পুড়ে যাবে তুমি
রূপকথার স্নো হোয়াইটের সেই আয়নার গল্প পড়েছে! না? এঁ যে জাদুর এক আয়না ছিল এক রাণীর কাছে। আয়নাকে জিজ্ঞাসা করতো সে রোজ নিয়ম করে- বলো তো, পৃথিবীর সবচেয়ে রূপবতী কে? আয়না উত্তর দিতো, আপনিই সবচেয়ে বেশি সুন্দরী। আয়নার এই উত্তর শুনে আনন্দ আর পরিতৃপ্তির হাসি যেন উপচে পড়তো রাণীর চোখে। এভাবেই চলছিল দিন। কিন্তু একদিন দিন বদলে গেল। আয়না হঠাৎ বলে বসলো, না রাণী মা, আপনি না। সবচেয়ে রূপসী হলো স্নো হোয়াইট। রাগে ফণা তোলা সাপের মতো ফুঁসে উঠলো রাণী। বিষাক্ত সাপের মতো হিস হিস কণ্ঠে নির্দেশ দিলো অল্লাদকে- স্নো হোয়াইটকে নিয়ে যাবে গভীর বনে। হত্যা করে প্রমাণ স্বরূপ তার কলিজা নিয়ে আসবে আমার কাছে! মেয়েরা আসলে এমনই! নিজের রূপের প্রশংসা শুনতে ভালোবাসে। একজন মেয়ের সামনে অন্যের প্রশংসা করলে ঈর্যাবোধ Ogee মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। রূপবতী কোনো মেয়ে সেজেগুজে আসলে অপর রূপবতী নিজের সাথে তুলনা করা শুরু করে...ওর নাকটা আমার চাইতে বোঁচা, ওর চুল দেখে তো মনে হচ্ছে ঘোড়ার লেজ, হাইটে আমার চাইতে কয়েক ইঞ্চি ছোট! ত্বকের, চুলের এতো যত্ন, ড্রেসিং টেবিল ভর্তি এতো সাজগোজের পণ্য, এতো মেকআপ টিউটোরিয়াল দেখা, নিত্য নতুন পোশাক, ফেইসবুক বা ইন্সটাগ্রামে একটার পর একটা ছবি দেওয়া, ইউটিউব বা টিকটকে শর্ট ভিডিও...এসব কিছু অন্যের একটু মনোযোগ আকর্ষণ, মিষ্টি কিছু প্রশংসা, বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া কিছু মুখ দেখে সুখ পাওয়ার জন্যই তো, তাই না? আপু, তুমি হয়তো শুধু এসব ভেবেই ছবি-ভিডিও দাও, রাস্তায় সাজগোজ করে বের হও। কিন্তু ছেলেরা শুধু এটুকুই ভাবে না। আলকেমি লেখাতে আমরা দেখেছি ছেলেরা সুন্দরী, সাজগোজ করা মেয়েদের দেখলে দৈহিক আকর্ষণবোধ করে। সোজা বাংলায় বললে, শুতে চায়। শোবার কথা চিন্তা করে। ছেলেরা সৃষ্টিগতভাবেই এমন। এটাই তাদের সহজাত প্রবৃত্তি। তোমাকে তো আর সরাসরি শোবার কথা বলতে পারে না। তাই কৌশলের আশ্রয় নেয় এবং সেই কৌশলও আবর্তিত হয় সেই প্রশংসাকে কেন্দ্র করে। অন্তহীন প্রশংসা করে তোমার। শ্রুতিমধুর নিখুঁত মিথ্যার বন্যা বইয়ে দেয়। এরই
মাঝে তোমার জন্য ফাঁদ পাতে। প্রশংসা পেয়ে গলে যাওয়া তুমি টেরই পাও না কী আসতে যাচ্ছে সামনে। ধাপে ধাপে কৌশলগুলো দেখা যাক: ধাপ ১: তুমি না অমুক সেলিব্রেটির মতো (ree!!! তুমি কি জানো তার চাইতেও অনেক সুন্দর তুমি... এমন ধরনের কথা বার্তা বলবে। বর্তমান সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থায় সেলিব্রেটিদের একরকম পূজাই করা হয়। কাজেই অন্যের মুখে সেলিব্রেটিদের সাথে নিজের রূপের তুলনা শুনে মেয়েরা আহ্লাদে একেবারে আটখানা হয়ে যায়। ধাপ ২: তুমি না অনেক হট, একদম অমুক সেলিব্রেটির মতো, তোমার ফিগারটা সেই! দূর থেকে দেখলে তো বুঝাই যায় না যে তুমি হেঁটে যাচ্ছো, না অমুক সেলিব্রেটি হেঁটে যাচ্ছে-এরকম প্রশংসা দিয়ে শুরু হয় এই ধাপ। আগের ধাপের মতোই মেয়েরা এমন প্রশংসাতে অনেক খুশি হয়। আসলে এই ধাপ থেকেই প্রশংসা একটু একটু গ্রাফিক, একটু খোলামেলা হতে থাকে। মেয়ের প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে সে ঠিক করে কতোটা খোলামেলা কথা সে বলবে। মেয়ে রেগে গেলে বা রেগে যাবার ভান করলে, সে সাবধানে খেলবে। সময় নেবে। আর যদি খুশিতে গদগদ হয়ে যায় প্রশংসা শুনে, তাহলে আরো বেশি খোলামেলা কথা বলবে। কিন্তু যেহেতু সেলিব্রেটি আ্যাঙ্গেলটা থাকছেই মানে বাজে অশ্লীল কথাগুলো সরাসরি সেগুলো না বলে সেলিব্রেটিদের সাথে তুলনা করে বলছে, কাজেই মেয়েরা তেমন একটা রাগ করে না। খুশি হয়। ধাপ ৩: সেক্সের প্রস্তাব দেবার চুড়ান্ত ধাপ এটা। আগের দুই ধাপ সফলতার সাথে শেষ করে আসায় যথেষ্ট খোলামেলা কথাবার্তাও গা সওয়া হয়ে যায়। এবারে ছেলেরা বলা শুরু করে- জানো অমুক সেলিব্রেটির শরীরের কথা (হিপ,বুক) মনে হলে আমি নিজেকে সামলাতে পারি না, তুমিও তো তার মতোই দেখতে...তুমি এতো হট কেন? তোমাকে দেখলে আমার নিজেকে কন্ট্রোল করতে অনেক কষ্ট হয়, আমাকে এভাবে কষ্ট দেবার জন্য তোমার অনেক পাপ হয়, তুমি কি জানো সেটা? গতরাতে অমুক নায়িকার একটা আইটেম সং দেখছিলাম, তোমার কথা মনে হচ্ছিল বারবার... *১১৷ এর চেয়েও আরো অনেক “সাহসী” কথা বলে অনেকে। তবে সবসময় চেষ্টা করে সেলিব্রেটি আ্যাঙ্গেল আর প্রশংসা ধরে রাখতে। প্রশংসার মুগ্ধতার মায়াপাশে বন্দী হয়ে মেয়েটি কখন যে বিছানায় গিয়ে উঠে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়টিই হারিয়ে ফেলে, তা বুঝতে পারে না।
আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। মেয়েদের কীভাবে পটাতে হয়, মেয়েদের সাথে কীভাবে ফ্লার্ট করতে হয়-এমন অসংখ্য অনলাইন কন্টেন্ট পাবে। সেখানে দেখবে সবাই একটা কথাই বলছে- মেয়েদের প্রশংসা করো। আমরা খুব ভালো বন্ধু, ও আমাকে অনেক সাহায্য করে, ও তো আমার জাস্ট ফ্রেন্ড, ও আমার ভাইয়ের মতো, আমাদের মন তো পবিত্র-এসব ফালতু কথা। তোমার মনে হয়তো কিছু আসে না, কিন্তু ছেলেদের মনে অনেক কিছুই আসে, আপু। দু'জন নারী পুরুষ মিশবে, পাশাপাশি বসে ক্লাস করবে, একই রিকশায় বসবে, হাত ধরাধরি করবে, সংস্কৃতি চর্চার নামে রাতবিরাতে ক্যাম্পাসে ঘুরবে, ট্যুরে যাবে, রসালো মজার আলোচনা করবে আর মনে কিছু আসবে না-এমন দাবি কেউ করলে হয় সে মিথ্যা বলছে অথবা তার ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন। তোমাকে ভেবে, তোমার ছবি দেখে সে মাস্টারবেট করে, পর্ন দেখে। ও তোমাকে সাহায্য করে কারণ এর মাধ্যমে সে তোমাকে পটিয়ে প্রেম করতে চায়। তোমার শরীরটা চায়। আর এমন মানুষদের হাতে ধর্ষণের অসংখ্য উদাহরণ তো আমরা পুরো বই জুড়েই দিয়ে আসলাম।'** তুমি একটু যদি ভালোমতো খেয়াল করো-তার তাকানো, তার স্পর্শ, কথাবার্তা তাহলেই বুঝতে পারবে। তুমি যদি জানতে ছেলেরা তোমাকে নিয়ে কী ভাবে, তোমাকে কীভাবে দেখে, তাহলে তুমি হয়তো নিজেকে নিরেট লোহা দিয়ে ঢেকে রাখতে। নারী এবং পুরুষ হলো বারুদ ও ম্যাচের মতো। একসাথে থাকলে আগুন লাগবেই। আল্লাহ এভাবেই আমাদের সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন আমাদের সম্পর্কে। তাই তিনি নারী-পুরুষের সহাবস্থান নির্জনে ও সামাজিক সেটআপে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। বলেছেন পর্দা করতে। দৃষ্টির হিফাযত করতে। নারীদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলছেন, “আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলি যুগের প্রদর্শনীর মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে «fee! “যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুত্ধ 27°!
রাসূলুল্লাহ (*) বলছেন, “আমি আমার পর জনগণের মাঝে পুরুষদের জন্য মেয়েদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর আর কোনো ফিতনা ছেড়ে যাচ্ছি না।”'*1 “নারীদের (ফিতনা) থেকে বাঁচো। কারণ, বনী ইসরাঈলদের প্রথম ফিতনা নারীদের মধ্যেই সৃষ্টি ze) le] তিনি আরো বলছেন, “কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না, তবে জেনে রাখবে এমতাবস্থায় তাদের সাথে তৃতীয়জন হলো শয়তান” আল্লাহ তা'আলা পুরুষ সাহাবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-দের উদ্দেশ্য করে বলছেন, “তোমরা তাঁর পত্ন্নীদের কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য বেশি “fq lee! রাসূলুল্লাহ (৯) এর সম্মানিতা স্ত্রী, আমাদের আম্মাজান, যাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের ঈমানের দাবি, তাঁদের ব্যাপারেই পুরুষ সাহাবীদের জন্য এমন আয়াত নাযিল করেছেন আল্লাহ তা'আলা। নবী রাসূলদের পর সবচেয়ে ধার্মিক মানুষ হলেন সাহাবীরা! তাহলে তোমার আমার মতো সাধারণ নারী পুরুষের সহাবস্থানের ক্ষেত্রে কী হতে পারে? শাইখ ইবনু বায ও শাইখ ইবনু উসাইমীন রাহিমাহুমাল্লাহ নারী-পুরুষের দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান সংক্রান্ত বিবিধ আলোচনায় বলেছেন, নবী (৯) -এর যুগে নারীগণ পুরুষদের সাথে সহাবস্থান করতেন না, মসজিদেও না, আর বাজারেও না। নবী (») -এর মসজিদে নারীরা পুরুষদের পেছনে, পুরুষদের শেষ কাতারের পরের কাতারে সালাত আদায় করতেন এবং তিনি নারীদের প্রথম সারি বা কাতারের সাথে পুরুষদের শেষ কাতারের ফিতনার আশঙ্কা থেকে Toh করার জন্য বলতেন: “নারীদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো শেষ কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের প্রথম কাতার, আর পুরুষদের সর্বোত্তম কাতার হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের শেষ কাতার।”[১১! আর নবী (৯*)-এর যুগে পুরুষদেরকে (মসজিদ থেকে) প্রস্থানের সময় বিলম্ব
করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হতো, যাতে নারীগণ প্রস্থান করতে পারে এবং মসজিদ থেকে তারা এমনভাবে বের হতে পারে যাতে মসজিদের দরজায় তাদের সাথে পুরুষগণ মিশতে না পারে। রাস্তায় পথ চলার সময় পরস্পরের মাঝে সংস্পর্শের দ্বারা ফিতনার আশঙ্কা থেকে সাবধান ও সতর্ক করার জন্য নারীদেরকে রাস্তাজুড়ে চলতে নিষেধ করা হতো, রাস্তার প্রান্তসীমায় চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হতো অথচ তাঁরা পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে সকলে ঈমান ও তাকওয়ার যে মানে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, সে হিসেবে তাদের পরবর্তীগণের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত?” ইবনুল জাওযী (রহ.) যেমনটা বলছেন, “রোগ সারানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই সব থেকে উত্তম। প্রথম পর্যায়ে করণীয় হলো বিবাহ বহির্ভূত দুই নারী পুরুষের নির্জনে দেখা সাক্ষাৎ না করা ও কথাবার্তা না বলা।” Lo] কাজেই প্রেম-যিনা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের অবশ্যই প্রকাশ্য এবং গোপন ফ্রি- মিক্সিং থেকে বাঁচতে হবে। পর্দা করতে হবে, দৃষ্টির হিফাযত করতে হবে।
দুই.
যে স্যারের প্রাইভেটে বা কোচিং-এ মেয়েরা থাকে সেই স্যারের প্রাইভেট বা কোচিং জমজমাট হয়- এমনটা আমরা দেখে আসছি সেই ছোটবেলা থেকেই। অধিকাংশ প্রেমেরই সূচনা হয় এভাবে সহশিক্ষা (কো-এডুকেশন) থেকে। তাই স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, কোচিং- সবকিছু বয়েস অনলি বা গার্লস অনলি রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করো। কো-এডুকেশনের চাইতে ছেলে মেয়ে আলাদা আলাদা থাকলে পড়াশোনাও ভালো হ্য়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চোখের হিফাযত করা, ফ্রি-মিক্সিং এড়ানো আসলে তোমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। তোমাদের জন্য কিছু টিপস:
১। রলাসে কখনোই বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে বসবে না; কেউ পাশে এসে বসলে,
উঠে অন্য বেঞ্চে চলে যাবে।
২। বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে কথা বলবে না, নাম জিজ্ঞেস করারও দরকার নেই।
কেউ কথা বলতে আসলেও যেনো তোমার ভাবভঙ্গি দেখে বুঝতে পারে, তুমি কথা বলতে আগ্রহী না। বিপরীত লিঙ্গের কাউকে ফ্রেন্ডলিস্টে রাখবে না। কেউ মেসেজ দিলেও সিন করবে না। গ্রুপ স্টাডি করবে না।
৩। পর্দা ছাড়া বা পর্দাসহ ছেলে মেয়ে ছবি তোলা পর্দার খেলাফ এবং শরীয়াহর সীমানা
বহির্ভূত মেলামেশা। পর্দা করেও ছেলেমেয়ে একসাথে ছবি তোলা যাবে না। আপুরা, তোমরা বান্ধবীদের সাথেও গ্রুপ ছবি তুলবে না। কোনো বান্ধবী যদি তোমার সিঙ্গেল ছবিও তুলতে চায়, তুলতে দেবে না। কারণ, এসব ছবির গন্তব্য হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় অথবা তার ফোন থেকে তার ভাই, স্বামী বা অন্য কেউ তা দেখে ফেলতে পারে। অনলাইনে দেওয়া তোমাদের ছবি এডিট করে পর্নসাইট, চটি পেইজে দিয়ে দেওয়ার, FIFE করার লোকের অভাব নেই। আর এটা না হলেও তোমাদের ছবি দেখে অনেকেই সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগে, মাস্টারবেট করে। এটা নির্মম বাস্তবতা। 81 বার্থডে সেলিব্রেশন, র্যাগ ডে বা এরকম অন্য কোনো অনুষ্ঠানের নামে রং মাখামাখি, ছেলে মেয়ের একে অপরের টিশার্টে অশ্লীল মন্তব্য লেখা টাইপ কোনো ধরনের কোনো কাজে অংশগ্রহণ করবে না।
৫। ছেলেমেয়েদের আড্ডায় কখনো অংশ নেবে না, ট্যুর যদি ফ্রি-মিক্সিং এর হয়,
তাহলে যাবে না। ব্যাচ ট্যুরগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেক্স ট্যুরে পরিণত হয়ে গেছে।
৬। বন্ধুত্ব করার আগে যাচাই করে নেবে। কারণ মানুষ তার বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়।
সুতরাং সচ্চরিত্রের মানুষদের সাথেই বন্ধুত্ব করবে। না হলে দেখবে তোমার বন্ধু বা বান্ধবীরাই তোমাকে গুনাহর দিকে ঠেলছে, ফুসলাচ্ছে। ওদের অশ্লীল আড্ডাবাজিতে তুমিও প্রভাবিত হয়ে যাবে। তবে ওদেরকে একদম এড়িয়ে চলবে না। তাদের সাথেও আন্তরিকভাবে একজন শুভাকাঙক্ষী হিসেবে হাসিমুখে কথা বলবে, বিপদে আপদে সবার আগে এগিয়ে যাবে।
৭। ছেলেরা দাড়ি রাখবে, প্যান্ট টাখনুর উপরে রাখবে, পোশাক-আশাকে সুন্নাহ্ মেনে
চলার চেষ্টা করবে। দেখবে ক্যাম্পাসের বা ক্যাম্পাসের বাইরের মেয়েরাও নিজেরাই তোমাকে এড়িয়ে চলছে। উপরের বলা পয়েন্টগুলো মেনে চলা সহজ হবে। আপুরাও শরীয়াহ অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে পর্দা করবে।'*৷ সেক্যুলার সমাজ আর সাংস্কৃতিক
জমিদাররা যতই দাবি করুক- যা খুশি পরবো, এতে সমাজের কী- তাদের এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়, বিজ্ঞান এবং যুক্তিসম্মতও নয়। আর ইসলামসনম্মত তো নয়-ই। মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে, আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে” “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম wey) le) পর্দা করো। জিঙ্গের প্যান্ট আর ফুলহাতা শার্ট পরে শুধু মাথায় স্কার্ফ লাগানোকে পর্দা বলে না। শরীর আঁকড়ে ধরা টাইট গাউন পরে পর্দার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। আশা করি এ বাস্তবতাগুলো তুমি বুঝো। পর্দা করে সব করা যায়-এ ধরনের মুখরোচক স্লোগানের শুদ্ধতা প্রমাণের জন্য পর্দা করে নাচ, গান কিংবা টিকটক করলেও হবে না। পর্দা করার অর্থ শুধু শরীর ঢাকা না। নিজের আচরণ ও কথাকে নিয়ন্ত্রণ করাও পর্দার অংশ। আল্লাহর আইনের ফাঁকফোঁকর খোঁজার চেষ্টা করো না। ইসলামের শিক্ষা ও সীমারেখা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার চেষ্টা করো। ইনশাআল্লাহ ক্যাম্পাসের ভেতরে- বাইরে কোথাও ছেলেরা তোমার কাছে {TE না। রাসূলুল্লাহ (৯) এর বেশ বিখ্যাত একটা হাদীস আছে। তিনি বলেছেন, “দুই প্রকার জাহান্নামি মানুষ আসবে; যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছি না। এক প্রকার হলো, এঁ সব নারী যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকবে। তারা পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোঁপা উটের কুঁজের মতো (উঁচু, যা) এদিক-ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; এমনকি তারা জান্নাতের THIS পাবে না। অথচ, tinyurl.com/2p9rkded হিজাব পরায় ১৮ ছাত্রীকে পেটালেন হিন্দু শিক্ষিকা, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, ইনকিলাব, এপ্রিল ৯, ২০২২- tinyurl.com/2p8rvvys বোরকা পরলে আবার ঢাবিতে পড়ার শখ কেন? ৮ d-journal. com, মার্চ ৩১, ২০ 23 -tinyurl. com/mmuvbmtr
জান্নাতের FIT ৫শ” বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা JIL! হাদীসটির অর্থ ভালোমতো বুঝে নাও। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম নাওয়াউয়ী এবং অন্যান্য বিখ্যাত আলেমগণ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “কাপড় পরেও উলঙ্গ হলো সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরে যে, কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়, অথবা এমন টাইট পোশাক পরে, যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বুঝা যায় অথবা তাদের শরীরের কিছু অংশ আবৃত থাকে আর কিছু অংশ উন্মুক্ত থাকে...” “তারা পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে'- এর ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেছেন, “তারা এমনভাবে সাজসজ্জা করবে, হাঁটাচলা করবে, এমন আচার-আচরণ করবে, যাতে অপরিচিত আগন্তক পুরুষদের আকৃষ্ট করা যায়। প্রলুন্ধ করা যায়।”(* তোমার আচার-আচরণকে এই হাদীসের আঁতশ কাচের নিচে ফেলে পরীক্ষা করে দেখো। প্রয়োজনে নিজেকে বদলে ফেলো। আপু, কোনোমতেই এমন নারীদের লিস্টে তোমার নাম তুলো না। রাসূলুল্লাহ্ (4) যে কাজগুলোর ব্যাপারে এমন সতর্ক করেছেন সেগুলোকেই নারীবাদী, প্রগতিশীল-সুশীলরা, আজকের এই সেক্যুলার সমাজ জাতে ওঠার, স্মার্ট হবার, নারী স্বাধীনতার, উন্নয়ন আর প্রগতিশীলতার ফিচার বানিয়েছে। আপু, চিনে নাও তোমার শত্রুদের। সাবধান থাকো! এই হাদীসে যে বিষয়গুলোর কথা এসেছে সেগুলোকে কিন্তু কিয়ামতের আলামতের মধ্যে গণ্য করা হয়।
৮। ছেলেরা দ্বীনি ভাইদের সাথে পরিচিত হবে, যোগাযোগ রাখবে। মসজিদে সালাতের
পর যে আমলগুলো হয়- যেমন হাদীস পড়া, কুরআন শিক্ষা করা- এসবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। আপুরাও, দ্বীনি বোনদের সাথে পরিচিত হয়ে একটা শক্ত কমিউনিটির মতো থাকবে। এতে ঈমান আমল টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা যেমন পাবে, তেমনি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে। S| একান্ত বাধ্য হয়ে যদি কখনো বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে কথা বলতেই হয় তাহলে যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকুই কথা বলবে, বেশি স্মার্ট হয়ে ফ্লার্ট করার চেষ্টা করবে না। দৃষ্টির হিফাযত করবে। মেয়েরা কথা বলার সময় হাত নেড়ে নেড়ে কোমল সুরে তিন আলিফ টান দিয়ে ভাইয়া...য়া- বলবে না।।'** কথা সংক্ষিপ্ত রাখবে।
পাশ্চাত্যের ভদ্রতা হচ্ছে কথা বলার সময় চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা। আর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (*) আমাদের ভদ্রতা শিখিয়েছেন এভাবে- কোনো প্রয়োজনে নারী পুরুষের কথা বার্তা হলে পারতপক্ষে চেহারার দিকে না তাকানো। তুমি কোনটা মানবে, সিদ্ধান্ত তোমার।
১০। বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে ল্যাব গ্রুপ, প্রজেক্ট গ্রুপ, আ্যাসাইনমেন্ট গ্রুপ করবে
না। ভদ্র ভাষায় স্যারদের অনুরোধ করবে। অনেকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য কিংবা পড়াশোনা করতে হয় তাই করা- এমন চিন্তাভাবনা থেকে পড়ে। বাংলা, চারুকলা, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান টাইপের বিষয়গুলোর ডিগ্রির জন্য পর্দার মতো ফরজ বিধান পালনে ব্যর্থ হবার ঝুঁকি নেবে কি না, সে ব্যাপারেও একটু গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার মনে হয়।
১১। ক্লাস শেষ হয়ে গেলে সরাসরি রুমে/বাসায় চলে আসবে। ক্যান্টিনে, গাছতলায়,
মাঠে, লাইব্রেরিতে, বারান্দায়, করিডোরে বসে আড্ডা দেবে না।
১২। বিপরীত লিঙ্গের কাউকে টিউশনি করাবে না। টিউশানি করাতে গিয়ে স্টুডেন্ট এর
মা, বোন, ভাই, বাবা (মেয়েদের ক্ষেত্রে) এদের কাছ থেকেও চোখের হিফাযত করতে হবে। টিউশনি করাতে গিয়ে ছাত্রীর সাথে, ছাত্রীর বোন, মা ইত্যাদির সাথে প্রেম, পরকীয়া যিনা, ধর্ষণ এগুলো খুবই সাধারণ ঘটনা। টিউশনি করাতে গিয়ে সটুডেন্টের বাবা-ভাইদের হাতে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটছে। আপুরা খুব সাবধান। স্টুডেন্টকে তুমি ছোট ভাইয়ের মতো মনে করলেও, সে কিছু বোঝে না, তুমি এমন ভাবলেও- তারা আজকাল অনেক কিছুই বোঝে।
যতো টাকাই দিক না কেন আর তুমি যতোই সমস্যায় থাকো না কেন, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো। এই অফার ছাড়লে আল্লাহ্ তোমাকে এর বিনিময়ে আরো অনেক ভালো অফার দেবেন। আমাদের একজন বন্ধু বেশ মোটা টাকার একটা টিউশনির অফার পায়। তিন জন মেয়েকে পড়াতে হবে। বন্ধু রাজি হয়নি। আল্লাহ্ পরে তাকে জীবিকার খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। যখন তুমি আল্লাহর জন্য কোনো জিনিস বিসর্জন দেবে আল্লাহ্ তা'আলা এর চাইতে উত্তম বিনিময় দান করবেন। ১!
ক্যাম্পাসের বাইরেও যেসব জায়গায় চোখের হিফাযত করতে ফ্রি-মিক্সিং এড়াতে পারবে বলে মনে হয় না সেসব জায়গা এড়িয়ে চলো। যেমন-
ক। বিয়েশাদীর ফ্রি-মিক্সিং অনুষ্ঠানে যাবে না। নতুন প্রেমের সূচনা হয় এই অনুষ্ঠানগুলোতে। খ। ভ্যালেন্টাইন্স, পহেলা বৈশাখসহ এ ধরনের অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে প্রয়োজন না পড়লে বাসার বাইরে বের হবে না। গ। মেয়েদের স্কুল কলেজ কোচিং যেসব এলাকায় থাকে সেগুলো এড়িয়ে চলবে। কাপলদের আড্ডা বসে যে রাস্তায়, পার্কে, রেস্টুরেন্টে, কফিশপে- ভুলেও সেদিকের ছায়া মাড়াবে না। বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে যদি কোনো কারণে যাওয়াই লাগে তাহলে এমন সময় বা দিনে যাবে যখন ভিড় কম থাকে। ঘ। লোকাল বাসে দরকার হলে দাঁড়িয়ে থাকবে কিন্তু মেয়েদের পাশে বসবে না। দূরের ভ্রমণে মেয়ের পাশে সিট পড়লে সিট বদলে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সাথে বই রাখবে। পুরো রাস্তা বই পড়বে বা লেকচার শুনবে। ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে আরো ভালো! ঙ। রাস্তাঘাটে চলার সময় মাথা নিচু করে হাঁটবে। মাটির দিকে তাকিয়ে। মেয়েরা পর্দা করলো কি না সে চিন্তা বাদ দিয়ে তুমি নিজের চোখের হিফাযত করার চেষ্টা করবে। আল্লাহকে স্মরণ করবে। উচ্চারণ: 'আল্লাহুন্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্কি ওয়াল আ'”মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।” অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় Big! এ ধরনের বেশ কিছু দু'মা আছে। মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছ থেকে সঠিক উচ্চারণ শিখে মুখস্থ করে নেবে। বেশি বেশি দু'আ করবে। চ। লিফটে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে একাকী উঠবে না। লিফটে মাঝে মাঝেই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় দরজার দিকে সরাসরি মুখ করে থাকবে না। দরজা খুললেই কোনো রূপসীর দিকে তোমার চোখ পড়ে যেতে পারে। দরজার এক পাশে দাঁড়াবে। ছ। ব্যাংক, দোকান, টিকেট কাউন্টার ইত্যাদি স্থানে যেখানে বিপরীত লিঙ্গের মানুষ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। (মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/২৯৯, সহীহাহ ২/৭৩৪) [ovo] তিরমিযী: ৩৫৯১। ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
থাকবে, সুযোগ থাকলে সেখানে না গিয়ে অন্যটাতে যাবে। জ। ভাবী, দেবর, দুলাভাই, কাযিন এদের সাথে আরো কঠোরভাবে পর্দা করবে। ভাবী, দুলাভাই, কাযিনদের সাথে পরকীয়া, প্রেম, যিনা-ব্যভিচার, খুন ধর্ষণের ঘটনা অহরহ ঘটে। ১]
এমন আরো অনেকগুলো বিষয় আছে, কিন্তু মূল পয়েন্ট এগুলোই। আশা করছি একটা ধারণা পেয়েছো।
তিন.
শুধু অফলাইনে না, অনলাইনেও ফ্রি-মিক্পিংয়ের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটকসহ যা যা আছে বিপরীত লিঙ্গের সবাইকে আনফ্রেন্ড করে দেবে। FIR ইত্যাদি যারা আছে তাদেরকেও আন ফ্রেন্ড করে দাও। যদি না-ই পারো তাহলে আনফলো করে দাও, তাহলে তাদের ছবি তোমার ওয়ালে আসবে না। তোমার যেসব বন্ধুরা মেয়েদের ছবি-ভিডিও শেয়ার দেয় তাদেরকেও এভাবে আনফলো করে রাখতে পারো। নাটক-সিনেমার ক্লিপ পোস্ট করা পেইজ, ফিমেইল সেলিব্রেটিদের পেইজ, প্রেমের লুতুপুতু মার্কা বিভিন্ন পেইজ, ক্রাশ এন্ড কনফেশন টাইপ গ্রুপ, চ্যানেল, আইডি সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হবে। কোনোভাবেই বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে যোগাযোগ করা যাবে না।
ফ্রেন্ডলিস্টে এমন কাউকে ফলো করবে না, যারা তাদের প্রেমিকা বা বউ এর সাথে ছবি আপলোড দেয়, চেক-ইন দেয়, খুনসুটির গল্প শেয়ার করে। এগুলো তোমার বুকের বাম পাশের চিনচিনে ব্যথার জন্ম দিতে পারে। ca সিকিং বিভিন্ন গ্রুপে বিপরীত
লিঙ্গের পোস্টে লাইক কমেন্ট করবে না। লাভ রিয়্যাক্ট দেবে না।**খ কেউ জরুরি কিছু জানতে চাইলেও তোমার কমেন্ট করার দরকার নেই। অন্য বোনেরা-ভাইয়েরা আছে, তারা জানাবে। কখনোই বিপরীত লিঙ্গের কাউকে ইনবক্স করবে না। হোক সে আলেম। আপু, তোমার কিছু জানার দরকার পড়লে নারী আলেমদের কাছে যাও বা তোমার মাহরাম পুরুষের মাধ্যমে কোনো আলেমের কাছ থেকে জেনে নাও। বিপরীত লিঙ্গের কেউ মেসেজ করলে রিপ্লাই দেওয়া দূরের কথা, সিনও করবে না। সে যতো বড় আলেম, লেখক বা ফেইসবুক সেলিব্রেটিই হোক না কেন।* ইসলামের ব্যাপারে বিপরীত লিঙ্গের কেউ কিছু জানতে চাইলেও একই কথা ery] দ্বীনি কোনো বিষয়ের উপর অনলাইন কোর্সে ভর্তি হলে অবশ্যই দেখে নিবে সেখানে নারী পুরুষের আলাদা ক্লাস হয় কি না। উস্তাদ বিবাহিত কি না। উস্তাদের স্বীকৃতি আছে কিনা, অন্যান্য আলেম উলামারা তাকে চেনেন কি না। যদি না হয়- তাহলে ভর্তি হবার দরকার নেই। এসব কোর্সে ক্লাস করতে গিয়ে “হালাল প্রেম, শুরু করা মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম না। বাস্তবজীবনে চোখের হিফাযত করো, অনলাইনে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি করো, আবার ইনবক্সে বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের সাথে দ্বীন চর্চা করো, কমেন্ট চালাচালি করো, পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দাও- এটা একধরনের ভণ্ডামি। আত্মমর্যাদাশীল কোনো মানুষের পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব না। আল্লাহর অবাধ্য হয়েই বিপরীত লিঙ্গের সাথে যোগাযোগ শুরু করতে হয়। আর আল্লাহ অবাধ্যতা করে কীসের দাওয়াহ? আল্লাহকে ভয় করো। পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দিলে, কমেন্ট করলে বা ইনবক্সে দ্বীনি মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করলে, এমন আর কী হয়- এ ধরনের প্রশ্ন কেউ কেউ করে বসে। দেখো এগুলো ছোট ছোট আগুনের স্ফুলিঙ্গ। এগুলোই ধীরে ধীরে বিশাল এক আগুন জ্বালিয়ে দেয়। বারসিসার ঘটনা জানো?
RPE ছিল খুব ইবাদাতগুজার লোক। যুদ্ধে যাবার আগে তিন ভাই তাদের একমাত্র বোনকে বারসিসার যিম্মায় রেখে যেতে চাইলো। প্রথমে না করলেও, ভাইদের পীড়াপীড়িতে অবশেষে বারসিসা রাজি হলো। ঠিক হলো বারসিসা থাকবে তার নিজের বাসায়। আর মেয়েটি থাকবে অন্য এক বাসায়। রোজ খাবার তৈরি করে মেয়েটির ঘরের দরজায় রেখে আসতো বারসিসা। কথা বলতো না। কিছুদিন কেটে গেল এভাবে। কিন্তু আস্তে আস্তে বারসিসা শয়তানের ফাঁদে পা দিলো।
শয়তান তাকে বোঝালো- এভাবে খাবার দিয়ে চলে আসা তো অভদ্রতা, তাকে ডেকে খাবার দিয়ে আসো। বারসিসা তাই করতে শুরু করলো। তারপর শয়তান বললো, তার সাথে দুই-একটা কথা বলো, কথা বললে আর কী হবে? বারসিসা তাই করলো। তারপর শয়তান বললো- ঘরের মধ্যে বসে একটু কথা বললে আর কী হবে- মেয়েটা সারাদিন একা একা থাকে। বারসিসা শয়তানের কুমন্ত্রণায় সাড়া দিলো। এভাবে একটু করলে কী হয়... থেকে শুরু করে এক পর্যায়ে বারসিসা সেই মেয়ের সাথে যিনা করলো। মেয়েটা গর্ভবতী হয়ে সন্তান জন্ম দিলো।
ততদিনে ভাইদের ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে। বারসিসা প্রচণ্ড ভয় পেলো। শয়তান এবার বুদ্ধি দিলো- ভাইয়েরা যদি এসে এই অবস্থা দেখে, তাহলে তোমাকে কঠিন শাস্তি দেবে। তুমি বরং ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো! শয়তানের পরামর্শে বারসিসা সেই মেয়ে ও তার সন্তানকে খুন করে কবর দিলো। ভাইয়েরা ফিরলে কান্নাকাটি করে বললো- তোমাদের বোন অসুখে মারা গেছে। এখানে কবর দিয়েছি। ভাইয়েরা কান্নাকাটি করে চলে গেল। কিন্তু রাতে শয়তান গিয়ে স্বপ্নের মাধ্যমে তিন ভাইকে সত্যটা জানিয়ে দিলো। পরদিন তিন ভাই মিলে বারসিসার কাছে আসলো। মেয়েটির কবরে তার সন্তানের লাশও দেখতে পেলো। নিশ্চিত হলো, বারসিসাই তাদের বোনকে হত্যা করেছে। তারা বারসিসাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলো। তারা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন শয়তান এসে বারসিসাকে বললো, তুমি যদি আমাকে সিজদাহ করো তাহলে আমি তোমাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করবো, বারসিসা তাই করলো। তারপর? তারপর শয়তান বারসিসাকে ত্যাগ করলো।
এভাবে, একটু কথা বললে কী হয়, একটু তাকালে কী হয়... এই একটু একটুর ফাঁদে পড়ে বারসিসা যিনা করলো, খুন করলো, শিরক করলো, তারপর তাকে সেই অবস্থায় মরতে Zeiten!
আমাদের সমাজেও এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সদ্য দ্বীনে ফেরা বোনেরা দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, আবেগের কারণে খুব সহজেই অনলাইনের ফাঁদে পড়ে যায়। ফেইসবুকে কেউ ইসলাম নিয়ে একটু ভালো লিখলেই, দাড়ি-টুপিওয়ালা কেউ সুন্দর করে দুটো কথা বললেই, নাশীদ গাইলেই, বই লিখলেই তাকে নিয়ে ফ্যান্টাসি শুরু হয়ে যায়। দ্বীন শেখা কিংবা দাওয়াহর ফাঁদে পড়ে দিল দিয়ে বসে থাকে। গোপনে বিয়ে করে। দ্বীনি মুখোশধারী ছেলেপেলে বিয়ে করে কয়দিন ভোগ করে ছেড়ে দেয়। FIFE করে। মনে রেখো, শরীয়াহ দ্বীনি ভাই-দ্বীনি বোনদের জন্য আলাদা না। সেলিব্রেটিদের জন্য আলাদা না। আলিমদের জন্য আলাদা না। শরীয়াহর বিধান সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। অনলাইনের জগৎ বাস্তব দুনিয়া থেকে পুরোই আলাদা। এখানে খুব সহজেই ভান ধরা যায়। অনলাইনে কাউকে ভালো ভাবার দরকার নাই। আবার খারাপ ভাবারও দরকার নেই। কিছুই মনে করার দরকার নেই। বাস্তবজীবনে ইন্টার্যাকশ্যান হয়নি, চেনো না এমন ভাই বা বোনদের খুব বেশি আপন ভাবার দরকার নেই। ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার দরকার নেই। ছবি শেয়ার বা ভিডিও কলে যাবার তো প্রশ্নই ওঠে না। যাকে একেবারেই চেনো না, তার সাথে জরুরি কথা ছাড়া কোনো কথাই বলবে না। পার্সোনাল কোনো তথ্য জানাবে না। বোনরা মনে রেখো, আজকাল অনেক ছেলেই মেয়ে সেজে আইডি চালায়। তাই অনলাইনে নতুন কোনো বোনের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হলে তার সম্পর্কে যতটুকু পারো খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করবে। ভয়েস মেসেজ ও ছবি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কোনো বোন যদি বারবার তোমার ভয়েস মেসেজ বা ছবি চায় তাহলে তাকে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। শুধু অনলাইনের সম্পর্কগুলো শক্তিশালী হয় না। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে থাকে এখানে। ছবি শেয়ারের প্রসঙ্গ যখন আসলো তখন অনেকবার বলে আসা কথাটা আর একবার মনে করিয়ে দেই। কখনোই তোমার খোলামেলা ছবি তুলবে না, ভিডিও করবে না। স্বামীর জন্যেও না। স্বামীকেও তুলতে দিবে না। এটা জায়েজ নেই।** মেসেঞ্জারে, ওয়াটসআ্যাপে ছবি আদানপ্রদান করবে না। ভিডিও কলে অশালীন পোশাক পরবে না। হতে পারে তার ফোন হারিয়ে গেল, হতে পারে আইডি হ্যাক হলো, হতে পারে তার সাথে তোমার ডিভোর্স হয়ে গেল। ৷ বারবার বলার পরও এই ভুলটা বারবার হচ্ছে এবং ভয়ংকর মাশুল গুনতে হচ্ছে।
মূল কথা হলো, রাসূল (*৷) -এর কথা মেনে বাস্তব দুনিয়ার তুমি যেমন বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে শরীয়াহসম্মত কারণ ছাড়া কথাবার্তা বলবে না, নির্জনে (মানে তোমরা ছাড়া আর কেউ নেই) কথাবার্তা বলবে না, আলাপ আলোচনা করবে না, তেমনি অনলাইনেও ইনবক্সের নির্জনতায় করবে না। ৷ খলীফাহ উমার একবার আরেক সাহাবী উবাই ইবনু FIA (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রশ্ন করেছিলেন, তাকওয়া কী? জবাবে উবাই রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি কখনো কাঁটা বিছানো পথে হেঁটেছেন? হ্যা কীভাবে হেঁটেছেন? -খুব সাবধানে, কষ্ট সহ্য করে হেঁটেছি, যাতে আমার শরীরে কাঁটা বিঁধে না যায়। এটাই হলো তাকওয়া ১৭] কাঁটা বিছানো পথে মানুষ যেভাবে সতর্ক হয়ে চলে, ঠিক সেভাবে আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য হারাম থেকে বেঁচে থাকা আর পুরস্কারের জন্য আল্লাহ যা ভালোবাসেন, সেই আমল করার নাম তাকওয়া। তাকওয়ার এই কনসেপ্টটা যদি তুমি বুঝতে পারো, যদি বসিয়ে নিতে পারো নিজের মনে ও মস্তিষ্কে, তাহলে এতোক্ষণ যা কিছু বললাম তা বোঝা এবং মানার ব্যাপারটা সহজ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাকওয়া অবলম্বনকারী মুত্তাকিনদের ভালোবাসেন।”*১৷ “যে তাকওয়া অবলম্বন করলো, আল্লাহ্ তার জন্যে কাজগুলোকে সহজ করে দেবেন
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[৩৬০] নায়িকা, গায়িকা, মডেল, অনলাইন সেলিব্রেটি [৩৬১] মেয়ে একটু বেশী প্রশ্রয় দিলে বলে অমুক পর্নস্টারের পর্ন দেখছিলাম... [৩৬২] পাবজি বন্ধুদের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সময় নিউজ, অক্টোবর ১৬, ২০২০- tinyurl.com/4ckw2dbt জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, যুগান্তর, জুন ১৯, 2083 -tinyurl.com/ mpvt4wbm প্রথমে ধর্ষণ করলো দুই বন্ধু, সাহায্য চেয়ে আবার দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীটি, প্রথম আলো, আগস্ট ০৮, ২০২২- tinyurl.com/kep9j7nf ভাইয়ের দুই বন্ধুর হাতে স্কুলছাত্রী ধর্ষিত, ইনকিলাব , এপ্রিল wo, ২০১৯ tinyurl.com/muckifak [ove] সূরা আল-আহ্যাব, ৩৩:৩৩ [৩৬৪] সূরা আল-আহ্যাব, ৩৩:৩২ [৩৬৫] বুখারী: ৫০৯৬, মুসলিম: ২৭৪০ (ইফা. ৬৬৯৪) [৩৬৬] মুসলিম: ২৪৭২ (ইফা. ৬৬৯৭) [ova] তিরমিযী: ২১৬৫। ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। [৩৬৮] সূরা আল-আহ্যাব, ৩৩: ৫৩ [৩৬৯] ইবন মাজাহ: ১০০০। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। [৩৭০] নারী-পুরুষের দেখাদেখি, নির্জনে অবস্থান ও সহাবস্থান সংক্রান্ত বিবিধ ফতোয়া, islamhouse.com- tinyurl.com/ywwxb3n5 [৩৭১] ইসলামে প্রেম ভালোবাসা, ইবনুল জাওযী রহিমাহুল্লাহ, দারুস সালাম পাবলিকেশন, পৃষ্ঠা -১১৭ [৩৭২] তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো do শতাংশ মুসলিমের দেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্দার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া, বিরূপ মন্তব্য করা, মারধর করা, জঙ্গি, উগ্রবাদী, জামাত-শিবির বানানোর ঘটনা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। হিজাব পরায় ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের করে দিলেন শিক্ষক, জাগো নিউজ, এপ্রিল ২৭, 0 SY-tinyurl.com/wiryvdn4 পর্দা করায় শিক্ষার্থীকে জঙ্গি আখ্যায়িত করে বের করে দিলেন শিক্ষক, eyenews.news, আগস্ট ২২, ২০২২- tinyurl.com/4yfufr7v ঢাবিতে পর্দাকারী © জনের ১ জন নারী বৈষম্যের শিকার, ইনকিলাব, এপ্রিল ১, ২০২২-ঢা11. com/mrspztff ক্লাসে নেকাব না খোলায় ছাত্রীকে শাসালেন ইবি শিক্ষক, নয়া দিগন্ত, মার্চ ২৯, ২০২২- [৩৭৩] সূরা আন-নূর, ২৪: ৩১ [৩৭৪] সূরা আল-আহ্যাব, ৩৩: ৫৯ [৩৭৫] মুসলিম: ২১২৮ (ইফা. ৫৩৯৭) [৩৭৬] মাজমু'উল ফাতাওয়াঃ ২২/১৪৬ Meaning of Hadith “Women will be Clothed yet Naked” daruliftaa.com- tinyurl. com/2p9bwbSa [৩৭৭] যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুন্ধ হয়।” [সূরা আল-আহ্যাব,৩৩: ৩২] [৩৭৮] স্কুলছাত্রী অদিতাকে যেভাবে হত্যা করে গৃহশিক্ষক রনি, আরটিভি নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২- tinyurl.com/4d47whn3 টিউশনি করাতে গিয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ : শিক্ষক গ্রেফতার,সুরমা নিউজ ২৪ ডট নেট, মার্চ 08, ২০২০- tinyurl.com/ymm9rhwu টিউশনি দেওয়ার কথা বলে প্রেমের ফাদে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, sonaymoritv.com, ৬,২০২২- tinyurl.com/mvkbsxva টিউশনি করাতে গিয়ে গৃহকর্তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণী, অতঃপর... ,probashirnews.com, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮-ঢমা7৮ম11.0010/010782968 [৩৭৯] মুসনাদে আহমদ: ২৩০৭৪। হাইসামী হাদিসটির বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন। [৩৮১] দুলাভাইয়ের হাতে ধর্ষিতা কিশোরীর চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, যুগান্তর,জুলাই ০১,২০১৮- tinyurl.com/29jc42pd পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ৭ মাসের অন্ত:সত্তবা, ধর্ষক দুলাভাই গ্রেপ্তার, জনকণ্ঠ, আগস্ট ১৭, 20’ -tinyurl.com/3tw3vhn2 আড়াইহাজারে বিয়ের প্রলোভনে চাচাতো বোনকে ধর্ষণ, যুগান্তর, এপ্রিল ১৮, ২০১৮- tinyurl. com/y3mp6ktu হাজীগঞ্জে শালী-দুলাভাই পরকীয়ায় বোন ও স্বামীর হাতে গৃহবধূ খুন,চাঁদপুর টাইমস,অক্টোবর ১৮, ২০১৮ -tinyurl.com/yz4r2392 নানিকে দেখতে গিয়ে খালাতো ভাইয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার শিশু , দেশ রূপান্তর, আগস্ট ২৬, ২০১৯- tinyurl.com/bdh3ca2r দেবরের হাতে ধর্ষিত গৃহবধুর বিষপানে আত্মহত্যা, প্রতিদিনের সংবাদ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৬- tinyurl.com/5dn2rtuw নবী (%) বলেছেন,'দেবর-ভাসুর মৃত্যু সমতুল্য ভয়ানক বিষয়।” অর্থাৎ মৃত্যু যেমন জীবনের জন্য ভয়ানক, অনুরূপভাবে চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইবোন ও দেবর-ভাবী ও শালিকা- দুলাভাইয়ের সাক্ষাৎ ঈমান আমলের জন্য তদ্রপ ভয়ানক। [বুখারি: ৫২৩২, মুসলিম: ২১৭২] [৩৮২] আপু, তুমি হয়তো কোনোকিছু না ভেবে এমনিতেই লাভ রিয়্যাক্ট দিয়েছে! কিন্তু তোমার লাভ রিয়্যাক্ট পেয়ে সেই দ্বীনি ভাইটির দিল মে লাড্ডু ফোঁটা শুরু হয়ে গিয়েছে। আরে সে আমার পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়েছে মানে আমাকে সে পছন্দ করে, ভালোবাসে। [৩৮৩] কেউ তোমাকে হাই/হ্যালো করার জন্য নক দিলেই বুঝবে সে একটা ফাতরা ভণ্ড। [৩৮৪] সম্মানিত আলেম উলামারা তাঁদের সম্মানিত স্ত্রীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। অন্যথায় না দেওয়ায় উত্তম। (আমরা আপনাদের উপদেশ দেবার স্পর্ধা দেখাচ্ছি না। আল্লাহ এ থেকে আমাদের হিফাযত করুক)। সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে অবিবাহিত আলিমদের বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে অনলাইনে আলাপ আলোচনা, ইনবক্সে মেসেজ আদান প্রদান না করাই অধিক তাকওয়ার প্রমাণ বলেই মনে হয়। আল্লাহু আলম। [৩৮৫] বারসিসার ঘটনাটি কুরআন বা হাদিসের ঘটনা নয়। এটি একটি ইসরাঈলী বর্ণনা, যা বিভিন্ন উলাম তাঁদেরা আলোচনায় এনেছেন। এটি কেবল শিক্ষণীয় ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে, যার সত্যতা সম্পর্কে কেবল আল্লাহ তাআলা অবগত। [৩৮৬] বিস্তারিত শোনো- বিষাক্ত তীর ২, Lost Modesty, Lost Modesty Youtube Channel, ফেব্রুয়ারি ২৩১২০১৯- tinyurl.com/4wtpm2yu [৩৮৭] He wants to photograph his wife naked so that he can look at the pictures when he is away! Islamqa - tinyurl.com/ze7pre8n [৩৮৮] ফেসবুকে স্ত্রীর নগ্ন ছবি পোস্ট, স্বামী গ্রেফতার, ডেইলি বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ - tinyurl.com/mspf3983 [৩৮৯] তিরমিযী: ১১৭১ [৩৯০] তাফসীর ইবনু কাসীর, সূরা বাকারাহ, আয়াত ২ [৩৯১] সূরা আলে ইমরান: ৭৬ [৩৯২] সূরা তালাক: ৪
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।