মোহমুক্তি
ব্রেকআপ করার ক্ষেত্রে তোমার প্রথম কাজ হলো তাওবাহ্ করা। কেন ব্রেকআপ করছো, কার জন্য, কিসের জন্য করছো-খুব স্পষ্টভাবে এটা মাথায় থাকতে হবে। কোনো অস্পষ্টতা, মনকে বুঝ দেওয়া ভাসাভাসা ধারণা থাকলে চলবে না। সূর্য পূর্ব দিকে উঠে, এটা যেমন সত্য, তোমার ব্রেকআপ করার মূল লক্ষ্য হলো-আল্লাহকে SEE FI, এই বাক্যটাও তেমন সত্য হতে হবে। যেমনটা আমরা একটু আগেই আলোচনা করলাম। খুব ভালো হয়, তাওবাহ করার নিয়তে রাতের শেষ ভাগে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে WE 12 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত গুনাহ হয়েছে সবকিছুর জন্য ক্ষমা চাও। আর কক্ষনো না করার নিয়তে ক্ষমা চাও। আর তুমি নিশ্চয়ই জানো যার তাওবাহ কবুল হয়, আল্লাহ্ তার সব গুনাহ মুছে দেন। শুধু তাই না, ওই গুনাহগুলোর বদলে সমপরিমাণ ভালো কাজ SEAN লিখে দেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। এরপর একটা মেসেজ লিখতে হবে। এটাই হবে তোমার প্রেমিক/প্রেমিকাকে পাঠানো শেষ মেসেজ। মেসেজের ভাষা অনেকটা এমন হতে পারে... .. আমরা যা করছি তা হারাম। আমি আল্লাহকে ভয় করে তাঁর অবাধ্যতা থেকে সরে যাচ্ছি, তাওবাহ করে রিলেশন শেষ করে দিচ্ছি। আমার সাথে আর কখনোই যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না। তোমার জন্যে এটা কষ্টের হতে পারে। আমার জন্যেও কাজটা কষ্টকর। তবে জাহান্নামের আগুনে পোড়ার কষ্টের তুলনায় এই কষ্ট কিছুই না। আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়তে চাই না, আমার কারণে তুমি জাহান্নামের আগুনে পুড়ে যাও, এটাও চাই না। তুমিও তাওবাহ করে ফেলো, নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করো। কোনো অপমানজনক কথা বলো না। তার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলো না। যেমন- তুই আমার জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছিস, তুই আমাকে জাহান্নামে নিয়ে
যাবি, তোর সাথে আজকে থেকে ব্রেকআপ, তোকে নিয়ে আমি আর ভাববো না, তুই মরে যা জাহান্নামে যা, আমার কিছু যায় আসে না — এ ধরনের সব কথা অপ্রয়োজনীয়। বিশাল লম্বা মেসেজ লিখবে না। মেসেজে দুঃখবিলাসী কথাবার্তা থাকবে না। অযথা ভাষার কারিগরি এড়িয়ে যাবে। একেকটা শব্দ লিখবে আর নিজেকে প্রশ্ন করবে, এই শব্দটা লেখার দরকার আছে কি না। আমার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এই লাইনটা কি জরুরি? নাকি অন্য কোনো কারণে আমি এই কথাগুলো যুক্ত করছি?
বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে:
S| মেসেজ পাঠাবে। ফোন করে বা দেখা করে বলবে না। অনেকেই বলে ব্রেকআপ মেসেজ পাঠিয়ে করা উচিত নয়। ফোনে কথা বলতে গেলে বা কোথাও দেখা করে ব্রেকআপ করতে গেলে তুমি আবেগ ধরে রাখতে নাও পারো। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এবং তুমি আবার প্রেমের মায়াজালে, শয়তানের ফাঁদে পড়ে যেতে পারো।
২। মেসেজ রাতে পাঠাবে না। রাতে মানুষ একা থাকে। ইমোশনাল সাপোর্ট পাবার
সুযোগ কম থাকে। এ সময় তোমার মেসেজ পেয়ে সে আবেগের বশবততী হয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে।
৩। আদর্শ ব্রেকআপ বলে কিছু নেই। ব্রেকআপ করার জন্য আদর্শ দিন বলেও কিছু নেই।
আজ করবো, কাল করবো এভাবে ব্রেকআপ করার সময় পেছাবে না। ব্রেকআপে কষ্ট থাকবেই। এটা মেনে নিতেই হবে। তাকে কষ্ট না দিয়ে, নিজে কষ্ট না পেয়ে এমনভাবে ব্রেকআপ করবো যেন দুইজনেই জিতে যায়, কেউ হেরে না যায়-এমন আসলে হয় না। এমন প্ল্যান করতে করতে দেখা যাবে তুমি ব্রেকআপই করতে পারছো না।
81 মেসেজ সিন হলে ফোন থেকে ওর নাম্বার FF করে দাও। সবচেয়ে ভালো হয় সিম বদলে ফেললে। ফেসবুকসহ অন্য সব প্ল্যাটফর্মে তার আইডি ব্লক করে দাও, চ্যাট হিস্টি মুছে দাও। নিজের পুরানো পোস্টগুলো ডিলিট দিয়ে দিও। দরকার হলে পুরনো আইডি ডিলিট দিয়ে, নতুন করে খুলো। মোবাইল-পিসি, ড্রাইভ থেকে সব ছবি, ভিডিও মুছে ফেলো। কোন উপহার যদি থাকে নষ্ট করে ফেলো বা দান করে দাও। ভুলেও তার সাথে আর কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাবে না, তার ছবি দেখা যাবে না, স্মৃতি ঘাঁটা যাবে না। মনের গভীরে চিরুনী তল্লাশি চালিয়ে ওর সব স্মৃতিগুলোকে গ্রেফতার করে আমৃত্যু হাজতে ভরে দাও। তোমাদের রিলেশনের ব্যাপারে পরিচিত যতো জন জানতো, সবাইকে পারসোনালি বলে দাও তুমি আল্লাহর আজাবকে ভয় করে। তাওবাহ করে রিলেশন থেকে সরে এসেছে। তাই এই বিষয় নিয়ে কেউ যেন আর কোনো কথা ভুলেও না তুলে। লাইফ থেকে তাকে একেবারে শিফট ডিলিট মেরে দাও।
৫। ব্রেকআপ একাকী করবে। এর মাঝে ওর বা তোমার কোনো বন্ধু আত্মীয়স্বজন,
কাযিনকে টানবে না। এতে অযথা ঝামেলা তৈরি হবার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া তাদের কথাতে প্রভাবিত হয়ে তুমি তখন ব্রেকআপ না-ও করতে পারো।
৬। সে আর একবার দেখা করতে চাইবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
তোমার কথা সামনাসামনি শুনে “বুঝতে” চাইবে, অথবা আরেকবার নিজেকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ চাইবে। বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতজনের মাধ্যমে তোমার সাথে যোগাযোগ করতে চাইবে। অন্য আইডি থেকে বা অন্য নাম্বার থেকে ফোনও করতে পারে। ভুলেও তার সাথে আর একটা শব্দও কথা বলা যাবে না। ওর কণ্ঠ শুনলে, মেসেজের রিপ্লাই দিলে তুমি আবার তার প্রতি দুর্বল হয়ে যাবার ঘোরতর আশঙ্কা থাকে। অন্তত শেষবারের মতো দেখা করতে দাও-এই কান্নাজড়ানো আবদার রাখতে গিয়ে দেখা করতে গেছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের যিনা করে ফেলেছে, এমন বেশ কিছু ঘটনা শুনেছি।
৭। সে ইসলামের পথে ফিরে আসলো কি না, তা চেক করার জন্য যোগাযোগ করবে
না। ওর টাইমলাইনে ঘোরাফেরা করবে না, বা পরিচিত কারো মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখার চেষ্টা করবে না। দেখো ভাইয়া, দেখো আপু! এই যে এই কথাগুলো লিখছি, আমার নিজেরও তোমার কথা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে! কিন্তু জাহান্নামের আগুনের কষ্ট তোমার ব্রেকআপের কষ্টের চেয়ে হাজার কোটি গুণ যন্ত্রণাদায়ক। জান্নাতের পথ দুঃখ কষ্ট দিয়ে ঘেরা। ১২ তাই বৃহত্তর কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই কষ্টটুকু সহ্য করে নাও। “তোমরা যা অপছন্দ করো হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা ভালোবাসো হতে পারে তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ্ জানেন তোমরা জানো «feel ব্রেকআপ তো করে ফেললাম, কিন্তু আমি কি ওকে ভুলতে পারবো? ঠিক থাকতে পারবো? ওর সাথে আবার বোধহয় যোগাযোগ করে ফেলবো, ওর চোখের জল দেখে আমার শত প্রতিজ্ঞা হয়তো মোমের মতোই গলে যাবে...এসব ভেবে দুশ্চিন্তা করবে না। মনোবল হারাবে না। তুমি তোমার নিয়্যতকে পাক্কা করো, আল্লাহর উপর ভরসা করো, আল্লাহ্ তোমাকে ঠিকই ট্র্যাকে রাখবেন... আর যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য মুক্তির পথ করে দেবেন...'৯%! আর যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। ১৭
ব্রেকআপের পর ওর জন্য মন কাঁদতেই পারে, সদ্য প্রাক্তন করে দেওয়া মানুষটার মুখ উকি দিতেই পারে রাতবিরাতে, মন খারাপের প্রহরে, বুকের গভীরে খুব গোপন একটা দুঃখ হয়ে হৃদয়কে রাত্রির রাজপথের মতো শূন্য করে দিতে পারে... এমন অবস্থায় করণীয় কী?
ইন শা আল্লাহ, এমন সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে পরের লেখাতেই।
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[২৯১] রাতের শেষভাগেই করতে হবে এমন না। যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা যায়। [২৯২] নাসায়ী ৩৭৬৩, তিরমিজী: ২৫৬০ ও আবু দাউদ: ৪৭৪৪, সহীহ আত-তারগীব। ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। [২৯৩] সূরা বাকারাহ,২:২১৬ [২৯৪] সূরা তালাক, ৬৫:২ [২৯৫] সূরা তাগাবুন, ৬৪:১১
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।