কিছু নেই, আর এসব কোনো কিছুর কোনো শাস্তি হবে না? নিজেকে প্রশ্ন করো, কেন তুমি এমন করছো? তুমি নিজেকে বিশ্বাসী বলে দাবি করো। একবার ভেবে দেখো তো আসলেই তুমি বিশ্বাস করো কি না আল্লাহর বাণীকে? তাঁর রাসূল (*)-এর কথাকে? কোথাও ঠাণ্ডা হয়ে বসে নিজের মনের ভেতর একটু ঘুরে এসো তো। তুমি কি আসলেই পরকাল বিশ্বাস করো? নাকি ওগুলো তোমার কাছে একটা রহস্যময় অবাস্তবতা মনে হয়? মনে হয় বহু আলোক বর্ষ দূরের কিছু। হয়তো ঘটবে, হয়তো ঘটবে না! এসব পরে ভেবে দেখা যাবে। এই যৌবন প্রেমহীন গেলে মানবজন্মের নামে কলংক হবে। তাই চুটিয়ে প্রেম করি... আমি অনেককেই বলতে দেখি, সে তার প্রেমিকা-প্রেমিককে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। কেউ কি ভালোবাসার মানুষকে ধাক্কা মেরে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আচ্ছা, এটা কেমন ভালোবাসা যেই ভালোবাসা প্রিয় মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়? যাকে তুমি এতটাই ভালোবাসো কি করে তাকে দিয়ে দিনের পর দিন গুনাহ করিয়ে নিচ্ছে? এটা কেমন ভালোবাসা! নিজেকে প্রশ্ন করো, এই ভালোবাসার পরিণাম কী হবে? প্লিজ উত্তরটা তুমি দিয়ে যেও.. নাকি ভাবছো, এখন মজা লুটে নেই, পরে তাওবাহ করে নেবো! বোকা ভাই আমার, বোকা বোন আমার, তোমার বয়সী এমন অসংখ্য মানুষ আজ কবরে শুয়ে আছে যারা তোমার মতোই ভেবেছিল পরে তাওবাহ করে নেবো। কিন্তু তাওবাহ করার সুযোগ পায়নি। হয়তো যিনারত অবস্থাতেই তাদের সামনে খুলে গিয়েছে মৃত্যুর পর্দা। আর তুমি কি মনে করো তুমি এভাবে প্ল্যান করে পাপ করে তারপর তাওবাহ করার বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহকে ধোঁকা দিতে পারবে? সেই আল্লাহকে যিনি সবকিছু জানেন? যাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ? তোমার মনের ঘরের সবচেয়ে গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা কথাও যাঁর অজানা নেই? যাঁর ইলমের বাইরে কোনো কিছুই নেই? আসলেই কি তুমি মনে করো, আসমান ও যমীনের মালিককে তুমি এভাবে ধোঁকা দিতে পারবে? নাকি এসব বলে নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছে! তুমি? তোমাকে যদি প্রশ্ন করি, নিজের রব আল্লাহকে ভালোবাসো? যদি বলি রাসূলুল্লাহ (*%)-কে ভালোবাসো? চোখ বন্ধ করেই তুমি FP বলে দেবে, কোনো কিছু চিন্তা করার আগেই... অথচ তুমি রবের হুকুম আর হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করেই
হারাম রিলেশন করে যাচ্ছো! আল্লাহ বলেছেন, “যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না।”'১৭ তিনি বলেছেন দৃষ্টির হিফায়ত Fre রাসূলুল্লাহ (৯) বলেছেন, “দুই চোখের যিনা হচ্ছে- দেখা, দুই কানের যিনা হচ্ছে- শোনা, জিহ্বার যিনা হচ্ছে- কথা, হাতের যিনা হচ্ছে- ধরা, পায়ের যিনা হচ্ছে- হাঁটা, অন্তর কামনাবাসনা করে; আর লজ্জাস্থান সেটাকে বাস্তবায়ন করে অথবা করে না।” ২১ তাহলে তুমি কীভাবে হারাম রিলেশন করে যাচ্ছো? দিনের পর দিন রবের নাফরমানি করে যাচ্ছো... দিনশেষে আবার বলছো, আমি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভালোবাসি, আমি নবিজী (4) -F ভালোবাসি! একটুও কি অনুশোচনা হয় না? ফেইসবুক আর ইন্সটাতে কাপল পিক দিতে তোমার একটুও লজ্জা লাগে না? দুঃখ হয় না, নিজের গুনাহর জন্য? যেইবাবা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কতো কষ্ট করে টাকা দেন, সেই টাকা গার্লফ্রেন্ডের পেছনে ঢালতে তোমার খারাপ লাগে না? যেই মা তোমাকে দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করেছেন, নিজে না খেয়ে তোমার মুখে খাবার তুলে দিয়ছেন, বয়ফ্রেন্ডের সাথে লিটনের ফ্ল্যাটে যাবার জন্য সেই মায়ের চোখে তাকিয়ে-এক্সট্রা রলাস আছে, আজকে আসতে দেরি হবে-এতো বড় মিথ্যা কথা বলতে তোমার কি একবারও বুক কাঁপে না? বাবা-মা'র প্রতি তোমার এ কেমন ভালোবাসা? ভাই জেনে রাখো, নিশ্চিত জেনে রাখো, তোমার এই যৌবন, তোমার এই লঞ্চের কেবিনে যাওয়ার সাময়িক সুখ, ট্যুর আর রিকশায় হাতাহাতি করার মজা সব শেষ হয়ে যাবে। খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাপের বোঝা থেকে যাবে। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত তুমি করবে বছরের পর বছর আগুনে পুড়ে। অনেকে ভাবে... থাকলাম না হয় জাহান্নামে কিছুদিন। সমস্যা কি! একটু কষ্ট সহ্য করলাম। এরপর তো জান্নাতে যাবোই একদিন। আমি তো মুসলিম... একদিন না একদিন জান্নাতে যাবোই! শোনো, জাহান্নামে কবরের প্রথম রাতেই তুমি ভুলে যাবে প্রিয়তমার সব উষ্ণ আলিঙ্গন! তোমার মৃত্যুর পরের দিন সূর্য ওগার আগেই এই জীবনের সব সুখকে তুমি চিনতে পারবে তুচ্ছ কিছু অভিজ্ঞতা হিসেবে। বিচারের দিন বিচার শুরুর অপেক্ষা করতে করতে পুরো দুনিয়ার জীবনকে তোমার কাছে মনে হবে অর্থহীন, স্রেফ অর্থহীন! আর জাহান্নাম?
জাহান্নামের প্রথম স্পর্শ ঝলসে দেবে পৃথিবীর সকল সুখের প্রহর!'১১৷ জাহান্নাম, জাহান্নামের আগুন এতোটাই ভয়াবহ হবে যে, জাহান্নাম দেখা মাত্রই মানুষ আল্লাহর কাছে ভিক্ষা করতে শুরু করবে- ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার ভাই/বোন, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি সবাইকে জাহান্নামের মধ্যে ফেলে দাও, কিন্তু আমাকে ফেলো Fit] জাহান্নামের নিঃশ্বাস পাওয়া মাত্র মানুষ আর এক সেকেন্ডের জন্যেও জাহান্নামে যেতে রাজি হবে না। এটা জাহান্নাম-কোনো ছেলেখেলা নয়। কোন মুখে তুমি আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে? একটু চিন্তা করো। তোমার যিনা করার দৃশ্য যদি কেউ ভিডিও করে ভাইরাল করে দেয়, তুমি মুখ দেখাতে পারবে? তোমার মা-বাবার চোখের দিকে তাকাতে পারবে? হাশরের ময়দানে পৃথিবীর আদি থেকে শুরু করে অন্ত পর্যন্ত সব মানুষ থাকবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (৯), থাকবেন সকল নবী রাসূল। আলাইহিমুস সালাম। থাকবেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা স্বয়ং। সেখানে সকলের সামনে যদি তোমার লীলাখেলা দেখানো হয় তখন তুমি কি লজ্জায় মিশে যেতে চাইবে না? এটা কি পাগলামি না? এমন কাজ করা যার জন্য সেই জীবনে চিরকাল আগুনে পুড়তে হয়, বিষাক্ত সাপের দংশনে দংশিত হতে হয়, ফেরেশতার মুণ্ডরের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে! হাজার হাজার বছর ধরে যেখানে তুমি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুকে ডাকবে। কিন্তু কখনোই তোমার মৃত্যু হবে না! এসব শাস্তির কথা, ভয়ের কথা বলতে ইচ্ছা করছে না ভাইয়া, আপু। জানি তোমার মন খারাপ হচ্ছে। হয়তো আমার উপর অনেক রাগ হচ্ছে। তুমি এখন বড় হয়েছো, বুঝতে শিখেছোে। নিজের মতোই চলতে পারো। ভাবছো, আমি তোমাকে খুব জ্ঞান দিচ্ছি, মোল্লাগিরি করছি। অপমান করছি। দেখো, আমার এরকম কোনো কিছু করার ইচ্ছা নেই। আসলে তোমাকে জাহান্নামীদের মতো কাজ করতে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। বিশ্বাস করো! এ পথে সুখ নেই, শাস্তি নেই, প্রেম নেই, প্রীতি নেই। নেই মহৎ কোনো সত্য। আছে শুধু যন্ত্রণা। HAGE ভেসে যাওয়া যন্ত্রণা। তোমার এই বয়সে হয়তো তুমি বুঝতে পারছো না। তোমার চোখে এখন রঙিন চশমা। কিন্তু একটা বয়স পর তুমিও বুঝে যাবে। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকবে না।
বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত। তোমাকে তো একেবারে এটা অবদমন করে রাখতে বলা হচ্ছে না। এটা একেবারে দমিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত কোনো কথা নয়। কিন্তু ভালোবাসার ফানুস ভুল আকাশে উড়ানো যাবে না। আল্লাহ্ আমাদের জন্য বিয়ের ব্যবস্থা দিয়েছেন। বিয়ের চেষ্টা করতে হবে। আর সবর করতে হবে। মহান আল্লাহর উপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধরতে হবে। তুমি এই ভেবে ভয় পাবে না বা এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবে না যে-আমি সবর করতে পারবো না। তুমি যদি একটু সাহস করে সবরের চেষ্টা করো, তাহলে আল্লাহ্ তোমার জন্য সহজ করে দেবেন। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (*) এমন ওয়াদাই করেছেন।
“আর যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি তাঁর অন্তরকে সংপথ প্রদর্শন
করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক wre |”!
‘AE CR SETH (BRI FA, আল্লাহতাকে ধৈর্যশীলতাদানকরবেন।“ ২১ একটু কষ্ট করো ভাইয়া, আপু। সময় খুব দ্রুত যায়। একাকীত্ব, হাহাকার আর কিছু ক্ষোভ বুকে নিয়েই হোক, একটু অপেক্ষা করো। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করেন, তাদেরকে তিনি ঠকান না। ইনশাআল্লাহ, এই মাটির পৃথিবীতেই অবাক চাঁদের আলোয় একদিন ধরা দেবে তোমার চোখের দুঃখগুলো শান্ত করার মতো একজন মানুষ। তারপর শুরু হবে পৃথিবীর পথে নতুন এক পথচলা। যে পথের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে TER, খুনসুটি, মান-অভিমান, মায়া, মমতা আর সত্যিকারের পবিত্র ভালোবাসা। একটু কষ্ট সহ্য করো। অন্তরে গেঁথে নাও একটি কথা - জান্নাতের প্রথম মুহূর্তেই তুমি ভূলে যাবে দুনিয়ার সব দুঃখকষ্ট!
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[২২৪] সহীহ বুখারী: ৭০৪৭, ১৩৮৬ [২২৫] আল-মু'জামুল কাবীর লিত-ত্বাবারানী: ৪৮৭, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭৭১৮, সহীহাহ: ২২৬। ইমাম হাইসামী বলেছেন, হাদিসটির বর্ণণাকারীগণ সহীহ (মুসলিম) গ্রন্থের বর্ণনাকারী (অর্থাৎ, নির্ভরযোগ্য)। আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। [২২৬] সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭ : ৩২ [২২৭] সূরা আন-নূর, ২৪ : ৩০ [২২৮] সহীহ বুখারী : ৬২৪৩ ও সহীহ মুসলিম : ২৬৫৭ (ইফা. ৬৫১২, ৬৫১৩) [২২৯] আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (৯) বলেছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য থেকে দুনিয়ায় সর্বাধিক সুখের অধিকারী ব্যক্তিকে আনা হবে। তারপর তাকে (জাহান্নামের) আগুনে একবার ডুবিয়ে বলা হবে, “হে আদম সন্তান, তুমি কোনদিন ভালো কিছু দেখেছ? কোনদিন তুমি সুখে ছিলে কি? সে বলবে, “আল্লাহর কসম, হে আমার প্রতিপালক, না”। সহীহ মুসলিম: ২৮০৭ (ইফা. ৬৮২৯) [২৩০] আল মা'আরিজ ৭০:১১-১৪ [২৩১] আত-তাগাবুন,৬৪: ১১ [২৩২] বুখারি: ১৪৬৯, মুসলিম: ১০৫৩ (ইফা. ২২৯৫)
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।