এক.
পরপর বেশ অদ্ভূত কয়েকটা ঘটনা ঘটলো সেদিন। অল্প সময়ের ব্যবধানে। তবে ঘটনাগুলো থেকে কোনো উপসংহার টানার মতো বয়স ছিলো না আমার। বেশ ছোট ছিলাম, ক্লাস থি বা ফোরে পড়ি কেবল। নদীর ধারেই ছিল আমাদের স্কুল। হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল পাশাপাশি। কমন মাঠ। মনে আছে সেদিন বাতাস হচ্ছিল ব্যাপক। একটা বাবলা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আমি দেখলাম হাইস্কুলের মেয়েদের কমন রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে শিউলি wen’! একটু উসখুস করছে। হঠাৎ করে মাটি ফুঁড়েই যেন উদয় হলো হাসান ভাই। আমাদের এলাকার স্টাইক বোলার। সে সময়ের ক্রেজ শোয়েব আখতারের মতো বোলিং আ্যাকশান। প্রথম ওভারে একটা বোল্ড আউট করবেই করবে। হাসান ভাইকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। স্কুলে তার কাজ কী? সে তো স্কুল পাশ দিয়ে ফেলেছে! হাসান ভাই শিউলি আপার দিকে এগিয়ে গেলো। ম্যাজিকের মতো শিউলি আপার হাতে একটা ট্রাভেল ব্যাগ বের হয়ে আসতে দেখলাম। হাসান ভাই ব্যাগটা নিয়ে একটা দৌড় দিলো। বল ছোড়ার আগে রানআপ নেবার সময় যে স্পিডে দৌড়াতো, তার চাইতেও বেশি জোরে। দেখলাম ব্যাগ নিয়ে সে দৌড়ে স্কুলের পেছনের রাস্তায় চলে গেল। সেখানে তার সাথে যোগ দিল আপন ভাই। এরপর তারা কী করলো, কোথায় গেল, তা আর খেয়াল করিনি। স্কুলে একটা নতুন লাইব্রেরি হচ্ছে। সেটা নিয়েই বেশ উত্তেজিত ছিলাম আমরা। লাইব্রেরির আলোচনায় মজে গেলাম। একটু পর ক্লাসের ঘণ্টা পড়লো। স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরে ভাত খাচ্ছি। আমি, আমার বোন, আম্মু। আকাশ কালো করে বৃষ্টি ঝরেছে ঘণ্টাখানেক। এখন বৃষ্টিটা ধরে আসলেও মাঝে মাঝে মেঘ গর্জন করে জানান দিচ্ছে-আরে আমি আছি, যাই নাই এখনো। দক্ষিণ দিকের দরজাটা খোলাই ছিল। সে দরজায় উদয় হলো ভীষণ দুঃখিত এক মূর্তি। মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব দুঃখ সিন্দাবাদের ভূতের মতো তার উপর এসে ভর করেছে।
“আম্মাজান, আমার মেয়েটা কোথায়, বলতে পারিস? ওকে খুঁজে পাচ্ছি না*-বুক ফাটা আর্তনাদ করে আমার বোনকে প্রশ্ন করলো লোকটা।*৷ আরে, এ যে বকুল কাকু! শিউলি আপার বাবা! ভরদুপুর, কিন্তু মেঘ আর বৃষ্টির কারণে সন্ধ্যার মতো মনে হচ্ছে, বিদ্যুৎ চমকের আলো-আঁধারিতে আমাদের দরজায় দাঁড়ানো পৃথিবীর সব হারিয়ে ফেলা এক পিতা, তার অসহায় আর্তনাদ...এ দৃশ্যের কথা আমি ভুলতে পারি না। সেই ঘটনার পর বহু বছর পেরিয়ে গেছে। সময়ের প্রলেপে সব ক্ষতই সেরে উঠে। কিন্তু এই দৃশ্য, সেই বুক চেরা আর্তনাদের স্মৃতি এখনো বিষণ্জতায় ভোগায় আমাকে। দম ফেলার সময় নেই এমন কর্মব্যস্ত দিনেও উদ্যমহীন করে ফেলে। শিউলি আপাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্কুল থেকে বাসায় ফেরেনি। আলমারি থেকে জামা কাপড় সোনার গহনা সব মিসিং! আপন ভাইয়ের সাথে শিউলি আপার প্রেম ওপেন সিক্রেট। এটা পাড়ার যেকোনো ছাগলকে জিজ্ঞাসা করলেও কাঁঠাল পাতা চিবানোর ফাঁকে ফাঁকে সে বিস্তারিত সব বলে দিতে পারবে! কাজেই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো কোনো কঠিন কাজ ছিল না। আম্মু আর আপুর পরামর্শে আমাদের বাসার কাছেই শিউলি আপার অন্য এক বান্ধবী টিনা আপার বাসায় গেল বকুল কাকু। তার পিছু পিছু গেল হাউমাউ করে কাঁদতে থাকা কাকী। পরে জেনেছিলাম সেই বাসাতেই লুকিয়েছিল শিউলি আপা। টিনা আপা আর তার পরিবার বকুল কাকুকে মিথ্যা বলে। সেখানেও খুঁজে না পেয়ে বকুল কাকু পাগলের মতো হয়ে যায়। বুক চাপড়ে কান্না করতে করতে এর ওর বাড়িতে খুঁজতে থাকে। মেয়েকে হারানোর ভয়ে ভীত বকুল কাকুকে যখন টিনা আপা ভূগোল বোঝাচ্ছিল, তখন ধানের গোলায় লুকানো শিউলি আপা সব শুনছিল, উঁকি মেরে দেখছিলও। বুঝতে শেখার পরে অনেকবার মনে হয়েছিল শিউলি আপাকে একবার প্রশ্ন করি- বাবার এমন অপ্রকৃতিস্থ অবস্থা দেখার পরেও আপনার মনে এতোটুকুও দয়া হলো না? একবার মনে হলো না, বের হয়ে বাবার হাত ধরে বলি-বাবা ভুল হয়ে গেছে, চলো বাড়ি চলো! বাবার এতো ভালোবাসা, এতো মায়া, এতো মমতার কি কোনো দাম নেই? প্রেম কি এতোটাই অন্ধ?
দুই.
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার মোড়। সন্ধ্যা। রাস্তায় পড়ে আছে ১৯-এ পা দেওয়া এক তরুণী।
শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। উঠে দাঁড়াতেও পারছে না। কাতর কণ্ঠে সাহায্য চাইলো পথচারীদের কাছে। একজন তাকে নিয়ে গেল হাসপাতালে। হঠাৎ করেই দুনিয়ার নির্মম কুৎসিত দিকটা উন্মোচিত হয়ে গেছে তার সামনে। অথচ তিন দিন আগেও সম্পূর্ণ অন্য জীবন ছিল তার।
তামজিদ হোসেন আদর (২২) মেয়েটার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই। যাত্রাবাড়িতেই থাকে দুজন। দুজনই আবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। এক বছর তিন মাস ধরে প্রেম করছিল তারা। তিন দিন আগে বিয়ে করবে বলে বাসা থেকে চলে আসে দুজন। রোমাঞ্চকর জীবনের স্বপ্নের আবির নেমেছিল তরুণীর চোখে। তিন দিন তারা বিভিন্ন জায়গায় কাটিয়ে দেয়। সব শেষ সোমবার বেলা তিনটার দিকে তাকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যায় তামজিদ।
হোটেল রুমটিতে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল আরো তিন জন। প্রেমিক তামজিদ আশ্বস্ত করে, “ওরা বিয়ের সাক্ষী হতে এসেছে, জান”। নিশ্চিন্ত হয় সে। কিন্তু তারপর নরক নেমে আসে হোটেলের সেই রুমে...
...ওরা চারজন মিলে ধর্ষণ করে তাকে। এক পর্যায়ে ভয় দেখায়-কাউকে কিছু জানালে জানে মেরে ফেলবো, আর তোর নগ্ন ছবিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ধর্ষিত, প্রতারিত, মৃত্যুভয়ে ভীত তরুণী কাউকে কিছু জানাবে না বলে আশ্বস্ত করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাইরে এসে রাস্তায় পড়ে যায় সে»! সিলেট। ওসমানীনগর।
মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক। তারপর প্রেমিককে বিয়ে করতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ১৭ বছরের কিশোরী | কিন্তু নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দেখে প্রেমিক নেই। হতাশ কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে গ্যারেজে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে এক সিএনজি চালক। ৷
ঘাটাইল উপজেলার গৌরিশ্বর গ্রামের আসকরের ছেলে আল আমিন (২৫) এর সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক স্কুলছাত্রীর। ঈদুল আযহার সময় প্রেমিকের ফোন পেয়ে ওই কিশোরী নানার বাড়ি থেকে তার সঙ্গে ঘাটাইল উপজেলার চেংটা গ্রামে যায়। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একটি বাড়িতে রেখে একটানা ২৫ দিন ওর সাথে
শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় প্রেমিক। পরে আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আসে। বাসস্ট্যান্ডে আল আমিনের বন্ধু, পাচারকারী চক্রের সদস্য ট্রাকচালক মাসুদের ট্রাকে উঠে তাদের গন্তব্যে রওনা হয়। পরদিন ভোর ৫টার দিকে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই স্কুলছাত্রীকে। সেখানে চার-পাঁচজন মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। পরে তাদের আলাপচারিতায় কিশোরী বুঝতে পারে, তাকে ভারতে পাচার করার পরিকল্পনা করছে ওরা। পরে সে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড আসে। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরে সে। ১ ধর্ষণ, প্রতারণা, আত্মহত্যা বা খুনের এমন ঘটনা খুবই কমন। তুমি হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবে না। হয়তো ভাববে, '“আরেহ! আমার সাথে কখনোই এমন কিছু হবে না। ও আমাকে এতো ভালোবাসে, আমাকে করবে ধর্ষণ! আমার সাথে করবে প্রতারণা! এসব বিশ্বাস করতে বলেন আমাকে? আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না, তুমি গুগলে ৫/১০ মিনিট একটু সার্চ করে দেখো। ধর্ষণ, খুনের ঘটনা পড়তে পড়তে অসুস্থ হয়ে যাবে। এরাও সবাই তোমার মতো উপেক্ষা করেছিল সকল সতর্ক সংকেত। প্রেমে মোহাম্ধ মন আপাদমস্তক বিশ্বাস করেছিল এমন মানুষকে যাদের হাতেই অসংখ্যবার খুন হয়েছে তারা। ১ সমাজ তথাকথিত আধুনিক, প্রগতিশীল, মুক্তমনা হবার সাথে সাথে ধর্ষণ খুনের মতো ঘটনাগুলোও বাড়ছে হু হু করে। তবে সংবাদ মাধ্যমে আসার চাইতে, না আসা ঘটনার সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি ধর্ষিত হয়েছি এটা ঢাকঢোল পিটিয়ে বলতে চায় না Secale! বাড়ি থেকে পালানোর পর প্রেমিকের হাতে, প্রেমিকের বন্ধুদের কাছে বা হোটেলের ম্যানেজার, কর্মচারী, বাসের ড্রাইভার,
FIR বা যেখানে বাসা ভাড়া নিয়েছিল সেখানকার কারো হাতে ধর্ষণের শিকার হবার পর, কিংবা প্রেমিক পালানোর পর চুপি চুপি ঘরে ফিরে আসার ঘটনা নেহায়েত কম নয়। মফস্বল বা গ্রামগুলোতে এসব ঘটনা চাপা না থাকলেও ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরের স্বার্থপর নাগরিক জীবনে এমন SS ঘটনা চাপা পড়ে থাকে। কেউই হয়তো জানছে না, সামাজিকভাবে wees, লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে না, বিয়েও হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু থেকে যাচ্ছে দুঃসহ সব স্মৃতি। সারাটা জীবন তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বোবা কান্না, গ্লানিবোধ আর বিষাদ কুরে কুরে খাচ্ছে বাকি জীবনটা। কেলেঙ্কারির ভয়ে বিচারও চাওয়া যায় না। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো ধর্ষণ বা শারীরিক মিলনের ভিডিও করে রাখার ট্রেন্ড। একবার ভিডিও বা ছবি তুলে রাখার পর সেটা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে চলে সিরিজ আকারে ধর্ষণ, গণধর্ষণ। টাকাপয়সা দিয়েও পার পাওয়া যায় না!
আর গ্রাম বা মফঃস্বল হলে কী ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি যে হতে হয়, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ কল্পনা করতে পারে না। প্রতিনিয়ত প্রতিবেশীদের কাছে অপমানিত, লাঞ্ছিত হতে হয় পরিবারের সবাইকে। বিয়ে হতে চায় না। পতিতা, বাজারি মেয়ে টাইপের চিরস্থায়ী ট্যাগ লেগে যায়...একটা পরিবার আসলে একদম শেষ হয়ে যায়। ঘরে ফিরে আসলেও জীবনে আর ফেরা হয় না।
আপু, তুমি হয়তো বুঝতে পারবে না তোমার বাবার কাছে, তোমার ভাইয়ের কাছে তোমার স্থান কোথায়। তোমার জন্য কতোটা ভালোবাসা, কতোটা স্নেহ, কতোটা আবেগ জমানো রয়েছে তাদের বুকে! তোমার এক বিন্দু অসম্মান হবে, তোমাকে নিয়ে কেউবাজে কথা বলা দূরে থাক বাজে চিন্তা করবে এটাও তারা মেনে নিতে পারেন না। ৭ একজন সত্যিকারের গায়রত সম্পন্ন মুসলিম ভাই বা বাবা তোমার সম্মান রক্ষার জন্য প্রয়োজনে নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারেন। মদীনার এক ইহুদি একজন মুসলিম নারীর সম্মানহানির চেষ্টা করেছিল শোনার পর রাসূলুল্লাহ (*) ক্রোধে রক্তবর্ণ ধারণ করেন। যুদ্ধের পোশাক পরে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেন। দূর ভারত মহাসাগরের বুকে মুসলিম বোনের সম্মান রক্ষার জন্য ১৭ বছরের মুহাম্মাদ বিন কাসিম সেনাবাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। অত্যাচারী শাসক মুহতাসিম পর্যন্ত মুসলিম বোনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুবিশাল বাহিনী পাঠান রোমানদের বিরুদ্ধে। এইতো নিকট অতীতেই তৃতীয় উমর নামে পরিচিত মাদ্রাসার এক শিক্ষক ধর্ষিতা বোনের সম্মানের প্রতিশোধ নেবার জন্য বেরিয়ে পড়েন ছাত্রদের নিয়ে। বদলে ফেলেন আধুনিক বিশ্বের ইতিহাস! এখনো মেয়ের ধর্ষককে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণের ঘটনাও মাঝে মাঝেই শোনা যায়!
আর সেই তুমিই নিজে যেচে পড়ে তোমার ইজ্জত অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছো। অন্যরা তোমাকে ব্যবহার করে ছেড়ে দিচ্ছে, তুমি গুমরে গুমরে কাঁদছো, তোমার ভিডিও, ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে অনলাইনে। পত্রিকার শিরোনাম বা সম্পাদকীয়তে তোমাকে নিয়ে লেখা হচ্ছে, তোমার বিয়ে হচ্ছে না, তুমি ঝুলে পড়ছো ফ্যানের সাথে...এমন পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থাটা কী হয় একবার চিন্তা করো! তোমার বাবার কলিগ, তোমার পাশের বাসার আন্টি-ওরা কি তোমার আবু আম্মুকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে দেবে? টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে আদরের যেই ভাইটাকে তুমি চকলেট কিনে দিতে, সেই ভাইটটা স্কুলে যাবে কীভাবে সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছো? যখন আশেপাশের মানুষজন আড়ালে আবড়ালে তোমাকে পতিতা হিসেবে সম্বোধন করে, যখন তোমাকে নিয়ে রসালো আলোচনা চলে-তোমার ভাই বা বাবা উপস্থিত হলে সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা বদলে ফেলে, কলজের মধ্যে ছুরি মারা টিটকিরির রহস্যময় হাসি হাসে, যখন তোমার সম্পর্কে অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো করে...তখন তাদের অবস্থা কেমন হয়? কীভাবে সহ্য করে তারা? তুমি এতো স্বার্থপর কেন? বাবার প্রতি, ভাইয়ের প্রতি, পরিবারের প্রতি তোমার ভালোবাসা কোথায়? কোন অধিকারে তুমি তাদের ভালোবাসা তুচ্ছ করছো? এতোদিন ধরে কোলে পিঠে, খেয়ে না খেয়ে তোমাকে মানুষ করেছে তারা। সেই ভালোবাসাকে তুমি কীভাবে অস্বীকার করছো? কোন ভালোবাসা পায়ে ঠেলে কোন ভালোবাসার জন্য ঘর ছাড়ছো তুমি? ভালোবাসার কিছু বোঝো তুমি? ভাইয়া, একবার ভাবো তোমার বোনের সাথে যদি কেউ এমন করতো, তোমার বোনকে যদি কেউ এভাবে “খেয়ে ছেড়ে দিতো” বা তোমার মেয়েকে যদি কেউ ব্যবহার করে, তোমার কেমন লাগবে? তুমি মেনে নিতে পারতে? জানোয়ারটাকে খুন করে ফেলতে না? তুমি কি চাইবে তোমার বোন কোনো ছেলের সাথে বিছানায় যাক? তাহলে কীভাবে আরেকজনের আদরের মেয়ে, আরেকজনের বোনের সাথে তুমি এমন করার কথা চিন্তা করো? দেখো, তোমাদের এই বয়সটাতে আসলে সংসার জগৎ সম্পর্কে তেমন ধারণা থাকে না। তোমরা ভাবো যে অনেক বড় হয়ে গেছো, অনেক কিছু বুঝে ফেলেছো; কিন্তু আদতে সংসারের অলিগলি সম্পর্কে তোমাদের ধারণা থাকে প্রায় শূন্যের কোঠায়। প্রেম করা আর বিয়ে করে এক ছাদের নিচে থাকা আসলে এক জিনিস না। তোমার কি মনে হয় রোমিও-জুলিয়েট বা লাইলী-মজনু ঘর বাঁধার সুযোগ পেলে রূপকথার মতো সুখে শান্তিতে বসবাস করতো? বিয়ের পাঁচ বছর পর বা দুই বাচ্চার মা হবার পর বিয়ের আগে প্রেম করা অবস্থায় তারা যেমন জীবনের স্বপ্ন দেখতো তেমন জীবন যাপন করতে পারতো? আচ্ছা বলো তো, বেশির ভাগ নাটক কিংবা সিনেমায় শুধু বিয়ের আগের প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত কেন দেখানো হয়? কেন পরের
অংশ দেখানো হয় না?
একটু খোলাখুলি কথা বলি। সত্য প্রকাশে আসলে লজ্জা করতে হয় না। “একে অন্যকে ছাড়া বাঁচবো না”, “ওকে ছাড়া আমি কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবো না', একদিন না দেখলে পাগলের মতো হয়ে যাওয়া (হালের আঁতেল সাহিত্যিকরা যাকে “তোমাকে দেখার অসুখ" হিসেবে ব্যাখ্যা করে), এক ঘণ্টা ইনবক্সে আপডেট না পেলে অস্থির লাগা-এসব কিছুর পেছনেই শরীরের রহস্য একটা বড় ফ্যাক্টর।
বিয়ের আগে একজন অপরকে পরিপূর্ণরূপে আসলে পায় না।* একটা রহস্য, একটা রোমাঞ্চ থেকেই যায়। বিয়ের পর এই রহস্যের জট আস্তে আস্তে খুলতে থাকে। মাথা ঠাণ্ডা হয়। কৌতূহল মিটে যায়। সেই সাথে কমতে থাকে আগেকার আবেগ- অনুভূতিগুলোর তীব্রতা। পাশাপাশি বিয়ের আগে প্রায় সকল মনোযোগ (Farge থাকে একটা ইচ্ছাকে কেন্দ্র করে-“ওকে আমার বউ বানাতেই হবে' বা “ওকে আমার স্বামী করতেই হবে'। বিয়ের পরে তো এ ইচ্ছা পূর্ণ হয়ে যায়। শরীরের রহস্য উন্মোচিত, নিজের তীব্র ইচ্ছাও পূর্ণ... মোহ, আবেগ কমে যায়, একসময় একেবারে হারিয়েই যায়। মোহের চশমা খুলে তখন বাস্তবতার চোখে পরিষ্কারভাবে সব কিছু দেখা শুরু হয়। বাসা থেকে পালানোর সময় সঙ্গে করে কিছু টাকা, স্বর্ণের গহনা ইত্যাদি নিয়ে যাবে হয়তো। কোনো IF, আত্মীয় বা হোটেলে উঠবে। কয়েকদিন পর যখন আত্মীয়ের বাসায় আর থাকা সম্ভব হবে না, বা টাকা ফুরিয়ে যাবে তখন ভালোবাসাটাও আস্তে আস্তে ফুরাতে শুরু করবে।
ভাইয়া, প্রেম করার সময় বাপের হোটেলে খেতে তুমি। টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করা লাগতো না, এখন টাকা কামানোর জন্য তোমাকে পরিশ্রম করতে হবে। অনেক অড় জব করতে হবে। একদিন হয়তো ভালো লাগবে, দুইদিন হয়তো মনে হবে যে, তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষের জন্য কষ্ট করছো, আত্মতৃপ্তি আসবে...কিন্তু কিছুদিন পর পরিশ্রমের ধকল সামলাতে পারবে না।
আপু, বাসায় থাকতে হয়তো তুমি জীবনেও রান্নাঘরের চৌকাঠেও পা রাখোনি, খাবার জন্য হয়তো বিছানা থেকেও নামোনি, বিছানাতে খাবার দিয়ে গেছে। তোমাকে এখন কালিঝুলি মেখে রান্না করা লাগবে, হয়তো বস্তি টাইপের বাসায় থাকা লাগবে। ঘরের সব কাজ করা লাগবে। একদিন দুইদিন ভালো লাগলেও বেশিদিন এমন জীবন যাপন সহ্য করতে পারবে না। তোমাদের আগে যে লাইফস্টাইল ছিল, যে খাবার দাবার, পোশাক-পরিচ্ছদে অভ্যস্ত ছিলে, সেটা আর পাবে না। অনেক, অনেক, আবারো বলি, অনেক সংগ্রাম করতে হবে। সংসারে অভাব অনটন আসবে। অতিরিক্ত পরিশ্রমের
কারণে শরীরে ক্লাস্তি আসবে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে। শুরু হবে সংসারে অশান্তি, গণুগোল, মারামারি! এখান থেকেই শুরু হবে বিচ্ছেদের পথ! দেখো, মানুষের অন্তর শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকাকে ভালোবেসে বা ভালোবাসা পেয়ে সম্ভষ্ট হতে পারে না। আল্লাহ মানুষকে এভাবে বানাননি। মানুষের অন্তরে বাবা, মা, ভাই, বোনের জন্য ভালোবাসার একটা স্থান আছে। এই ভালোবাসা অন্য কিছু দিয়ে পূরণ হবে না। খালিই থেকে যাবে। পরিবার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে পালিয়ে গিয়ে তুমি ভালোবাসার এই স্থানটা অপূর্ণ রেখে দিচ্ছে। মোহ কেটে যাবার পরপরই হৃদয়ের এই অপূর্ণ স্থান থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হবে তোমার। বিশেষ করে সংসারের প্রকৃত নির্মম, কঠোর বাস্তবতা তোমার সামনে এসে হাজির হবার পর। মানুষের জীবনে পরিবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে নিজেকেই আল্লাহর আসনে বসানো পাশ্চাত্য সভ্যতা পরিবারকে টুকরো করতে করতে এখন “নাই” করে ফেলেছে। এতে ভেঙে পড়েছে তাদের জীবন ব্যবস্থা। হতাশা আর চরম অবসাদে ভুগে নিজেদের ভূল বুঝতে পারলেও দেরি হয়ে গিয়েছে। সুপারসনিক গতিতে তারা এগুচ্ছে পতনের Eis বাসার আরাম আয়েশ, বাবা-মার আদর ভালোবাসার কথা বারবার মনে পড়তে থাকবে তোমার। প্রতিবার টাকার অভাবে পড়লে, কাজের কঠোর পরিশ্রমের সময় তোমার মনে পড়বে বাবার কথা, বড় ভাইয়ের কথা...ইশ! তারা যদি থাকতো, এভাবে মানুষের ঝাড়ি খেয়ে কাজ করা লাগতো না সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য। ইশ! তারা থাকলে আমাকে টাকার জন্য এতো চিন্তা করা লাগতো না! দুপুরে বা রাতে খেতে বসে তোমার বারবার মনে পড়বে বাসার সেই মজার খাবারগুলোর কথা। মা আদর করে, যত্ন করে তোমাকে খাওয়াচ্ছেন। মনে হবে ভাইয়ের সাথে খুনসুটি, দুষ্টমির কথা। বোনের কপট শাসন, রাগের কথা। হয়তো ভীষণ ভাবে মিস করবে বাড়ির বেড়াল, পাশের বাসার ফোকলা দাঁতের পিচ্চি বা ছক্কা হাঁকানো সেই ক্রিকেট মাঠ, অথবা বাড়ির সামনের বকুল গাছটার কথা। অতীত স্মৃতির ডালপালা সাজিয়ে হাজির হবে ঈদের দিনগুলো। এক অদৃশ্য কারাগারের কয়েদি মনে হবে নিজেকে। চোখ ভিজে যাবে জলে। এই হাহাকার, অভাব-অনটন, পালানোর পরে দুজনে একসাথে রূপকথার মতো সুখী জীবন যাপনের স্বপ্ন মিথ্যে হয়ে যাওয়া, ঝগড়া, অশাস্তি-সবকিছুর জন্য তখন দায়ী মনে হবে ওকে। অভিযোগের আঙুল উঠে যাবে সেই মানুষটার দিকে যার জন্য তুমি বাকি সব কিছুকে, বাকি সবাইকে তুচ্ছ করেছিলে। তখন তোমার মনে হবে-ওর জন্যই আমার আজকে এই অবস্থা!
অনেকেই হয়তো ভাবে, পালিয়ে গিয়ে বিয়েটা একবার করে ফেললেই বাবা-মা মেনে নিতে বাধ্য হবে। বিয়ে যেহেতু করেই ফেলেছে এখন তো আর কিছু করার নেই মেনে নেওয়া ছাড়া। মানসম্মান আরো বেশি হারানোর ভয়ে মেনে নেবে, বা একটা বাচ্চা হয়ে গেলে নাতিনাতনীর মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা-মা আর রাগ করে থাকতে পারবে না। এটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্যি। তবে সবসময় যে এমন হয়, তা না। আর উপরে উপরে মেনে নিলেও আজীবন বাবা-মা'র মনে আক্ষেপ থেকেই যায়। সন্তান পালিয়ে গিয়ে মানসম্মানের যে ক্ষতি করেছে, যে কষ্ট দিয়েছে, বাবা-মা'র উপর প্রেমিক/প্রেমিকাকে প্রাধান্য দেবার বিষয়টা সবার সামনে প্রমাণ করেছে-এই বিষয়গুলো তারা ভুলতে পারেন না। মন থেকে মেনে নিতে পারেন না। একটা অনক্িক্রম্য দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় সন্তানদের সাথে। দু'আ, ভালোবাসা, আদর, মায়ামমতার সুতো আলগা হয়ে যায়। মনে হয় বাবা-মা আর সন্তানদের নিয়ে একটা ধারাবাহিক নাটক চলছে। সবাই যে যার ভূমিকায় সুনিপুণ অভিনয় করে চলেছে। কিন্তু বাইরে থেকে সবকিছু দেখলে স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুই স্বাভাবিক থাকে না। সুখ থাকে না।
আর এভাবে উপরে উপরে মেনে নিতেও যে সময়টা লাগে এই সময়ের ভেতরেই সংসারের গুঁতা খেয়ে হালুয়া টাইট হয়ে “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি' টাইপের অবস্থা হয়ে যায়। FOR গণ্ডায় মিটে যায় বিয়ের শখ। প্রেমিক, প্রেমিকাকে ছেড়ে পালায় বা ডিভোর্স হয়ে যায়।
তিন.
শিউলি আপা আর আপন ভাইয়ের সংসার সুখের হয়নি। আপন ভাই বেকার ছিল। কাজকর্ম করার ব্যাপারে তার তেমন কোনো গরজ ছিল না। ফুটবল আর ক্যারাম খেলা নিয়েই পড়ে থাকতো। সংসারে অভাব আসলে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়- সেই পুরোনো প্রবাদটা আবারো তার সত্যতা জানান দিলো। ছ'মাস না পেরুতেই ঝগড়া, অশান্তি, অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেল শিউলি আপার সংসারে। কিছুদিন পর একটা মেয়ে হলো আপার। মেয়েকে দুধ কিনে খাওয়ানোর পয়সা পর্যন্ত ছিলো না। না খেয়ে খেয়ে বাচ্চাটার কঙ্কাল বের হয়ে যাবার অবস্থা! শিউলি আপা অনেক রূপবতী ছিলেন। উনার অবস্থাও সহ্য করার মতো না। সংসারের কাজের চাপে, উপোস, আধপেটা খেয়ে খেয়ে, বাচ্চা হবার ধাক্কা সামলানোর মতো অবস্থা ছিলো না তার শরীরের। শরীর ভেঙে পড়ে। চোখের নিচে জমে চিরস্থায়ী গ্লানির কালি। মেয়ে আর নাতনির অবস্থা দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বকুল কাকুরা সম্পর্ক মেনে নেন। সাধ্যমতো সাহায্য করতে থাকেন। তবে সুদিন আর ফেরেনি।
হতাশায় ভুগে আপন ভাই গাঁজার নেশায় ডুব দিলো। বাপের কাছ থেকে মেয়েকে দুধ কিনে দেবার কথা বলে টাকা নিতো। তারপর চিপায় বসে দিনরাত গাঁজা টানতো। মাঝে মাঝে বিকেলে মাঠে গিয়ে ফুটবল শটাতো।
এভাবেই চললো বেশ কয়েক বছর। ততোদিনে অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছি। প্রাইমারি শেষ করে অন্য এলাকার স্কুলে ভর্তি হয়েছি। একদিন খবর পেলাম, আপন ভাইয়া হসপিটালে ভর্তি। শিউলি আপার সাথে রাগারাগি করে কীটনাশক খেয়েছে কয়েক বোতল। তিনদিন দুইরাত হসপিটালে ভর্তি ছিলো সে। তারপর হসপিটাল থেকে ছুটি মেলে তার। তবে বাড়ি ফেরা হয় না। ঠাঁই হয় পুরোনো এক অশ্বখ গাছের নিচে। কবরে। শুনেছিলাম, শিউলি আপার পরে অন্য এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। পরের কোনো খবর আর জানি না। জানার ইচ্ছেও হয়নি কোনো দিন। বকুল কাকুদের খুব সুখের সংসার ছিল। শিউলি আপার ঘটনায় একেবারে ছারখার হয়ে গেল সব। শিউলি আপা পালিয়ে বিয়ে করার কারণে পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে অনেক বাঁকা কথা শুনতে হলো তাদের। গ্রামে যারা থাকেনি, তাদের আসলে বলে বোঝানো যাবে না-এ ধরনের ঘটনাগুলোর কারণে কী ধরনের কথা শুনতে হয়। তবে এখানেই থেমে থাকেনি শিউলি আপার ঘটনার চেইন ইফেক্ট। শিউলি আপার একটা ছোট বোন ছিল। ধরি, তার নাম রূপা। আমার চাইতে বছর দুয়েকের বড়, যা মনে পড়ে। অসম্ভব রূপবতী। রূপবতীদের রূপের ধার আশপাশ তছনছ করে দেয়। তার বেলাতেও ব্যতিক্রম ছিল না। সে হেঁটে গেলে পাড়ার ক্রিকেট ম্যাচ থেমে যেতো। একটু লাজুক, গুডবয় টাইপের ছেলেরা আফসোস ভরা দীর্ঘশ্বাস ফেলতো। পেকে যাওয়া ছেলেরা শ্রবণ অযোগ্য এমন সব কথা বলতো যা সভ্য সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। শিউলি আপার ঘটনার কারণে এই মেয়েকে নিয়ে খুব ভয় করতো বকুল কাকুরা। আরেকবার অমন কিছু হলে সেই শোক সহ্য করার মতো শক্তি ছিলো না তাদের। রূপাকে খুব কড়া শাসনে রাখতো, একেবারে চোখে চোখে। “শাসন ভালো, তবে এতো কড়া শাসন ভালো না। বিশেষ করে মেয়েদের। শিউলির মতো কিছু করার মেয়ে না রূপা। অসম্ভব পার্সোনালিটি ওর”-আমার বাবা, কাকুকে মাঝে মাঝে বোঝাতো। কিন্তু কাকু বুঝতে চাইতো না। বাবা ঠিকই বলেছিলেন। শিউলি আপার মতো কিছু করেনি রূপা। তবে যা করেছে তা আমরা কেউই ভাবতে পারিনি। এসএসসির পর শহরে একা একা পড়তে আসতে চাইলো রূপা। অজানা আশংকায় কেঁপে উঠলো বকুল কাকুরা। বেঁচে থাকার অবলম্বন রূপাকে একা ছাড়তে চাইলো না। কিন্তু রূপা শহরে পড়বেই। কোনো কথা শুনতে চায় না। প্রায়ই এ নিয়ে রূপার অভিমান, ঝগড়া, অশান্তির খবর শোনা যেতো। বকুল কাকুরাও কড়া শাসন করতো। মে মাসের এক সন্ধ্যায় লোডশেডিং এর ঠেলায় অতিষ্ঠ হয়ে ছাদে উঠবো কি না ভাবছি। এমন সময় বাবার ফোন আসলো -
“রূপাকে চিনিস না তুই? ও গলায় দড়ি দিয়েছে! বকুলের সাথে ঝগড়া FE
রাস্তায় বকুল কাকুর সাথে দেখা হয় হঠাৎ হঠাৎ। প্রতিবারই ভাবি-ইশ, কেন যে দেখা হলো! একসময়ের হাসিখুশি, গোলগাল বকুল কাকু এখন একেবারেই চুপচাপ, নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। মাথার চুল পেকে গেছে। হাঁটেন মাথা নিচু করে, কুঁজো হয়ে। অচেনা আগন্তক কেউ দেখলেও চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারবে-জীবনের ঘাটে ঘাটে মার খেয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে এই লোক। হারানোর আর কিছুই নেই তার। “কাকু কেমন আছেন? -প্রতিবার এই প্রশ্নের উত্তরে চোখ তুলে আমার দিকে তাকান। কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে শূন্য চোখে চেয়ে থাকেন। যেন চেনার চেষ্টা করছেন আমি কে! তারপর স্নান হেসে বলেন, “আচ্ছা কাকু, তুমি! হ্যাঁ আছি ভালোই, এইতো চলছে যেমন চলার”
তারপর আবার আগের মতোই কুঁজো হয়ে, মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করেন। বিড়বিড় করেন কী যেন। যতক্ষণ দেখা যায় আমি তাকিয়ে থাকি। বহু বছর আগের বৃষ্টিভেজা আকাশের নিচে আমাদের দক্ষিণের দরজায় দাঁড়ানো সদ্য সন্তান হারিয়ে ফেলা এক পিতার কলজে চেরা হাহাকার, আমার কানে বাজে। মনে হয় মহাকাব্যিক কোন ট্র্যাজেডির শেষ দৃশ্য মঞ্চস্থ হচ্ছে আমার সামনে!
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[৫৭] ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য সবার নাম বদলে দেওয়া হলো। বাকি ঘটনা সত্য। [৫৮] শিউলি আপা আর আমার বোন একই ক্লাসে পড়তো। [৫৯] বিয়ের প্রলোভনে হোটেলে নিয়ে চার বন্ধু মিলে ধর্ষণ, dhakamail.com, মার্চ ০৮, ২০২২- tinyurl.com/bryx2ftp [৬০] প্রেমিককে বিয়ে করতে গিয়ে সিএনজি চালকের হাতে ধর্ষিত Feil, gmnewsbd, নভেম্বর ২১, ২০১৭- tinyurl.com/m6k8Sawy [৬১] ৪-৫ জন মিলে কিশোরী প্রেমিকাকে ৩৪ দিন ধরে ধর্ষণ, উদ্দেশ্য ছিল পাচারের, 16%5২৪৮৫০. tv, অক্টোবর ২২, ২০২ ১- tinyurl.com/bdhanjz9 [৬২] লালমনিরহাটে মুসলিম কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচার করে এক হিন্দু কিশোর। ভারত থেকে সেই কিশোরীর হৃদয়বিদারক কান্না দেখে স্থির থাকা কঠিন- SK media ইউটিউব ভিডিও, Aug ১২, 033-tinyurl.com/24v9tsft jamuna Tv ইউটিউব ভিডিও, Aug ১২, ২০২২০ tinyurl.com/mur9sxam প্রেমিককে বিয়ে করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, বাংলাভিশন, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ tinyurl.com/ya3hurjb বিয়ের আশ্বাসে বন্ধুর সাথে হোটেলে উঠে গণধর্ষণের শিকার তরুণী, হোটেল ম্যানেজারসহ গ্রেফতার ৬, 8ghonta.news, অক্টোবর ১২, ২০২০- tinyurl.com/muec63ar ১৩ ধর্ষণ গণধর্ষণ, দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম, জুলাই ৯, 2082 -tinyurl.com/msxv57n9 [৬৩] শুধু বাংলাদেশ না, ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতেও ধর্ষণের ঘটনার রিপোর্ট খুবই কম হয়। সামনে আলোচনা হবে 3 শা আল্লাহ। [৬৪] ধর্ষণের বিচার না পাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বাবার আত্মহত্যা!, ntvbd.com, এপ্রিল ২৯, ২০১৭- tinyurl.com/2mm49zjs তুমি একবার কি বোঝার চেষ্টা করবে তোমার সম্মান তোমার বাবা, ভাই বা পরিবারের বাকি সদস্যদের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ? [৬৫] যদি যিনা-ব্যভিচারে না জড়ায়, বা অল্প কয়েকবার জড়ায়। আর যারা বিয়ের আগেই ফুলটাইম স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবন যাপন করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ের পরপরই তাদের সম্পর্কের বারোটা বেজে যায়। [৬৬] সামনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে ইন শা আল্লাহ।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।