সবিনয়ে নিবেদন
সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থা যতই দাবি করুক প্রেম-যৌনতা নিছক মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার না। এর সাথে জড়িত পরিবার, সমাজ ,জাতি ও সভ্যতার উত্থান পতনের সম্পর্ক। এটুকু নিশ্চয় এরই মাঝে বোঝা গেছে। তাই এই তথাকথিত প্রেম আর ফ্রি সেক্স কালচারকে সমাজ থেকে দূর করার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি অংশীদারকে।
“কিন্ত আমি তো অতি ক্ষুদ্র মানুষ, আমি কী করবো? আমার বন্ধু প্রেম করলে, যিনা করলে, আত্মহত্যা করতে চাইলে আমি কী করবো, কীভাবে করবো? আমার ছেলে/ মেয়ে প্রেম করলে কী করবো? আমি শিক্ষক, আমি মসজিদের ইমাম, আমি ছাপোষা মধ্যবিত্ত, আমি এলাকার কিংবা ক্যাম্পাসের বড় ভাই, আমি এলাকার নেতা, আমি কীভাবে সাহায্য করবো?”- এরকম প্রশ্ন অনেকের মনেই। সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো দেবার জন্যেই আমাদের এই লেখা।
অভিভাবক ও বন্ধুর দায়িত্ব
ব্রেকআপের পর...
S| ব্রেকআপের পর আপনার সন্তান বেশ কষ্টকর একটা সময় পার করবে। কেউ কেউ এসময় মদ-গাঁজাতে আসক্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই আত্মহত্যা করে। এ সময় তাকে মারধর বা বকাঝকা করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে মোড় নিবে। তাকে কাছে টেনে নিন। ঠাণ্ডা মাথায় কাছে বসিয়ে আমরা এ বইতে যেমন আলোচনা করলাম সেভাবে প্রেমের প্রকৃত বাস্তবতা তাকে বুঝান। আল্লাহ্ তাকে কী জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, সেটা মনে করিয়ে দিন। তার কথাগুলো শুনুন। সে একদিনে ফিরে আসতে পারবে না। একটু সময় নেবে। পড়াশোনায় একটু ছেদ পড়বে। এ ব্যাপারগুলো স্থাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করে নিন।
নিজে সন্তানের সাথে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে লজ্জাবোধ করলে মামা, চাচা, বড় ভাইবোন, খালা, ফুপি যাদের সাথে সে ক্লোজ তাদের দিয়ে বুঝান। চাইলে মসজিদের ইমাম সাহেব, ভালো একজন আলিম বা দ্বীনদার কোনো মনোবিদের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। মনোবিদ মানেই পাগলের ডাক্তার নয়। এটা নিয়ে লজ্জা পাবেন
না। প্রয়োজন মনে করলে আমাদের এই বইটাও তার হাতে তুলে দিতে পারেন। বইয়ে দেওয়া টিপসগুলো সে যেন অনুসরণ করে সেটা নিশ্চিত করুন। রাতে তাকে একা ঘুমোতে দেবেন না। সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একসাথে ফজরের নামায পড়েন। হাঁটতে বের হন। কোথাও ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। কোনো ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও আদানপ্রদান হয়েছে কি না, কৌশলে জেনে নিন। এগুলোর কারণে যে ব্ল্যাকমেইল, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে তা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। ছবি-ভিডিও আদানপ্রদান হয়ে থাকলে সে পক্ষের সাথে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে পৌঁছে যাওয়া কাম্য। প্রয়োজন মনে করলে প্রশাসনের সাহায্য নিন। যিনা করে ফেললে এবং গর্ভবতী হয়ে পড়লে কী করবেন, তা জানার জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আলিমের সাথে পরামর্শ করুন। আগেই আ্যাবরশন করে ফেলবেন না। যা কিছু হয়ে গেছে সবকিছু ভুলে গিয়ে আন্তরিকভাবে তাওবাহ করতে বলুন। আন্তরিকভাবে তাওবাহ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সম্ভব হলে, পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুমোদন দিলে ভালো পাত্র-পাত্রী দেখে বিয়ে দিয়ে দেবেন। তবে জোর করে মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া যাবে না।*১%৷
২। ব্রেকআপের পর বা প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে ঝগড়াবাঁটি করে আপনার সন্তান
মাদকাসক্ত হতে পারে বা আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে। যারা আত্মহত্যা করে তাদের মধ্যে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়-
ক) সোশ্যাল মিডিয়াতে মৃত্যু আর আত্মহত্যা নিয়ে ইচ্ছার কথা প্রকাশ করা।
খ) আত্মহত্যা বা মৃত্যুবিষয়ক কবিতা, গান লিখতে, শুনতে বা পড়তে থাকা।
গ) নিজের ক্ষতি করা। প্রায়ই এরা নিজের হাত-পা কাটে, ঘুমের ওষুধ খায়।
ঘ) মনমরা হয়ে থাকা, সব কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা, নিজেকে দোষী ভাবা—
এগুলো বিষ্জতার লক্ষণ; যা থেকে আত্মহত্যা ঘটে।
8) মাদকাসক্তি বা ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি।
চ) সারা রাত জেগে থাকা, সারা দিন ঘুমানো। খাওয়াদাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
ছ) নিজেকে গুটিয়ে রাখা।
জ) পড়ালেখা, খেলাধুলা, শখের বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
ঝ) বেঁচে থাকার কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছে না, কেন জন্মগ্রহণ করলাম-এমনটা
জানানো।
ঞ) হতাশ, বিষণ্ন থাকা, এমন সমস্যায় আটকা পড়েছে যা থেকে মুক্তির কোনো
উপায় নেই-এমন কথা বলা। ট) নিজেকে অন্যের বোঝা মনে করে-এমনটা জানানো। ঠ) নিজের মূল্যবান সামগ্রী অন্যদের দিয়ে দেওয়া, সে না থাকলে তার জিনিসপত্র কাকে কাকে দিতে হবে তা বলে দেওয়া। ড) পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে এমনভাবে বিদায় নেওয়া, যেন এটা শেষ বিদায়। যা করবেন: ক) ঘুরেফিরে সেই একই কথা, আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী তা বোবান। উপরের আলোচনায় যে টিপসগুলো দেওয়া হলো সেগুলো অনুসরণ করুন। খ) তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন তুমি কি আত্মহত্যার কথা ভাবছো? বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এভাবে সরাসরি প্রশ্ন করলে আত্মহত্যা করার ঝুঁকি কমে eT |) গ) একাকীত্বে ভুগতে দেবেন না। তাকে সময় দিন। ঘ) মাদক এবং আত্মহত্যার সম্ভাব্য জিনিসপত্র তার কাছ থেকে সরিয়ে রাখবেন। তার হাতে টাকা না দিয়ে, যা কেনা দরকার কিনে দিন। কার সাথে মিশছে তা খেয়াল রাখুন। 8) অবস্থা গুরুতর মনে হলে মনোবিদের কাছে নিয়ে যান। বন্ধুর করণীয়: একজন প্রকৃত বন্ধু, তার বন্ধুকে প্রেম, যিনা-ব্যভিচার করতে সাহায্য করে না। বরং তাকে এই ধংসাত্মক পথ থেকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। বন্ধু প্রেম বা যিনা করলে তুমি এই বইয়ে আলোচনা করা বিষয়গুলো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করো। একদিনে হয়তো হবে না। সময় লাগবে। সময় নাও। তোমার মাধ্যমে সে যদি পাপের পথ থেকে ফিরে আসে তাহলে তুমি প্রচুর সওয়াব পাবে। শত চেষ্টার পরেও সে বুঝতে চাচ্ছে না। যিনা করছে, মাদক, আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে বা ব্রেকআপের ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে-এমন অবস্থায় যা করবে-
১। সময় দেওয়া, মন ভালো করার চেষ্টা করা, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার
ব্যবস্থা করা, তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা না করা।
২। একজন ভালো আলেম বা দ্বীনদার মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া।
৩। সিনিয়র কারো সঙ্গে আলোচনা করে দরকার হলে তার বাবা-মা, অভিভাবককে
জানানো। এতে করে হয়তো তার সাথে তোমার বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু হাশরের ময়দানে সে ঠিকই বুঝবে তোমার বন্ধুত্বের মর্যাদা!” তার প্রকৃত বন্ধু হিসেবে তোমার এই অস্বস্তিকর কাজটা করতেই হবে। আপনি যখন জানলেন আপনার সন্তান প্রেম করে... এই জানার ব্যাপারটা দুইভাবে হতে পারে।
১। আপনি নিজে আবিষ্কার করলেন বা আপনাকে কেউ জানালো।
২। আপনার সন্তান নিজে এসেই বললো।
প্রতিক্রিয়াও হয় দুই ধরনের।
১। ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া-
ক) এই বয়সে এমন এক আধটু করতে পারেই। এসব কিছু না। বয়সের দোষ। পরে ঠিক হয়ে যাবে। আর একদিক থেকে ভালোই হলো, আমাদের আর পাত্র/পাত্রী খুঁজতে হবে না। খ) মাইর একটাও মাটিতে পড়ে না, স্কুল কলেজ, হাতখরচ দেওয়া সব বন্ধ। অপমান, তিরস্কার। কথা বন্ধ।
২। যা করা উচিত-
ক) প্রেম হারাম কাজ। এটার কারণে আপনার সন্তান কঠিন গুনাহ করছে। এখন প্রেমের সম্পর্কগুলো খুব দ্রুত যিনা-ব্যভিচারে রূপ নেয়। তার এই পাপগুলোর জন্য আল্লাহ্ আপনাকেও ধরবেন। ব্যক্তি, পরিবার সমাজ ও সভ্যতার উপর এগুলোর ভয়াবহতা আমরা পুরো বই জুড়ে আলোচনা করলাম। কাজেই আপনি এগুলো সিরিয়াসভাবে নিন। খ) হালকা শাসন করতে পারেন, তবে LE কিছু না। এই লেখায় দেওয়া টিপসগুলো অনুসরণ করে তাকে প্রেমের ও জীবনের বাস্তবতা বুঝান। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এলাকা বদলে ফেলুন। বাসা থেকে পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকলে... ধরুন, আপনাদের সন্তানেরা একে অপরকে পছন্দ করে এবং তাদের বিয়ে না দিলে পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অপর পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড, সামাজিক অবস্থান, বংশ-সব আপনাদের কাছাকাছি। ছেলে/মেয়েও চলনসই-এমন ক্ষেত্রে সন্তান প্রেম করলো কেন কেবল এই জেদ ধরে তাদের বিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত না। আমরা হারাম রিলেশনের বিয়েতে উৎসাহ দেই
না (আগের লেখাগুলোতে এ নিয়ে আলোচনা এসেছে), কিন্তু তারপরও আমাদের সাজেশন থাকবে-এরকম পরিস্থিতিতে এদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বাসা থেকে পালিয়ে নিজেদের এবং আপনাদের সবার জীবনই নষ্ট করে ফেলতে পারে তারা। তবে সিদ্ধান্ত নেবার আগে ভালো একজন আলেমের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে ভুলবেন না। আপনার সন্তান বাসা থেকে পালিয়ে গেলে... এটা বেশ ভয়ংকর পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতিতে আসলে মাথা ঠিক রাখা বেশ কঠিন।ওর সাথে পালালাম লেখায় আমরা যেমন আলোচনা করলাম বাসা থেকে পালিয়ে গেলে ছেলে মেয়ে দুজনেরই ভয়ঙ্কর রকমের বিপদ হয় আজকাল। তাই অভিমান করে না থেকে দ্রুত তাদের খুঁজে বের করুন। ফিরিয়ে আনুন বা খোঁজখবর রাখুন। সে অবুঝের মতো পালিয়ে গেলেও দিনশেষে সে আপনারই STS | আপনারই শরীরের অংশ। তার কিছু হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবেন আপনিই। সম্পর্ক মেনে নেবেন কি নেবেন না, সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু আগে ফিরিয়ে আনুন। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিন। দেখুন, এই যে এতো সমস্যা, প্রেম, ব্রেকআপ, হতাশা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, যিনা- ব্যভিচার, ছবি ভাইরাল, মানসম্মান নষ্ট, আদরের সন্তান, ছোট ভাইবোন, ভাগ্নে- oi, ভাতিজা-ভাতিজির এই করুণ পরিণতি...এগুলো আমার আপনার হাতের কামাই। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে, পশ্চিমা বিশ্বের কথা শুনে শুনে ব্রেইনওয়াশড হয়ে গিয়েছি। হারামকে, গুনাহকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছি। প্রেমকে সহজ করেছি, বিয়েকে কঠিন করেছি। বিয়ে করতে চাওয়াকে মহা অপরাধ বানিয়েছি। অশ্লীলতার ফেরিওয়ালাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করিনি, বাচ্চাদেরকে জীবনের উদ্দেশ্য শিখিয়েছি ডিগ্রি কামানো, সরকারি চাকরি কিংবা বিদেশে সেটেল হওয়াকে, লেখাপড়া করে গাড়ি- ঘোড়ায় চড়াকে। ওদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিইনি, উল্টো দাড়ি রাখলে, ইসলামী বইপত্র পড়লে, ইসলাম পালন করলে, মাহরাম মেনে চলতে চাইলে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ফলাফল আমাদের চোখের সামনেই। প্রতিকার করার চাইতে প্রতিরোধ করা উত্তম। চলুন দেখা যাক প্রেম, যিনা, যৌন বিকৃতির এই মহামারি ঠেকাতে আমরা কি কি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। পারিবারিক পর্যায়ে আমার সন্তান কখনোই প্রেম-যিনা ব্যভিচার করতে পারে না-এই মিথ্যা আত্মবিশ্বাস রাখবেন না। বইয়ের শুরুতেই আমরা পরিসংখ্যান এনে দেখিয়েছি প্রেম-যিনার কী মহামারি অবস্থা। আপনার সন্তান হয়তো এগুলো করবে না, কিন্তু সে করবে এটা ধরে নিয়েই কর্মপন্থা ঠিক করুন-
১। ছোট থেকেই তাকে ইসলামী অনুশাসনে বড় করে তুলুন। তার অন্তরে ঈমানের
পরিচর্যা করুন। ইসলাম পালনের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের শিক্ষা দিন। সাহাবীদের সাথে, সালাহউদ্দীন আইউবী, মুহাম্মাদ বিন কাসিম, তারিক বিন যিয়াদ, তিতুমীর, শরীয়াতুল্লাহদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে আল্লাহর TEE, সেটা বুঝান। দাড়ি, টুপি, পর্দা করার পরিবেশ তৈরি করে দিন। যদি এ ব্যাপারে নিজের মধ্যে ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটাও সংশোধন করে নিন। মানুষ দেখে দেখেই শেখে। শুধু জন্ম দিলেই প্রকৃত অর্থে বাবা-মা হওয়া যায় না। আপনি যদি সন্তানের হাতে ঈমানের কম্পাস ধরিয়ে না দেন, তাহলে এই সমাজ ও সভ্যতা তাকে অবক্ষয় ও অধঃপতনের দিকে নিশ্চিতভাবেই নিয়ে যাবে।
২। প্রেমের প্রকৃত বাস্তবতা বুঝান। বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে নেবে এই আশায় ফেলে
রাখবেন না। বন্ধুদের কাছ থেকে কী জানবে, আশা করি বুঝতে পারছেন। একদিন কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান। গিয়ে সুন্দর করে তাকে এগুলোর বাস্তবতা বুঝান। ©| তাঁর বন্ধু হবেন না। কিন্তু বন্ধুর মতো মিশুন। তাকে সময় দিন। সে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সাথে মিশছে, আসলেই এক্সট্রা ক্লাস বা প্রাইভেট আছে কি না, এগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর রাখুন। বিশেষ করে সে যদি পরিবার থেকে দূরে, অন্য কোনো শহরে থাকে। অনেকেই বাসায় এমনভাবে থাকে যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানে না, কিন্তু শহরে এসে আকাশে বাতাসে সুতো ছেড়া ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ায়। শিক্ষকদের সাথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখুন। মিথ্যা বললে কড়া মারধর করবেন না, স্নেহের অভিমান করুন। দেখবেন কাজ হবে। মাঝে মাঝে হালকা শাসন করতে পারেন। তবে এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবেন না, যাতে সে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। সবসময় সব ব্যাপারে খবরদারি না করে তাকে কিছুটা স্বাধীনতা দিন। তবে স্বাধীনতার সাথে যে দায়িত্ব জড়িত-এই বিষয়টিও ভালোভাবে বুঝান। সে প্রেম-যিনা করলে আপনি কতোটা কষ্ট পাবেন তা বুঝান। দেখবেন সে প্রতিকূল পরিবেশেও যিনা-ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
৪। ভার্সিটিতে যাবার আগ পর্যন্ত তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেবেন না। একান্ত দরকার
হলে প্রয়োজনের জন্য শুধু ফোন করা যায় এমন বাটন ফোন কিনে দিন। না হলে সে প্রেম করবে, পর্ন দেখবে, গেইম খেলবে, টিকটকে অশ্লীল, সহিংসতামূলক কিংবা বিকৃত কন্টেন্ট ATI সে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে আপনি তার সাথে যুক্ত থাকুন। সে একাধিক আইডি, ফেইক আইডি ব্যবহার করতে পারে। এ ব্যাপারে একটু নজর রাখুন। স্মার্টফোন যদি দিতেই হয় অশ্লীল সাইট বন্ধের ফিল্টার ব্যবহার lo ] বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন- ইলমহাউস পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত মুক্ত বাতাসের খোঁজে |
করুন।*% ফোন দেবার পরিবর্তে কম্পিউটার কিনে দিতে পারেন। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ফটো এডিটিং, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি তার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই উপকারী। এগুলো শিখলে সে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারবে। নির্জনে, একা রুমে নয়, বরং সকলের চোখে পড়ে এমন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর ব্যবস্থা করুন।
৫। আইটেম সং, NOR, সিনেমা থেকে তাকে দূরে রাখুন। আপনার সকল প্রচেষ্টা
সত্ত্বেও এগুলোই তাকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। এগুলো থেকে শুধু তাকে দূরে রাখলে হবে না, আপনার নিজেরও দূরে থাকতে হবে।
৬। ফ্রি-মিক্সিং এর পরিবেশ দেবেন না। হোক সে কাযিন বা অন্য কোনো আত্মীয়।
ইসলাম যা বলেছে তা করবেন-আলাদা আলাদা রাখবেন। বয়েস অনলি, গার্লস অনলি প্রতিষ্ঠানে পড়াবেন। | বিয়ে দিয়ে দিন। এখন দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে কালেমা পড়িয়ে বিয়ে করিয়ে রাখলেন। আকদ হয়ে গেল, অনুষ্ঠান পরে করলেন। ছেলে ছেলের বাসায় থাকলো, মেয়ে মেয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করলো। মাঝে মাঝে বা ছুটির দিনগুলোতে এ ওর বাড়িতে বেড়াতে গেল। এই পয়েন্ট পড়ার পর আমাদের ইমম্যাচিউর ভাবছেন বোধহয়। এতো ছোট ছেলে মেয়ে কীভাবে বিয়ে করবে? এরা তো নিজেরাই দায়িত্ব নিতে পারে না। বিয়ে করে খাওয়াবে কী? দেখুন, বিয়ে না দেওয়া হলে সে পাপ করবেই করবে। আমরা জাস্ট আপনাকে এবং আপনার সন্তানকে পাপ করা থেকে বাঁচাতে চাচ্ছি। তাছাড়া আপনার ছেলেমেয়ে যে ম্যাচিউর হতে পারে না এর বেশিরভাগ দোষ আপনার। আপনিই তাকে ননীর পুতুল করে বড় করেছেন। যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছেন। তার জীবনে পড়াশোনা আর মোবাইল ছাড়া কিছুই রাখেননি। সে ম্যাচিউর হবে কীভাবে? সন্তানকে খেলাধুলার সুযোগ দিন, বাজার করতে দিন, সংসারের ছোটখাটো কাজ করতে দিন। ছোট থেকেই, টাকাপয়সা কীভাবে আসে, কীভাবে খরচ করতে হয় অর্থাৎ আর্থিক সাক্ষরতা শেখান। প্রকৃত পুরুষ ও নারীর বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করতে সাহায্য করুন। কলেজ লেভেল থেকেই টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদির মাধ্যমে টুকটাক উপার্জন করতে সাহায্য করুন। দেখবেন সে কেমন দায়িত্ববান হয়ে যায়। একবার দায়িত্ববান হলে দেখবেন মেয়ের বাবা আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে না। গবেষণা বলে, বিয়ের পর সাধারণত মানুষ দায়িত্ববান হয়, গোছানো হয়, জীবনের প্রতি মনোযোগী হয়, উপার্জন বাড়ে। আল্লাহ তা'আলা আগেই আমাদের এ কথা
জানিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে দিয়ে দিন। দেখবেন সে আজীবন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ RIC Iie
চতুর্থ শিল্প বিপ্পবের এ যুগে ক্যারিয়ারের বাস্তবতা বুঝুন। এখন শুধু বইয়ের পড়াশোনা, ডিগ্রি দিয়ে চাকরি হয় না। সামনে আরো হবে না। তাকে দায়িত্ববান করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে, পড়ার পাশাপাশি টুকটাক কাজ করতে শিখলে তার ক্যারিয়ারের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে না। বরং চাকরি পাবার জন্য খুব জরুরি কিছু জিনিস যেমন, যোগাযোগের দক্ষতা, মানুষজনের সঙ্গে মেশার ক্ষমতা তার মধ্যে তৈরি হবে। সামাজিক দায়িত্ব:
১। প্রেম-যিনার বাস্তবতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। জুমু'আর খুতবাহতে
আলোচনা করা। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করা। সভা, সেমিনার, ক্যাম্পেইন ইত্যাদি করা।
রাস্তাঘাটে, রেস্টুরেন্ট, পার্ক, শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-কোথাও প্রেমিক-প্রেমিকা দেখলে কল্যাণকামী হয়ে (পাওয়ার না দেখিয়ে) আন্তরিকভাবে, দরকার হলে মাথায় হাত বুলিয়ে তাদেরকে নাসীহাহ করা। প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের জানানো।
২। বিয়ের ব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা। বিয়েকে সহজ করা। বেশি
বয়সে বিয়ে, ব্যাপক খরচাপাতির নেতিবাচক প্রবণতাগুলো থেকে সরে আসা। ইসলামে সাবালক হলেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া যায়। সাবালক হবার লক্ষণ হলো- ক) ছেলেদের স্বপ্নদোষ হওয়া, খ) মাসিক হওয়া, গ) প্রাইভেট এরিয়ায় চুল গজানো, ঘ) চন্দ্র বছর অনুসারে ১৫ বছর বয়স হওয়া ১১১!
৩। যারা অশ্লীলতা ছড়ায় তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা। তাদের সাথে লেনদেন
না করা। যেসব জায়গায় যিনা-ব্যভিচারের আসর বসে সেগুলোর ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। তবে রাগের বশে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করা যাবে না।
81 ছবি-ভিডিও ভাইরাল হওয়া, আত্মহত্যা কিংবা বাসা থেকে পালানোর ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
৫। তরুণদের দূরে ঠেলে না দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া। খেলাধুলা, একসাথে খাওয়া
দাওয়া করা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মসজিদকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা (যেমন, টানা ৪০ দিন জামা”আতে সালাত আদায়ের জন্য পুরস্কার দেওয়া), সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা। গাছ যদি পানির অভাবে মরে যেতে শুরু করে তাহলে গাছের কাণ্ডে, পাতায় পানি ঢেলে খুব একটা সুবিধা করা যায় না। পানি ঢালতে হয় গাছের গোড়ায় শিকড়ে। আমাদের সকল সমস্যার সমাধানের জন্য ফিরে যেতে হবে আমাদের শিকড়—ইসলামে। ইসলামের মধ্যেই রয়েছে সকল সমস্যার সমাধান। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে সকল সমস্যার সমাধান অটোম্যাটিক হয়ে যাবে। যার প্রমাণ আমরা পাই রাসূলুল্লাহ (*) এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলের ইতিহাস থেকে। চলুন, মূলে ফিরে যাই।
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[8১০] Parents forcing their daughter into a marriage, IslamQA - tinyurl. com/2m454x7j [8১১] Suicide Prevention, National Institute of Mental Health, August 2022-tinyurl. com/2s46bd5z [8১২] অধিকাংশ সময় প্রেমের মোহ কেটে গেলেই সে বুঝতে পারবে। হাশরের ময়দান পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে না। [8১৪] ফিল্টার সম্পর্কে জানতে পড়ুন- বিষে বিষক্ষয়, Lostmodesty.com- tinyurl. com/2cmr9wS8p [8১৫] “তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ দাও এবং তোমাদের সংকর্মশীল দাস- দাসীদেরও , তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন, আল্লাহ SHER ও সর্বজ্ঞ।' [সূরা আন-নুর, ২৪: ৩২] Married men earn more than everyone else (including married women and single men), Nov. 19, 2019- tinyurl.com/36nux Marriage Tied to Longer Life Span, New Data Shows, webmd.com,Oct. 10, 2019 - tinyurl.com/5n6z7np9 [8১৬] আল ইনায়া শারহুল হেদায়া ৮/২০১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৫৩; তাফসিরে কুরতুবি ১২/১৫১ বিস্তারিত- ছেলে-মেয়ে বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) কখন হয়? শায়েখ উমায়ের কোববাদী হাফিযানুল্লাহ, quranerjyoti.com, ১ জুলাই, ২০১৭- tinyurl.com/yc47mc9m
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।