তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ
মানুষ কি নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্তে প্রেমে পড়ে? অনেকেই একদম দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে বলে- আমি এ দিন, অমুক তারিখের, @ সময় ওর প্রেমে পড়েছিলাম। আকাশের রং কেমন ছিল, বাতাস হচ্ছিল কি না, সূর্য তার দায়িত্ব কতোটুকু পালন করছিল, এমন খুঁটিনাটিও মনে থাকে নাকি অনেকের। জিসান এসব ঠিক বিশ্বাস করতো না। এরকম দিনক্ষণ গুণে কেউ প্রেমে পড়ে নাকি! যতসব চাপাবাজি! তারপর জিসান তার দেখা পেলো... সেকেন্ড টার্ম পরীক্ষার প্রশ্ন দেবার ঠিক আগযমুহূর্ত। নার্ভাসনেস কাটানোর জন্য এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো জিসান। হঠাৎ চোখ পড়লো তার উপর। একটা কালো ব্যান্ড দিয়ে চুলগুলো পেছনে নিয়ে বাঁধছিল সে। সব ভুলে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো জিসান। মানুষের সিক্সথ সেন্স বলে কিছু আছে বোধহয়। কেউ কারো দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে সে টের পায়। সেও টের পেলো। চোখাচোখি হলো। বুকের ভেতরটা কেমন যেন লাফাতে শুরু করলো জিসানের। পেটের ভেতরেও যেন হাজারটা প্রজাপতি একসাথে ডানা ঝাপটাচ্ছে। জিসানের চোখের ভাষা মেয়েটা বুঝে ফেললো নিমিষেই। ক্ষীণ একটা প্রশ্রয়ের হাসি ফুটেই মিলিয়ে গেল তার দু'ঠোঁটে। সেই মুহূর্তে, সেই ১৭ আগস্ট, মঙ্গলবার সকাল ৯ টা ৫৭ মিনিটে ৫৮ সেকেন্ডে জিসান তার প্রেমে পড়ে গেল! শুরুটা হয় খুব সাধারণ, নির্দোষ এক বিষয় দিয়ে - “এক পলক তাকানো'। সাধারণের চাইতে একটু বেশি সময় তাকিয়ে থাকা হয়তো। তারপর? ভালোলাগা, ক্রাশ খাওয়া যাকে বলা হয়। এরপর? মেসেঞ্জারে টুংটাং, রাতজাগা, কথায় কথায় রাত ভোর হয়ে যাওয়া। প্রপোষ করা। ফাস্টফুড বা কফিশপে প্রথম দেখা, ফাগুনের অগোছালো ফুটপাতে পাশাপাশি হাঁটা, খুনসুটি, রিকশাবিলাস। তারপর ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডমের পর্ব শেষ করে লিটনের ফ্ল্যাট কিংবা ট্যুর। শরীরের উত্তাপে ভালোবাসা পরিমাপ করা। তারপর? প্রাইভেট ক্লিনিক। গর্ভপাত। ডাস্টবিনে নতুন কোনো নবজাতকের, কাক আর কুকুরে খুবলে খুবলে খাওয়া লাশ। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ভিডিও-ছবি ভাইরাল।
মোহ, স্বপ্ন, কল্পনা, মৃত্যু।
অথবা ব্রেকআপ। সিগারেটের ধোঁয়ায় নিজেকে পুড়িয়ে eres ভুলবার চেষ্টা। হতাশা, দলাপাকানো কান্না আর কষ্টের দীর্ঘ রাত। গাঁজা, নেশা, পর্ন, হস্তমৈথুন... লাইভে এসে আত্মহত্যার রোমান্টিসিযম।
মোহ, স্বপ্ন, কল্পনা, মৃত্যু। অথবা ঢটেক্সটবুক লাভস্টোরির মতো জীবন পার করে দেওয়া, কিন্তু আল্লাহর আইনের অবাধ্য হয়ে জাহান্নামের জ্বালানি হওয়া... অথচ শুরুটা ছিল সাধারণ এক বিষয় থেকে- এক পলক তাকানো। যুগে যুগে কতো আবিদ, আল্লাহওয়ালা লোকদের পদস্থলন হলো, কতো বুকে দাউ দাউ আগুন জ্বললো, কতো ঘর তছনছ হয়ে গেল, ভাই ভাইয়ের বুকে ছুরি বসালো, কতো রাজা সিংহাসন হারিয়ে ফেললো, ছারখার হয়ে গেল কতো নগর, বন্দর, শহর, গ্রাম, সভ্যতা! রবিঠাকুর বুঝেছিল এই আপাত নিরীহ এক পলক তাকানো, চকিত চাহনির ভয়াবহতা। নিজে মানতে না পারলেও লিখে গিয়েছে বহু বছর আগে- প্রহর শেষের আলোয় রাঙ্গা সেদিন চৈত্রমাস তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ। চোখের অবাধ্য দৃষ্টি। আদম সন্তানের সাথে শয়তানের চিরন্তন যুদ্ধের মারাত্মক কার্যকরী এক অন্ত্র। বিষাক্ত অব্যর্থ তীর। রাসূলুল্লাহ (*) বলেছেন, “দৃষ্টি ইবলিসের তীরগুলো থেকে বিষ মেশানো একটি তীর।”**এ চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টির ধ্বংসাত্মক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আমরা আলকেমি লেখাতে বহু আলোচনা করে এসেছি। তোমার রব তোমাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। শয়তান যেন তোমাকে তার খেলার পুতুল না বানাতে পারে, তার জন্য কুরআনে আল্লাহ্ বেশ কিছু বিষয় তোমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মুমিনদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। ঈমানদার মহিলাদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করে...'**৭ আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে মানুষের নিজের চেয়েও ভালোমতো চেনেন। তিনি জানেন মানুষ চোখের হিফাযত করতে, পর্দা করতে ভূলে যাবে। তাই তিনি বিষয়টি কুরআনে বারবার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহর শত নিষেধ সত্ত্বেও আমরা এ বিষয়টাকে একদমই পাত্তা দেই না। “তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি, একি মোর অপরাধ”- এই হলো অবাধ্য দৃষ্টির ব্যাপারে আমাদের মনোভাব। ফলাফল কী আমরা হাতেনাতে পাইনি? চারিদিকে আজ ভাঙনের সুর। পতনের
আওয়াজ পাওয়া যায় অষ্টগ্রহর। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন, “যৌন কেলেঙ্কারির শুরু হয় দেখা থেকে, যেমন আগুনের শুরুটা একটিমাত্র স্ফুলিংগ থেকে। এজন্য লজ্জাস্থানের সংরক্ষণের জন্য দৃষ্টির সংরক্ষণ জরুরি।'**% তিনি আরো বলেন, “দৃষ্টি অবনত রাখার মাধ্যমে মানুষ প্রেমের নেশা থেকে নিরাপদ epee! ইবনুল জাওযী (রহ.) যেমন বলেছেন, “...প্রেম এক গাছের মতো, আর দৃষ্টি হলো সেই পানির মতো যা এ গাছের দিকে গড়িয়ে যায়। সুতরাং, গাছে পানি সেচ দেওয়া হলে গাছ প্রাণবন্ত ও সজীব হয়ে ওঠে। আর এ সমস্ত দুর্যোগের মূলে থাকে অবাধ দৃষ্টিপাত, যা শরীয়াহতে নিষিদ্ধ এই অবাধ তথা অবৈধ দৃষ্টির কারণে কু-কামনা অন্তরে প্রবল হয়, বিপর্যয়ের বন্যা ব্যক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং অনেকের রোগ এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে তখন আর না কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাদের কানে বাজে, আর না কারো মারপিট গায়ে লাগে।”১১% সেই রঙিন কৈশোর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কতবার তুমি মায়াবতীদের প্রেমে পড়েছে! আর কতবার তোমার হৃদয় ভেঙেছে! চিন্তা করে দেখো একবার, এর কিছুই হতো না যদি তুমি চোখের হিফাযত করতো। চোখের হিফাযত করতে পারলে তোমার জীবনের গল্পটাই অন্যরকম হতো! প্রেমে পড়া, পরকীয়া, আত্মহত্যা, যিনা, ব্যভিচার, ধর্ষণ, গর্ভপাত, খুনোখুনি, পর্ন, হস্তমৈথুন, আসক্তিসহ আমাদের অনেক অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো, জীবন অনেক সুন্দর আনন্দময় হয়ে যেতো যদি আমরা চোখের হিফাযত করতে পারতাম। যদি সতর্ক হতাম অবাধ্য দৃষ্টির ব্যাপারে। যদি শয়তানের ফাঁদগুলো চিনতাম। যদি শয়তানের তীরগুলোর বিরুদ্ধে কুরআন সুন্নাহ্র নির্দেশিত পথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতাম। কিন্তু আমরা বড়ই উদাসীন!
দুই.
কী যেন নাম ছিল বালিকার... নামটাও ভুলে গেছো, অথচ একসময় এই বিস্মৃতপ্রায় বালিকাকে দূর থেকে গেঁট টিপে হাসতে দেখে কতোবার অঙ্কে ভুল করেছো, বালিকার ঈষৎ ক্রকুটিতে কতোবার নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেক্ট্রন বিন্যাস ওলটপালট হয়ে গিয়েছে, ভুলিয়ে দিয়েছে থিওরি অফ রিলেটিভিটির প্রশ্নগুলোর চিন্তা- খেয়াল আছে? সপে কহে tere, 1-409
জ্ঞানার্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো চোখের হিফাযত করা। চোখের হিফাযত করলে বিচক্ষণতা বাড়ে, বুদ্ধি দিন দিন ধারালো হয়। শাইখ সুজাউল কারমানী (রহ.) বলেছেন,
‘@ ITE তার বাহ্যিক অবস্থাকে সুন্নাহ্র পাবন্দ বানায়, অন্তরকে আল্লাহর চিন্তায় ও স্মরণে ব্যস্ত রাখে, প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকে, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে নজর হিফাযত করে এবং হালাল খাদ্য গ্রহণ করে, সে ব্যক্তির উপলব্ধি এবং দূরদৃষ্টি কখনো ভুল হয় Ape! পড়ার টেবিলে মন বসে না? মন অস্থির হয়ে থাকে? সময়ে বরকত পাও না? মনে হয় দিন ২৪ ঘণ্টা না হয়ে আরো কয়েক ঘণ্টা বেশি হলে ভালো হতো? কাজে শুধু ঘাপলা লাগে? চোখের হিফাযত করো। জীবন পানির মতো সহজ হয়ে যাবে। তুমি কিছুদিন চেষ্টা করে দেখো, যদি উপকৃত না হও তাহলে বাদ দিও। শাইখ জুলফিকার আলী যেমনটা বলছেন, “চোখের গুনাহ*”র অন্যতম খারাপ প্রভাব হলো, এর কারণে রিযিক ও সময়ের বরকত শেষ হয়ে যায়। ছোট ছোট কাজে বড় বড় সমস্যা ছুটে আসে। জীবনে অনেক কষ্ট ও চেষ্টার পরও সফলতার মুখ দেখা হয় না। আপাতদৃষ্টিতে কাজ সম্পন্ন মনে হলেও যথাসময়ে কাজ অসম্পন্ন দেখা যায়। অহেতুক চিন্তা ও পেরেশানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ মনে করে, কেউ কিছু একটা করেছে। অথচ সে নিজের অন্তরের গুনাহের কারণে বিপদের মধ্যে পড়ে থাকে। নিজেই স্বীকার করে যে, একটা সময় ছিল যখন সে মাটিতে হাত রাখলেও সোনা হয়ে যেতো। আর এখন সোনায় হাত রাখলেও মাটিতে পরিণত হয়। এসবই চোখের গুনাহের কারণে হয়।”**১২খ কিন্তু...কিন্ত আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্য দেখবো না? আমার কতো ভালো লাগে দেখতে! দেখো, যেই আল্লাহ সৌন্দর্য দিয়েছেন, সেই আল্লাহই তো তোমাকে চোখের হিফাযত করতে বলেছেন। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার অজুহাত দেওয়ার সময় আল্লাহর কথা মনে পড়ে, কিন্তু আল্লাহর আদেশ মানার কথা মনে পড়ে না? এধরনের ফাজলামো অজুহাতে তুমি নিজেও কি আসলে কনভিন্সড? সত্যি করে বলো তো? ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন, “দৃষ্টি অবনতকরণ দ্বারা মানুষের অন্তর দুঃখ ও হতাশা থেকে নিরাপদ থাকে। কেননা, যে ব্যক্তি নিজ দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণহীন রাখে, দুঃখ ব্যতীত আর কিছু অর্জিত হয় না। সে এমন কিছু দেখে যা সে অর্জন করতে পারে না আর না তা থেকে ধৈর্যধারণ
করতে Ae তিনি আরো বলেছেন, “দৃষ্টির তীর নিক্ষেপ করলে নিষক্ষেপকারীই প্রথমে বিদ্ধ হয়। দৃষ্টিনিক্ষেপকারী ভাবে আরেকবার দেখলে তার অন্তরে যে ক্ষত হয়েছে তা নিরাময় হবে। অথচ আরেকটি দৃষ্টি ক্ষতকে আরো গভীর FE) নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখো- ক্যাম্পাসে, রাস্তাঘাটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দু'চোখে গোগ্রাসে মেয়ে গিলে তোমার বুক অস্থিরতার আগুনে পুড়ে যায় না? দু'চোখ দিয়ে স্ক্যান করা জাস্টফ্রেন্ডের শরীর মনে করে তুমি গভীর রাতে বাথরুমে নিজেকে ঠাণ্ডা করো না? পাগল হয়ে যাও না শরীরের নেশায়? কিন্তু চোখের হিফাযত করতে পারলে জীবনের, ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (৯) বলেছেন, “যে মুসলমান প্রথমবার কোনো মহিলার সৌন্দর্য দেখে চোখ নামিয়ে নেয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার জন্য ইবাদাতে স্বাদ ও মিষ্টতা সৃষ্টি করে eles] TE শয়তানের বিষমিশ্রিত তীর সমূহের একটি। যে ব্যক্তি আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলার ভয়ে তাকে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার অন্তরে ঈমানের স্বাদ সৃষ্টি করে দেবেন।”*১এ৷ এই ঈমানের স্বাদ যে কতো মিষ্টি হতে পারে তা নিজে অনুভব না করলে কল্পনাও করতে পারবে না! চোখের হিফাযত করতে না পারলে দাম্পত্য জীবনেও মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। দুনিয়ার তাবৎ মেয়েদের সৌন্দর্য যেহেতু তুমি আকণ্ঠ পানে মগ্ন থাকো- তাই বউকে দেখা মাত্রই সুন্দরী অক্সরীদের সাথে তুমি তার তুলনা শুরু করবে। আরে এ মেয়েটার চুল কত সিক্কি ছিল, আমার বউয়ের চুল ভালো না। @ মেয়ের ফিগারটা সেই ছিল, আমার বউয়ের ফিগার ভালো না...এরকম শত কথা মনে হবে। ভালোবাসা বিলীন হয়ে যাবে। অথচ যদি চোখের হিফাযত করতে তাহলে বউকে মনে হতো বিশ্বসুন্দরী। Jog ] চোখের আপদ ও তার প্রতিকার, মাওলানা ইরশাদুল হক আছরী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, 1-৪৬ 88] আল জাওয়াবুল কাফি, ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ, পৃষ্ঠা- ৪১৭
নিজের সব কামনাবাসনা, ভালোবাসা সবকিছু বউয়ের জন্য হিফাযত করে বাসায় ফিরতে। এরপর তুমুল প্রেমের বন্যা বইয়ে যেতো। জীবন হতো সুন্দর।'** চোখের হিফাযত করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজের চোখ এবং নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, তুমি বুঝবে তুমি আর প্রবৃত্তির অনুগত দাস না। গভীর আত্মবিশ্বাস তখন জন্ম নেবে তোমার মনে। তোমার জীবনকে তুমি নিজে নিয়ন্ত্রণ করবে। নফস আর সস্তা প্রেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে না। চোখের হিফাযত তোমাকে উপহার দেবে ইস্পাতকঠিন ব্যক্তিত্ব। পাঁচ-দশটা গার্লফ্রেন্ড চালায় এমন ছেলে আসল পুরুষ নয়, আসল পুরুষ তো তারাই যারা রূপবতীদের রূপের আকর্ষণ উপেক্ষা করে চোখের হিফাযত করে। মেয়েদের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা মানে নিজেকেই অপমান করা- এটা কেন আমরা বুঝি না? যে মেয়েটার দিকে তুমি লোলুপ চোখে তাকিয়ে আছো, তার কাছে তুমি কতটুকু ছোট হয়ে গেছো, সেটা একবার ভেবে দেখো তো! মেয়েটা ধরেই নেবে যে তুমি একটা ক্যাবলাকান্ত, তোমাকে চাইলেই ইচ্ছেমতো ঘুরানো যায়।
তিন.
আশা করি বুঝতে পেরেছে প্রেমের ফাঁদ থেকে রক্ষা পাবার জন্য চোখের হিফাযত করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু চোখের হিফাযত কীভাবে করবো? অশ্লীলতার বিষাক্ত বাতাসে এই সমাজ বিষিয়ে গিয়েছে। বিদ্যমান বিশ্ব কাঠামোকে পরিবর্তন করা না গেলে ১০০ ভাগ চোখের হিফাযত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তবে তার মানে এই না যে, ১০০% সম্ভব না তাই আমরা সেই চেষ্টাই ছেড়ে দেবো। আর কোনো খাবার না থাকলে, জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে শুকরও খাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার মানে কি তুমি প্রতিদিন মজা করে চার প্লেট করে শুকরের মাংসের বিরিয়ানি আর কয়েক হালি হ্যামবার্গার খাবে? নিশ্চয় না। তো চলো দেখা যাক, এই বিরুদ্ধ পরিবেশে কীভাবে চোখের হিফাযত করা যায়-
১। রোলমডেল ঠিক করো। যেসব মানুষ চোখের হিফাযতের মহাকাব্য রচনা করেছেন
তাদের কথা বেশি বেশি জানো। অনুপ্রেরণা পাবে। রোলমডেলদের মধ্যে প্রথমেই আসবে রাসূলুল্লাহ (৯) এবং নবীগণ। বিশেষ করে মূসা এবং ইউসুফ আলাইহিমাস সালাম এর ব্যাপারে এরই মধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। অনুসরণীয়দের লিস্টে তারপর আসবে সাহাবীগণের নাম। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। তারপর আসবেন নেককার পূর্বসূরী বা আস-সালাফুস সালিহীন।
যেমন ধরো, হাসান বিন আবী সিনান ছিলেন হাসান আল-বাসরী'র ছাত্রদের একজন।
তিনি চোখের হিফাযতের ব্যাপারে খুবই যত্নশীল ছিলেন। একবার ঈদের সালাত শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। কেউ একজন তাকে বললো, “আজ ঈদের নামাজে অনেক মহিলা শরীক হয়েছিল।” প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'ফিরে আসা পর্যন্ত আমার সঙ্গে কোনো মহিলার দেখা হয়নি। ঈদের দিন তাঁর স্ত্রী কথায় কথায় তাঁকে বলেছিলেন, 'আজ তো অনেক সুন্দরীদের দেখলে!” তিনি উত্তর দিলেন, “ঘর থেকে বের হয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত আমি আমার আঙুলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, কোনো মহিলা আমার চোখে পড়েনি।”*১৮! তো এরকম ঘটনা অনেক রয়েছে। শুধু অতীতে না, বর্তমান যুগেও Hz! এসব ঘটনা বেশি বেশি সামনে রাখার চেষ্টা করো।** নিজের ওপর চ্যালেঞ্জ নাও- তারা যদি পারে তো আমি কেন পারবো না?
২। ৩-৫-৭ দিনের একটা ছোট এক্সপেরিমেন্ট করো। সম্পূর্ণভাবে চোখের হিফাযত
করো। এই সময়কার অনুভূতিগুলো বিস্তারিত লিখে রাখো। তুমি কতোটা শাস্তি পাচ্ছো, তোমার অন্তর কতোটা স্থির হয়ে আছে ...ইত্যাদি। এরপর মাঝে মাঝেই এই ডায়েরি খুলে এই সময়কার অনুভূতিগুলো পড়বে। চোখের হিফাযত করার অনুপ্রেরণা পাবে।
৩। বিয়ে ও রোযা চোখের হিফাযতের জন্য কার্যকরী ওষুধ। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (&) এই
টিপস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা সামথ্য রাখে তাদের উচিত বিয়ে করে ফেলা। কেননা বিয়ে দৃষ্টি অবনতকারী ও লজ্জাস্থানকে হিফাযতকারী। আর যার ANG নেই তার উচিত রোযা রাখা। কেননা রোযা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।”!*১১ তবে বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগবে না। এখন বিয়ে করতে পারছি না, তার মানে চোখের হিফাযতও করতে পারবো না- এটা ভুল ধারণা। বিয়ে করার জন্য যোগ্যতা অর্জন করো, রোযা রাখো। সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে ইন শা আল্লাহ।
৪। কো এডুকেশন এড়িয়ে চলা। সর্বোচ্চ চেষ্টা করো নারী পুরুষের ফ্রি-মিক্সিং হয় এমন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এড়িয়ে চলতে।
৫। সোশ্যাল সাইটের ব্যাপারে সাবধান থাকো। বিপরীত লিঙ্গের কেউই যেন তোমার
সাথে এড না থাকে। তোমার নিউযফিডে যেন এমন কিছু না আসে।
৬। যেসব জায়গায় চোখের হিফাযত করতে পারবে বলে মনে হয় না, সেসব জায়গা
এড়িয়ে চলো।**খ
৭। আল্লাহর পথে ফিরে এসো। প্রেম থেকে নিজেকে রক্ষা করা, চোখের হিফাযত
করার পূর্বশর্ত হলো পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) যেমনটা বলেছেন, “হৃদয় যদি একমাত্র আল্লাহকে ভালোবাসে, দ্বীনকে একমাত্র তার জন্য একনিষ্ঠ করে, তাহলে অন্য কারো ভালোবাসার মুসিবত তাকে স্পর্শ করতে পারে না। প্রেমের উন্মাদনা তো পরের কথা। প্রেম ভালোবাসায় লিপ্ত হওয়ার কারণ হৃদয়ে আল্লাহর মহব্বতের অপূর্ণতা। ইউসুফ আলাইহিস সালাম যিনি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে মহব্বত করতেন, তিনি এই মানবীয় ইশক মহববত থেকে বেঁচে গেছেন।”**%৷
৮। নিজের সাথে যুদ্ধ করো। হঠাৎ, অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো উপর চোখ পড়ে যেতেই
পারে। এতে কোনো পাপ নেই। তবে প্রথমবার চোখ পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (*) বলেছেন, “হে আলী! একবার দৃষ্টিপাত হয়ে গেলে, দ্বিতীয়বার আর দৃষ্টি দিও না। কারণ প্রথমবার দৃষ্টি মাফ হয়ে যায়, কিন্তু দ্বিতীয়বার দৃষ্টি দিলে গুনাহ হয়” ee আসলে কারো উপর চোখ পড়লো, দেখে ভালো লাগলো, দেখতে থাকতেই ইচ্ছা করলো বা চোখ নামিয়ে নেবার পর আবার দেখতে ইচ্ছা করলো- এই মুহূর্তটাতেই তোমার আসল লড়াই শুরু হয়। এ সময়টাতেই মনের সকল জোর এক করে শয়তানকে আর নফসকে হারাতে হবে। নিজের সাথে নিজেকেই যুদ্ধ করতে হবে। আমি চাইলে আবার তাকাতে পারি সেই রূপসীর দিকে। কিন্তু কেন তাকাবো? তাকে দেখে কি আমার তৃপ্তি মেটবে নাকি অন্তরে অতৃপ্ত তৃষ্ণ জাগবে? আমি কি প্রেম, যিনা-ব্যভিচারের ফাঁদে পড়তে চাই? জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে চাই? চোখের হিফাযত করলে রাসূলুল্লাহ () জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।** আমি কি জান্নাত চাই না? আল্লাহকে দেখতে চাই না? জান্নাতের অনিন্দ্যসুন্দর স্ত্রীদের সাথে প্রেম করতে চাই না? আমি কেন ক্ষণিকের সুখের জন্য এতোকিছু হারাবো? কেন রক্ত, ময়লা, ঘাম মেশানো পৃথিবীর অপূর্ণ মানবীকে আরেকবার দেখার জন্য জান্নাত হারানোর ঝুঁকি নেবো?
আল্লাহ সুব”হানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন, “যে নিজের কামনা-বাসনার অনুসরণ করে তার উদাহরণ তো কুকুরের Jef Hee! আমি কি তাহলে কুকুর? আমি কি একটা পশু? রাসূলুল্লাহ (4) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কামনা- বাসনা আমার আনীত বিধানের অধীন হবে।** আমি কি মুমিন হতে চাই না? নিজের মা, বোনের কথা চিন্তা করো। অন্য কোনো পুরুষ যদি তাদের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতো, শরীর স্ক্যান করতো- তাহলে তোমার কেমন লাগতো? সেই রূপসীও তো কারো না কারো বোন, মা! এভাবে নিজের সাথে লড়াই করতে থাকো। ইনশাআল্লাহ তোমার আর দ্বিতীয়বার তাকাতে ইচ্ছা করবে না। পাশাপাশি সেই মেয়ের জন্য দু'আ করতে পারো- আল্লাহ, তাকে তুমি পরিপূর্ণ পর্দা করার তাওফিক দাও। আল্লাহ্ এর বিনিময়ে তোমাকেও চোখের হিফাযত করার তাওফিক দেবেন ইনশাআল্লাহ।
৯। মেয়েদের পেছনেকখনো হাঁটবেনা। মেয়েদের হিপ মারাত্মফকফিতনাহ তৈরি করে।**!
দ্রুত হেঁটে মেয়েদের সামনে চলে যাবে বা রাস্তার অন্য পাশ দিয়ে যাবে। So | রাস্তায় বসে আড্ডা দেবার সময় সতর্ক থাকবে। রাস্তায় বসে আড্ডা দিলে আসলে চোখের হিফাযত করা মুশকিল হয়ে যায়। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী কারীম (1) বলেছেন, “তোমরা রাস্তার পাশে বসে থেকো না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমাদের তো এর প্রয়োজন হয়। পরস্পরে প্রয়োজনীয় কথা বলতে হয়। রাসূল (4) বললেন, বসতেই যদি হয় তবে রাস্তার হক আদায় করে বসো। সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কী?
রাসূল (4) বললেন, রাস্তার হক হলো- দৃষ্টিকে অবনত রাখা। কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, সং কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। fee!
১১। নিজেকে শাস্তি দাও। এটা চোখের হিফাযতের খুবই কার্যকরী একটা পদ্ধতি।
অনেক উলামা নিজের জন্য এমন শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। নিজের জন্য অস্বস্তিকর শাস্তির ব্যবস্থা করবে। যেমন ধরো, তোমার টাকাপয়সার সমস্যা। তুমি ঠিক করবে, চোখের হিফাযত করতে না পারলে আমি দিনে ৫০-১০০-৫০০ টাকা মাসজিদে দান করবো। তোমার যদি সালাত আদায় করতে আলসেমি লাগে, তাহলে ঠিক করবে, চোখের হিফাযত করতে না পারলে আমি প্রতিদিন ৪, ৬, ১০ রাকাত নফল সালাত আদায় করবো। আইডিয়াটা ধরতে পেরেছো নিশ্চয়? এতে নিজের উপর যেমন প্রেশার থাকবে, তেমনি আরো সওয়াবের কাজ করে ফেললে শয়তান বাবাজি হতাশ হয়ে তোমার থেকে দূরে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
রাসূলুল্লাহ্ (4) বলেছেন, দৃষ্টি শয়তানের তীর। এই দৃষ্টি থেকেই শুরু কতো অসংখ্য আঁধারের পথচলা। এসো, মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে দৃষ্টি অবনত রাখি, নিজেদের সুন্নাহর বর্মে ঢেকে ব্যর্থ করে দিই শয়তানের এই তীর।
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[৩৩৬] মুসতাদারাকে হাকিম: ৭৮৭৫ [৩৩৭] সূরা আন-নুর, ২৪: ৩০-৩১ [৩৩৯] চোখের আপদ ও তার প্রতিকার, মাওলানা ইরশাদুল হক আছরী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা-৪৯ [৩৪০] যাম্মুল হাওয়া ১/১২৭ [৩৪১] চোখের আপদ ও তার প্রতিকার, মাওলানা ইরশাদুল হক আছরী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা-৪৮ [৩৪২] যৌবনের মৌবনে, মাওলানা জুলফিকার আহমেদ নকশাবন্দি, মাহফিল প্রকাশনী, পৃষ্ঠা-৫৫ [৩৪৫] মুসনাদ আহমাদ: ৮৭২২২, আল-মু'জামুল কাবীর লিত-ত্বাবারানী: ৭৮৪২, শু'আবুল ঈমান লিল-বাইহাকী: ৫০৪৮। ইবনু আদী হাদিসটিকে দুর্বল হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। আলবানী বলেছেন অত্যন্ত দুর্বল | (আল-কামেল ৬/২৬০, হিজাবুল মারআহ পৃ. ৪৯) [৩৪৬] মুসতাদরাক আল-হাকিম হুযাইফা রা. হতে: ৭৮৭৫, আল-মু'জামুল কাবীর লিত-ত্বাবারানী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. হতে: ১০৩৬২ | TEE রা. হতে বর্ণনাকে ইমাম যাহাবী ও সাফারীনী হাম্বলী দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের বর্ণনাকে হাইসামী ও মুনযিরী দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। (মীযানুল ই”তিদাল ১/১৯৪, শারহু কিতাবিশ শিহাব: ৪৩৪, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/৬৬, আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ৩/৮৬।) [৩৪৭] অবশ্যই পড়ে ফেলো- হুজুরদের প্রেম যে কারণে এতো তীব্র হয়, lostmodesty.com, আগস্ট ৩০, ২০১৮ - tinyurl.com/5rtny24n [৩৪৮] চোখের আপদ ও তার প্রতিকার, মাওলানা ইরশাদুল হক আছরী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা-৬১ [৩৪৯] আমাদেরই পরিচিত এমন একজন ভাই ছিলেন। [৩৫০] ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম ভালোবাসা বইটা পড়ে ফেলো। [৩৫১] বুখারী: ৫০৬৬ ও মুসলিম :১৪০০ (ইফা. ৩২৭০) [৩৫২] এই লিস্টের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর পয়েন্টের আরো বিস্তারিত আলোচনা পাবে পুড়ে যাবে তুমি লেখায়। [৩৫৩] মাজমু'উল ফাতাওয়া: ১০/১৩৫ [৩৫৪] মুসনাদ আহমাদ ২২৯৯১, তিরমিযী ২৭৭৭, আবু দাউদ ২১৪৯, মিশকাত: ০১১৩, সহীহ আল-জামে: ৭৯৫৩। আলবানী ও শুআইব আরনাউত্ব হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। [৩৫৫] আল-মুজামুল কাবির, হাদিস : ৮০১৮। ইবনু হাজার ও আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। (আল-আশারাতুল উশারিয়্যাহ হা: So, সহীহ আল-জামে': ১২২৫) [৩৫৬] সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৭৬ [৩৫৭] কিতাবুস সুন্নাহ লি- ইবনি আবী আসিম: sel ইমাম নাবাবী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু হাজার বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। (আল-আরবাঈন: ৪১, ফাতহুল বারী ১৩/২৮৯ হা: ৭৩০৮ এর ব্যাখ্যায়) [৩৫৮] Waists, Hips and the Sexy Hourglass Shape, Robert D. Martin Ph.D., psychologytoday.com, July 20, 2015-tinyurl.com/yh5t432n Dixson BJ, Grimshaw GM, Linklater WL, Dixson AF. Eye-tracking of men’s preferences for waist-to-hip ratio and breast size of women. Arch Sex Behav. 2011 Feb;40(1):43-50. doi: 10.1007/s10508-009-9523-5. Epub 2009 Aug 18. PMID: 19688590. [৩৫৯] বুখারী: ৬২২৯
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।