অনুপম উত্থান
হলিউডের সিনেমার মতোই আমরা কোনো এক সুপারহিরোর জন্য অপেক্ষা করি। ভাবি, কোনো একদিন ব্যাটম্যান, সুপারম্যানের মতো কেউ আসবে আর তারপর সব বদলে যাবে। আবার আলো ফিরে আসবে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। এখন যেভাবে চলছে চলুক, অবেলায় নিভে যাক অযুত কোটি তরুণ-তরুণী, আত্মহত্যা করুক বেকার বোকা যুবকের দল, ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাক পরিযায়ী পাখি আর প্রজাপতিরা, তাতে আমার কী? আমি তো কিছুই বদলাতে পারবো না! এগুলোর জন্য তো আল্লাহ আমাকে পাকড়াও করবেন না! আসলেই কী তাই? নাকি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ালে আমার শান্ত নির্বার্াট জীবনটা হয়তো একটু ঝঞ্ধীবিক্ষুব্ধ হবে, বাপের হোটেলে খাওয়া জীবনটা, মাসে একবার ট্যুর দেওয়ার জীবনটা, সেলফিবাজি, আড্ডাবাজি, রেস্টুরেন্ট আর সিনেপ্লেক্সের জীবনটা, বাইক-সিনেমা-ওয়েবসিরিযের জীবনটা, প্রেমিকার চোখে চোখ রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকার জীবনটা আর আগের মতো থাকবে না, দায়িত্ব নিতে হবে, কাজ করতে হবে, আরামের জীবন ছেড়ে বের হয়ে আসতে হবে-এই ভেবে আমরা এই মিথ্যে কথাগুলো বলি নিজের সাথে? আমাদের নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। এখন বয়স আমাদের দায়িত্ব নেবারই। এই তারুণ্যে, যদি জীবনের এই বসন্তে শুধু নারী আর প্রেম দিয়েই জীবনকে সাজাই তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম নিশ্চিতভাবে আমাদের চিহ্নিত করবে ভীরু কাপুরুষ হিসেবে। ওরা আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। ক্ষমা করা উচিতও না। স্রোতের সাথে আর কত অন্ধ চলা? চলো নিজেকে বদলাই, সমাজকে বদলে দেই। দূর থেকে মনে হয় স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানো অসম্ভব। যে একবার দাঁড়ায় কেবল সেই বুঝতে পারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে তবে অসম্ভব কিছুই না। একবার আল্লাহর উপর ভরসা করে দাঁড়াতে পারলে আর কোনো চিন্তা থাকে না। এই পথের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে আল্লাহর রহমত, সাহায্য, ভালোবাসা। আর অবশ্যই চিরসুখের এক জান্নাতের প্রতিশ্রুতি। আলহামদুলিল্লাহ! হতাশা আর অন্ধকারের এই ব-দ্বীপে আলোর মশাল হাতে ছুটে চলছেন কিছু সিংহহৃদয় ভাইয়েরা। পর্নোগ্রাফি, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক, মোবাইল আসক্তি, হতাশা,
আত্মহত্যা, বিয়েকে কঠিন করে ফেলা, যিনা-ব্যভিচার-অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজেদের উদ্যোগে সচেতনতামূলক নানা কাজকর্ম করে যাচ্ছেন একের পর এক। লিফলেট বিতরণ করছেন। সেমিনার করছেন। প্রজন্মকে, সমাজকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। এই জেনারেশনের দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রামের বাস্তবতাগুলো বোঝানোর চেষ্টা করছেন সমাজকে, অভিভাবকদের, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ইমাম, আলেম ও শিক্ষকদের। আসক্তি, হতাশা, বিকৃতি আর আত্মহত্যার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ানো প্রজন্মের কাঁধে আপনজন হয়ে হাত রাখার চেষ্টা করছেন। এসো না, তুমিও চলে এসো তাদের দলে! ক্যাম্পেইন আয়োজনের সকল মালমশলা পাবে এখানে-
https://tinyurl.com/onupomutthan সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা কিংবা কাউকে বোঝানো, সব ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। শুধু দুনিয়ার লাভক্ষতির হিসেব-নিকেশ করে মানুষ সত্যিকারার্থে আলোর পথে ফিরে আসতে পারে না। সাময়িকভাবে ফিরে আসলেও, একসময় সে কোনো না কোনো ভাবে আবার বস্তবাদ আর ভোগবাদের চক্রে আটকেই যায়। যেকোনো অন্ধকার থেকে ফিরে আসার মূল লক্ষ্য হতে হয় আল্লাহকে M28 করা। তাহলেই পরিবর্তন হয় স্থায়ী প্রেম ও যিনার ক্ষতিকর দিক এবং এ থেকে বের হয়ে আসার উপায় নিয়ে কথা বলার সময় পুরো আলোচনাকে সাজাতে হবে ঈমান, তাওহীদ এবং মহান আল্লাহর আনুগত্য ও BBP কেন্দ্র করে। পরিবর্তনের ভিত্তি হতে হবে ইসলাম। যে বিকৃত আধুনিক লেন্সের ভেতরে দিয়ে মানুষ বাস্তবতাকে দেখছে, দেখতে শিখেছে-সেটা পাল্টে দিয়ে ইসলামের লেন্স দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে শেখাতে হবে তাদের। তাই আলোচনার সময়, ক্যাম্পেইন করার সময় আততায়ী ভালোবাসা, চশমা এবং শুভ্রতার ব্যাকরণ-এই তিন অংশের মূল পয়েন্টগুলো পরিস্কার করে তুলে ধরতে পারলে সেটা খুব ফলদায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। বাবা-মা, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সমাজ আর বিশ্বব্যবস্থাকে তো অনেক তো গালমন্দ করলে। ফেইসবুকে অনেক ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটালে। কতোটুকু লাভ হলো? তেমন কোনো পরিবর্তন কি আসলো এই সমাজে? নাকি জাস্টফ্রেন্ড, অনলি ফ্রেন্ড, কাছে আসার গল্প, প্রেম, লিটনের ফ্ল্যাট, লঞ্চের কেবিন, গ্রুপ ট্যুর, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ছবি, ভিডিও ভাইরাল, ছ্যাঁকা, মদ-বাবা-গাঁজা, হতাশা, টিকটক বিড়ম্বনা, মোবাইল আসক্তি... অসুখের তালিকা কেবল লম্বাই হতে থাকলো? দিন দিন বাড়লো আগ্রাসী শূন্যতায় গ্রাস হয়ে যাওয়া মানবাত্মার সংখ্যা?
আমাদের সাথে যা হবার হয়ে গেছে, কিন্তু হৃদয়ঘটিত অসুখ আর মৃত্যুর এই উপনিবেশে আর যেন কোনো ছোট ভাই, কোনো ছোট বোনের জীবন নষ্ট না হয়, যেন আর কোনো মায়ের বুক বিধ্বস্ত না হয়-চলো এবার সেই চেষ্টা করবে। অনেক তো জীবন নষ্ট করলে, চলো এবার জীবন বদলানোর চেষ্টা করবে।
চলো, আবার আমরা উঠে দাঁড়াই। অস্বস্তিকর নীরবতার প্রাচীরে আঘাত হানি ভালোবাসা আর কল্যাণকামিতা দিয়ে। সমাজকে পথ দেখাই তাওহীদের মশাল জ্বেলে। কলুষিত এই সমাজটাকে শেখাই শুভ্রতার ব্যাকরণ।
চলো আমরা আবার উঠে দাঁড়াই। রচনা করি অনুপম উত্থানের এক মৌলিক কাহিনী। বিচারের দিন মহান রবের মুখোমুখি হবার সময় আত্মপক্ষ সমর্থনে অন্তত এটুকু যেন বলার সুযোগ থাকে তোমার-আমার।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।