মরিবার হলো তার সাধ...
আমাদের ছোট ভাইবোনদের জেনারেশনকে কী এক অদ্ভূত নেশায় পেয়ে বসেছে- কিছু হলেই অত্যন্ত ঠুনকো কারণে এরা আত্মঘাতী হয়ে পড়ছে। কিন্তু কেন অবেলায় অভিমানী মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে এতো? কেন এতো তৃচ্ছ কারণেই নিভে যাচ্ছে সব শুকতারাদের দল?1*১৷ বলিউড, নাটক, সিরিয়াল, গান, সাহিত্য, কবিতা তথা প্রচলিত সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি উপাদান ছ্যাঁকা খাওয়া পরবর্তী আত্মঘাতী কাজগুলোকে খুব রোমান্টিক হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। তারা পর্দায় দেখাচ্ছে- ব্রেকআপের পর প্রেমিক-প্রেমিকারা ছন্নছাড়া জীবন কাটায়, বাবা-মা ক্যারিয়ার সব ভুলে মদ-গাঁজায় ডুবে থাকে। হাত কেটে ফেলে। শত লাথি খেয়েও বারবার প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে ছুটে যায়, অপমানিত হয়, মারধরের শিকার হয়, তবুও লজ্জা হয় না। জীবন ধ্বংস করার এই চরম অবমাননাকর প্রক্রিয়াটাকে মিডিয়া অত্যন্ত মহান ভাবে উপস্থাপন করে। এভাবে নিজেকে তিলে তিলে কষ্ট দেওয়াটাই নাকি “টু লাভ'। এভাবে একদিন হয়তো তোমার ভালোবাসা তার ভূল বুঝতে পারবে। ফিরে আসবে তোমার বুকে! রূপালি পর্দায় এভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকা ফিরে আসলেও বাস্তব জীবনে তা হয় না। গল্প কিংবা সিনেমায় নায়ক একজন, নায়িকাও একজন। কিন্তু বাস্তবজীবনের নায়ক নায়িকা তো আর একজন দুইজন না, অসংখ্য। তোমার কাছেই ফিরে আসতে হরে, এছাড়া তার আর কোনো অপশান নেই-ব্যাপারটা এমন না। শুধু শুধু তুমি জীবন নষ্ট করে চলছে এভাবে শোক ভোলা যায় না। আর যদি সে তোমার এই দেবদাস সুলভ আচরণের কারণে ফিরেও আসে তাহলেও সম্পর্ক আর আগের মতো থাকবে না। অন্তর্বতী শূন্যতায় সম্পর্কের সুতো কেটে যায়। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সে যা বলবে, যা যা শর্ত দেরে তা তোমাকে নিঃশর্তে মেনে নিতে হরে। তোমার সাথে তার সম্পর্ক প্রেমিক-প্রেমিকার থাকবে না। বরং সেই সম্পর্ক হবে মনিব আর দাসের। অনেক কিছুর মাশুল গুনে তারপর হয়তো মুক্তি মিলবে সেই দাসত্ব থেকে। কে জানে, হয়তো সারাজীবনেও মুক্তি মিলবে না।
ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার পেছনেও অন্যতম প্রধান কালপ্রিট হলো আত্মহত্যাকে মিডিয়াতে রোমান্টিসিযমের মোড়কে উপস্থাপন। সেট ডিজাইন, লাইট আর ক্যামেরার আ্যাঙ্গেল, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউষিক, ডায়ালগ, গল্পের স্ক্রিন প্লে, Quit টাইপের সুইসাইড নোট-সবকিছু মিলিয়ে এমন আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করা হয় যা দর্শকদের মনে তীব্রভাবে গেঁথে যায় ঠিক এভাবে- আহা! আত্মহত্যা করা কতো নাটকীয়, কী ভয়ঙ্কর রোমান্টিক একটা বিষয়! কোনো এক চাঁদনী পসর রাতে বা ঘোর বর্ষণভরা বণ সন্ধ্যায় আমি ঝুলে পড়বো সিলিংয়ে বা পাখির মতো ডানা মেলে লাফ দিবো বিশ তলা উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে... আমার টেবিলে বইয়ের নিচে কিংবা লাশের পাশে চাপা পড়ে থাকবে সুইসাইড নোট। আমার মৃত্যুর পর সে বুঝতে পারবে আমি তাকে কতো ভালোবাসি! আমার জন্য কাঁদবে সে, কিন্তু আমাকে আর পাবে না; আমাকে কোনোদিন ভুলতে পারবে না সে। সারাজীবন অপরাধবোধে দগ্ধ হতে থাকবে। আমাকে করা তার প্রতিটি অবহেলার প্রতিশোধ এভাবেই নেবো আমি। আমার বন্ধুরা আমার ফেইসবুক টাইমলাইনে, আমার প্রোফাইল পিকচার কিংবা পোস্টের কমেন্টে RIP লেখবে, FD! আজও তার খুনিকে ভালোবাসে”-টাইপ পোস্ট দেবে, আমার কবরের পাশে ফুল দেবে, আমাকে পরিচয় করিয়ে দেবে প্রকৃত একজন প্রেমিক হিসেবে- “যে শুধু মুখে মুখে ভালোবাসেনি। ভালোবাসার জন্য জীবন aR’ | আমার কবরের উপর সবুজ ঘাস জন্মাবে। ফাগুন হাওয়ায় তিরতির করে কাঁপবে সাদা সাদা ঘাসফুল... অনেকেই ভাবে আত্মহত্যা করা খুব গভীর অনুভূতি সম্পন্ন কোনো কাজ। মৃত্যুর এই পদ্ধতি হয়তো তাদের মৃত্যুকে অর্থবহ করবে। মানুষ তাকে নিয়ে ভাবতে, কথা বলতে... তার দিকে মনোযোগ দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তোমার এই আত্মহত্যার কানাকড়ি কোনো মূল্য নেই। তেতো সত্যিটা হলো তুমি এভাবে আত্মহত্যা করার ফলে পৃথিবীর কারো কিছুই যায় আসবে না। পৃথিবীতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। তারপরও পৃথিবী চলে। আত্মহত্যা তোমাকে স্পেশাল বানাবে না। বাস্তব জীবনের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড (CRT নেই। নেই লাইট আর ক্যামেরার মুল্সিয়ানা, আলো- আঁধারির খেলা। কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবে নেমে এসো।
এভাবে তুমি শুধু নিজেকে ধ্বংস করছো। তোমার বাবা-মাকে কষ্ট দিচ্ছে৷। হয়তো তোমার বন্ধুবান্ধব, পরিচিত মানুষেরা তোমার টাইমলাইনে মৃত্যুর পর RIP লেখবে, এক-দুই দিন, বড়জোর এক-দুই সপ্তাহ, তোমার কথা মনে করবে। তারপর ভুলে যাবে। এমনভাবে ভূলে যাবে যেন পৃথিবীতে তোমার অস্তিত্বই ছিল না। হয়তো হুটহাট মনে পড়বে তোমার কথা। তবে তোমাকে তারা মনে করবে একটা কাপুরুষ, অবুঝ, বোকা, ভীতু হিসেবে। পরাজিত হয়ে বা ড্রামাবাজি করতে করতে যে জীবন থেকে পালিয়েছে। অন্যদের উপদেশ দেবে-এঁ ভীতুটার মতো কখনো ভুল কাজ করো না!
কোনো কিছুই থেমে থাকবে না তোমার জন্য। পৃথিবী আগের মতোই চলবে। আকাশের রং আগের মতোই নীল থাকবে, বাবলা বনে চৈতালী হাওয়ার নিস্তব্ধতা খান খান করে
অবিশ্রান্ত আর্তনাদের মতো ডেকে যাবে নিঃসঙ্গ কোনো ঘুঘু। তারাভরা আকাশে বুনো হাঁস ডানা মেলবে। তোমার প্রেমিক বা প্রেমিকা তার নতুন সঙ্গীকে নিয়ে বৃষ্টিবিলাস করবে, জ্যোৎস্না রাতে ফাগুন হাওয়ায় ফিসফিস করে আউড়ে যাবে ভালোবাসার চিরন্তন বাক্যগুলো। তোমার জন্য অপরাধবোধে দগ্ধ হওয়া, তোমার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করে আজীবন দুঃখ বয়ে বেড়ানোর অবকাশ বা ইচ্ছে, কোনোটাই মিলবে না তার। কষ্ট পাবে শুধু তোমার বাবা-মা। এই পৃথিবীতে তোমার প্রকৃত আপনজন। আর কষ্ট পাবে তুমি। কবরে, বিচারের দিনে, জাহান্নামে। কেন? এতো কিছু কীসের জন্য? ধরো, তুমি যেমন প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলে ঠিক তাই হলো। কিন্তু তুমি কি এসব দেখতে পাবে? প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে মিলন হবে? না, কিছুই হবে না। সে তার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে জীবন কাটাবে। এদিকে উল্টো তুমি কবরের আযাব ভোগ করবে। কোনো মানে হয়?
“যে যেভাবে আত্মহত্যাকরবে, তারশাস্তি অনন্তকাল সেভাবেই চলতে থাকবে।”'**খ বাসা থেকে বিয়ে না দেওয়ায় অনেক কাপল একসাথে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা করলে দুইজনের মিলন হবে না। বরং দু'জনকেই আত্মহত্যার গুনাহর কারণে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাহলে এভাবে মরে লাভ কী হলো? প্রকৃত আবেগ থেকেও অনেকে আত্মহত্যা করে। ভাবে, আত্মহত্যা করে ফেলি; তাহলে আমার সব কষ্ট একসাথে শেষ হয়ে যাবে। দেখো ভাইয়া, দেখো আপু, আত্মহত্যা করলে কোনো কষ্টই শেষ হয়ে যায় না। দুনিয়ার এই জীবনটা শেষ না। বরং এ জীবনটা খুব ছোট। মৃত্যুর পর মানুষের আসল জীবন শুরু হয়। আত্মহত্যা করলে তোমার কষ্ট তো কমবেই না বরং কবরে আরো ভয়ঙ্কর কষ্টের শুরু হবে। এই মেয়ে বা ছেলেকে হারালে তুমি আর জীবনে বিয়েই করতে পারবে না, পৃথিবীর এরাই একমাত্র ছেলে/মেয়ে এমনও তো না। তাহলে কেন এই বোকামি? তবে আত্মহত্যা করার পেছনের মূল কারণ হলো দুইটি-
১। প্রেমকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য ও সার্থকতা হিসেবে দেখা।
২। জীবনের সত্যিকারের উদ্দেশ্য ও সার্থকতা সম্পর্কে বেখেয়াল হওয়া।
এ নিয়ে আগের লেখাগুলোতে অনেক আলোচনা হয়েছে। সেগুলো আবার পড়ে নাও। ভালোমতো মনে ও মস্তিষ্কে গেঁথে নাও। আল্লাহ তোমাকে তাঁর ইবাদাতের জন্য পাঠিয়েছেন, পুরো মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার দায়িত্ব তিনি আমাদের দিয়েছেন। আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য প্রেম করা না! যে মহান দায়িত্ব আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন সেটা ভূলে সামান্য প্রেমের জন্য এভাবে তুমি জীবন দিয়ে দিচ্ছে?
উপরে বলা দুটি বিষয়ের বাস্তবতা বুঝলে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করলে কোনোভাবেই আত্মহত্যা করা সম্ভব না তোমার পক্ষে।
“তোমরা নিজেদের হত্যা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতিক্ষমাশীল।”'*১%৷ আল্লাহ কি ইবরাহীমের জন্য আগুনকে শীতল করে দেননি? তিনি কি ইসমাঈলকে ছুরির নিচে রক্ষা করেন নি? ইউনুসকে রক্ষা করেননি মাছের পেট থেকে? তিনি মূসার জন্য সমুদ্রের মাঝে রাস্তা বানাননি? ইউসুফকে জুলায়খার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করেননি? রাসূলুল্লাহ (*) এর জন্য চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেননি? আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম। তাহলে কেন তিনি তোমার জীবনের সমস্যার সমাধান করে দেবেন না? তাঁকে একটু ডাকার মতো করে ডেকে তো দেখো! ভরসা করো তাঁর উপর। ফিরে আসো ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। ইনশাআল্লাহ, তিনি তোমার সকল দুঃখকষ্ট লাঘব করে দেবেন। মুসলিমদের ঘরে জন্মগ্রহণ করে স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বই পড়েই আমরা ভেবে বসি ইসলাম সম্পর্কে, আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে আমরা একেবারে সবজান্তা হয়ে গেছি। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো ইসলাম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়। আমরা আল্লাহকে চিনি না, আমাদের নবী (*)-কে চিনি না। পারিবারিক, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলি না। আর চলি না বলেই আমরা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ি। সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম-দের উত্তপ্ত মরুর বুকে শুইয়ে কয়লার আগুনের তাপ দেওয়া হতো। কোমরের চর্বি, মাংস গলে কয়লার আগুন নিভে যেতো। চোখের সামনেই মা-বাবাকে অত্যাচার করতে করতে মেরে ফেলা হতো। ধন সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন সব কিছু ত্যাগ করে বেছে নিতে হতো নির্বাসনের জীবন, কারাগারের জীবন।**% মক্কার সুদর্শন, স্টাইলিশ যুবক মুসআব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে রাজকীয় লাইফস্টাইল ছেড়ে বরণ করে নিতে হয়েছিল রাস্তার ধূলিমলিন জীবন। কিন্তু তারপরও তাঁরা প্রকৃত সুখী জীবনযাপন করতেন। সবসময় হাসিমুখে থাকতেন। আত্মহত্যার কথা তো কল্পনাতেও ছিল না! কীভাবে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার পরেও তাঁরা হাসিমুখে থেকেছেন? বীরের মতো মাথা উঁচু করে ঝঞ্ধীবিক্ষুব্ধ বিপদের মহাসাগর পাড়ি দিয়েছেন? কারণ তাঁরা আল্লাহকে চিনতেন। তাঁরা ইসলামের শক্তিতে একেকজন হয়ে গিয়েছিলেন সত্যিকারের সুপারহিরো। আমরা আল্লাহকে চিনি না, তাঁকে মানি না বলেই আমাদের জীবনের এতো হতাশা, এতো দুঃখ-কষ্ট, মানসিকভাবে আমরা এতো দুর্বল।
কাজ পরিণতি কাজ পরিণতি (রিয়্যাক্টিভ) (প্রোআ্যাক্টিভ) নেশা করা, তোমার সাবেক প্রেমিক/ | ১ নং কলামের | আল্লাহ তোমাকে ঘুমের ওষুধ প্রেমিকার উপর কাজগুলোর | উত্তম জীবনস- খাওয়া, হাত | এগুলোর কোনো প্রভাব | বদলে তুমি ধৈর্য | ঈী দান করবেন। কাটা, কোনো | নেই। এসবে তার কিচ্ছু | ধরলে। নেশার | তোমার জীবন করে কাজকর্ম না যায় আসে না। সে দিব্যি | পেছনে টাকা দেবেন প্রশান্তিময়। করে দুঃখ তার নতুন সঙ্গীকে নিয়ে | না উড়িয়ে সেই | তোমার স্কিল দিয়ে বিলাস করা, | জীবন কাটাচ্ছে। ক্ষতি | টাকা আল্লাহর | পরিবার, সমাজের, বাবা-মাকে কষ্ট | হচ্ছে শুধু তোমার। তুমি [| সন্তুষ্টির জন্য | মানুষের জন্য কাজ দেওয়া, খাওয়া | তোমার স্বাস্থ্য, সময়, দান করলে। করার সুযোগ দাওয়া না করা। | টাকাপয়সা এবং জীবন |, পাবে। নষ্ট করছো। পরিবার দু আকরলে গুনাহ মাফের | সবশেষে আল্লাহ কে কষ্ট দিচ্ছো। নিষিদ্ধ | __ রি | জন্য, চোখ তোমাকে চিরসুখের কাজগুলো করার fo ha কারণে আল্লাহর রহমত | | SE প্রবেশ _ জীবনসঙ্গীনীর | করাবেন, ইনশাআ- থেকে দূরে সরে ACR | জন্য। নিজের [ল্লাহ। প্রেমিক-প্রেমিকা ফিরে টা ) | কস্কিলবাড়ানোর আসলেও তার দাসত্ব চেষ্টা করলে। মেনে নিচ্ছো। | না পাওয়ার ১। কবরের শাস্তি। বিচ্ছেদকে ১। গুনাহ ও দুঃখে, স্বাভাবিক ভাবে | অবাধ্যতা থেকে অভিমান, ২। জাহান্নামের শাস্তি। মেনে নেওয়া, [|নিজেকে বাঁচানো। আত্মহতাকিরা | © বাবা-মা'র কষ্ট। বিচ্ছেদের ২। শাস্তি থেকে | 81 নিজেকে ভীরু, ধাক্কাকে কাজে | বাঁচা। | আসা। ’ বরকতময় জীবন।
৫। আল্লাহর দেওয়া ৪। চোখ শীতলচ
সুন্দর এই জীবনের কারী জীবন সঙ্গী/ অসংখ্য নিয়ামত থেকে সঙ্গিনী বঞ্চিত হওয়া।
৫। জান্নাত।
যদি মন কাঁদে লেখাতে একাকীত্ব অবসর কাটানোর যে টিপসগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো অনুসরণ করো। হাসপাতালে যাও সুযোগ পেলে। আমার পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের বন্ধু ছ্যাঁকা খেয়ে মারাত্মক আত্মঘাতী জীবনযাপন করছিল। হাসপাতালে এক পাক ঘুরে এসে, রোগীদের দুঃখ কষ্ট, বেঁচে থাকার আকুতি দেখে সে একদম সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরত এসেছে।
তোমার মাথায় আত্মহত্যার কথা উঁকি দিয়েছে এটা বাবা-মা বা আপনজনদের জানিয়ে দাও। যদি সম্ভব হয় একজন মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। দড়ি, ছুরি, কাঁচি, ব্লেড, ঘুমের ওষুধ (যদি থাকে) হাতের নাগাল থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। যতটা পারা যায় একাকী থাকাকে এড়ানোর চেষ্টা করো। বিশেষ করে রাতে। রাত জাগবে না এবং রাতে একা ঘুমাবে না। আত্মহত্যার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে রাতে। সেই সঙ্গে ওযু করে ঘুমানোর দু'আ পড়ে ঘুমাও।
তবু যদি মাথায় আত্মহত্যার কথা ঘুরতেই থাকে...
S| যখনই এমন হবে সঙ্গে সঙ্গে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই) পড়বে। শয়তান তোমাকে ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে।
২। রুমে একা থাকলে রুম থেকে বের হয়ে যাবে। পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো
বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা FEN বাসায় কেউ না থাকলে রাস্তায় বের হয়ে যাবে। হাঁটাহাঁটি করবে। মসজিদে চলে যেতে পারো। মসজিদে গিয়ে দু'রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে। সুযোগ থাকলে কোনো আলিমের কাছে চলে যাবে। পারলে রাস্তার কোনো অসহায় গরীব দুঃখী মানুষকে খাবার কিনে দেবে। ৫-১০ টাকা যা পারো দান করবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে।
একটু ধৈর্য ধরে থাকো। সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। যেই মানুষটা তোমার চিন্তাভাবনায় মিশে গিয়েছিল, যাকে ছাড়া ভেবেছিলে তুমি বাঁচবে না, তাকে ছাড়াই দিব্যি তুমি হেসেখেলে বেঁচে থাকবে। মাসের পর মাস চলে যাবে, ক্যালেন্ডারের পাতায় ধুলো জমবে, তার কথা তোমার ক্ষণিকের জন্যেও মনে হবে না। তার চেহারা মন থেকে মুছে যাবে, হয়তো ভুলে যাবে তার নামও। পাগলামির কথা ভেবে তখন তুমি আফসোস করবে, কী অবুঝ ছিলে তুমি, পাগলামির কী বিশাল ভাবসম্প্রসারণ করে যাচ্ছিলে...
প্রকৃত ভালোবাসা তো মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। বাবা আদম ও মা হাওয়ার ভালোবাসার মাধ্যমে বহতা মানবসভ্যতার সূচনা হয়েছে। আল্লাহ্ তাঁদের উপর শাস্তি বর্ষণ করুন। যে ভালোবাসা জীবন ধ্বংস করে দেয়, ধ্বংস করে পরিবার
ও সমাজকে সেই ভালোবাসা কেমন ভালোবাসা? ফিরে আসো এমন ধ্বংসাত্মক ভালোবাসা থেকে। আল্লাহ বিচ্ছেদের এই কষ্টের মাধ্যমে তোমাকে জান্নাতের দিকে আহ্বান করছেন। তোমাকে সুযোগ করে দিচ্ছেন পরম সফলতার পথে চলার। এই সুযোগ হেলায় নষ্ট করো না।
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[৩৩১] এই লেখার বিস্তারিত ভার্সন পাবে এই লিংকে- Lost Modesty ফেইসবুক পোস্ট, অক্টোবর ০২,২০২২- tinyurl.com/2p9yvénh [৩৩২] বুখারী: ৫৭৭৮, মুসলিম: ১০৯ (ইফা. ২০১) [৩৩৩] সূরা আন-নিসা, ৪:২৯ [৩৩৪] তুমি চাইলে আমাদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারো। আমাদের লোকবল অত্যন্ত সীমিত। এরপরেও আমাদের চেষ্টা থাকবে মেন্টাল সাপোর্ট দেবার। অন্তত তোমার কথাগুলো আমরা শুনবো ইনশাআল্লাহ। [৩৩৫] ফোন করার মতো কাউকেই না পেলে জাতীয় জরুরি সাহায্য নাম্বার- ৯৯৯ এ ফোন করবে।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।