উত্তরের অপেক্ষায়
এক.
দু'আ নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ ভুল ধারণা আছে।
আল্লাহই বলেছেন, আমাকে ডাকো, আমি বান্দার ডাকে সাড়া দেই, আমি
প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করি।
মানুষের কাছে চাইলে মানুষ বিরক্ত হয়, আল্লাহর কাছে না চাইলে তিনি রাগ করেন।
তাহাজ্জুদের দু'মা এমন এক তীর যা কখনো THEE হয় না... কুরআনের আয়াত ও হাদীসের এমন বক্তব্যগুলো শুনে আমরা যা ভাবি তা হলো: আল্লাহর কাছে চাইবার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ্ আমাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু দিয়ে দেবেন। কোনো দেরি হবে না। হোক সেটা হালাল চাওয়া বা হারাম চাওয়া। আল্লাহ্ ওয়াদার খেলাফ করেন না। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সাড়া দেবার ধরন একটু অন্যরকম। কাঙিক্ষত বস্তু না দেওয়াটাও তার দু'আ কবুল করা বা সাড়া দেবার অংশ। ধরো, তোমার ছোটভাইয়ের অসুখ হয়েছে। ডাক্তার বলেছে রোজ রাতে ঘুমানোর আগে দুই চামচ করে ওষুধ খেতে হবে এক মাস। প্রথম রাতে ওষুধ খাবার সময় তোমার ছোটভাই আবিষ্কার করলো, ওষুধ বেশ মিষ্টি। খুব টেস্ট! সে জেদ ধরলো, একমাসের ওষুধ সে তখনই ঢকঢক করে গিলে খাবে! তুমি কি তাকে এমনটা করতে দেবে? সে তোমার কাছে খুব কান্নাকাটি করছে। কাকুতি মিনতি করছে। তোমার মন গলাতে না পেরে শেষমেষ ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে-তোমার মনে কি কোনো দয়া-মায়া নাই? তুমি কি আসলেই আমার ভাই? আমাকে না দিয়ে নিজে খেতে চাও, তাই না? এমন অবস্থায় তুমি কী করবে? এখানে ওষুধ না দেওয়াই ভালোবাসার প্রমাণ। তাই না? ছ্যাঁকা খাবার পরে দেখি অনেকেই সদ্য প্রাক্তন হয়ে যাওয়া মানুষটাকে ফিরিয়ে দেবার জন্য মনপ্রাণ ঢেলে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে ACF | দু'আ কবুল না হলে আবারো সেই একই কাহিনী-আল্লাহর প্রতি অভিমান, অনুযোগ, বিরূপ ধারণা করা।
একটু ভেবে দেখো। তুমি হারাম কাজের জন্য, একটা হারাম সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতির জন্য দু'আ করছো, আল্লাহ্ কি তোমার এই হারাম কাজের দু'আ কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
দুই.
দু'আ নিয়ে আল্লাহর উপর মন্দ ধারণা করার আরেকটা কমন বিষয় হলো বিয়ে। সাধারণত এক্ষেত্রে দুই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রথমত, যাকে বিয়ে করতে চায় মানুষ তার নাম ধরে দু'আ করে। “হে আল্লাহ অমুকরে আমার বউ বানাইয়া দাও, অমুকরে আমার জামাই বানাইয়া দাও...।' দু'আ চলতেই থাকে। কিন্তু অমুকের যদি অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায় তাহলেই শুরু হয়ে যায় আল্লাহর প্রতি অভিযোগ। “আল্লাহ, ক্যান আমার সাথে এমন করলেন”? আচ্ছা তুমি যাকে চাচ্ছে, তার সাথে বিয়ে যে তোমার দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে, এটা কি তুমি নিশ্চিত জানো? হয়তো বিয়ের পর দেখা গেল সে পরকীয়া করছে, দু'হাতে টাকা অপচয় করছে, তোমার সাথে ঝগড়া করছে, তোমার বাবা-মাকে কষ্ট দিচ্ছে, অন্য মেয়েকে নিয়ে FS করে বেড়াচ্ছে, তোমার গায়ে হাত তুলছে। অথবা দেখা গেল বউয়ের কারণে তুমি ঘুষ খাচ্ছে, হারাম ইনকামের দিকে ঝুঁকছো। হতে পারে স্বামী তোমাকে পর্দা করতে দিচ্ছে না...এমন অনেক কিছুই তো হতে পারে, তাই না? তুমি যেটাকে শাস্তি মনে করে অভিযোগ করছো, হয়তো সেটা আসলে তোমার জন্য নিয়ামত। কিন্তু তুমি সেটা এখনো বুঝতে পারছো! না। অধৈর্য হয়ে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে! তাছাড়া এভাবে সরাসরি নাম ধরে বিয়ের জন্য দু'আ করা ঠিক না। সালাফরা আমভাবে কল্যাণের জন্য দুম করতেন। এভাবে দু'আ করতে পারো যে, “হে আল্লাহ, যদি সে আমার দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য ভালো হয় তাহলে তার সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন, আর যদি ভালো না হয় তাহলে তাকে ভূলে যাবার তাওফিক দিন, তার উপর থেকে আমার মন উঠিয়ে নিন।” সবচেয়ে ভালো হয় আল্লাহর শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতিতে দু'আ করলে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতল করে। এবং আমাদেরকে মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে fray tees এর চেয়ে সুন্দর দু'আ তুমি করতে পারবে? এর চেয়ে সুন্দর দু'আ করা সম্ভব? তবে শুধু দু'মা করে গেলেই হবে না, বিয়ে করার জন্য দায়িত্বলীল আচরণ করতে হবে, দায়িত্ব নেওয়া শিখতে হবে যেগুলো আমরা আগেই আলোচনা করেছি।
বিয়ে নিয়ে দু'আ এবং দু'আ নিয়ে অভিযোগের দ্বিতীয় একটা ধরন আছে। যারা মোটামুটি দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করে এটা তাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। ধরো, তুমি ইসলাম পালনের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা থেকে বাঁচার জন্য বিয়ে করতে চাও। রবের কাছে করুণ মিনতি জানাচ্ছে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না। স্বপ্নের সেই অদেখা মানুষটা স্বপ্নেই থেকে যাচ্ছে, ছুঁতে পারছে! না। বাসায় রাজি হচ্ছে না বা পছন্দমতো পাত্র-পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পছন্দ হচ্ছে তারা আবার রিজেক্ট করে দিচ্ছে। অনবরত দু'আ করে যাচ্ছে৷ তুমি। কিন্তু বিয়ের ফুল ডুমুরের ফুল হয়েই আছে। তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করছে আল্লাহ কবে আমার দু'আ কবুল করবেন? কবে আসবে আল্লাহর সাহায্য? আল্লাহ দু'আকারীর দু'আ কবুল করেন- কই, আমার দু'আ তো কবুল হচ্ছে না! অসাধারণ একজন দাঈ তারেক মেহেন্না। তাঁর একটি লেখা পড়েছিলাম বেশ আগে। আলোচনার এই পর্যায়ে সেই লেখাটা নিয়ে আসা জরুরি। তিনি লিখেছেন,
...আমরা দু'আকে বিপদের সময়, কঠিন মূহুর্তে প্যানিক বাটনের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করি। আপনি কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ্ বারবার কুরআনে বলেছেন দরকারের সময় যে তাঁকে ডাকবে তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দেবেন। সুতরাং, আপনি মনে করলেন যদি ঠিকঠাক মতো দু'আ করতে পারেন (রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, মনোযোগের সাথে ইত্যাদি), তাহলে ঠিক পরদিন সকালেই আপনি আপনার দু'আর “জবাব” পেয়ে যাবেন। আর যদি না পান, তাহলেই আপনি ভেতরে ভেতরে আল্লাহর অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করা শুরু করবেন! আল্লাহর রাসূল (৯) একটি হাদীসে এই বিষয়ে বলেছেন। যদিও বুখারী ও মুসলিম- দুই জায়গাতেই এই হাদীসটি আছে, তবে আমাদের আলোচনার জন্য মুসলিমের বর্ণনাটি অধিকতর উপযুক্ত। হাদীসে এসেছে: “একজন ব্যক্তির দু'আর জবাব দেওয়া হতে থাকে-যদি সে অন্যায় অথবা হারাম কিছুর জন্য দু'মা না করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন না করে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাড়াহুড়ো না করে এবং অধৈর্য না হয়।” রাসূলুল্লাহ (*) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, “কীসের দ্বারা ব্যক্তি অধৈর্য হয়ে যাবে?” রাসূলুল্লাহ (৯) জবাব দিলেন, “সে বলবে, আমি দু'আ করছি এবং করেই যাচ্ছি, কিন্তু আমি দেখছি আমার দু'আর কোনো জবাব দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে সে আশা হারিয়ে ফেলবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করা ছেড়ে (ea) গভীরভাবে হাদীসটি বোঝার চেষ্টা করলে, কীভাবে দু'আ কাজ করে এবং কীভাবে কাজ করে না-সে বিষয়ে আমরা অনেক কিছুই জানতে পারবো। একটু খেয়াল
করুন রাসূলুল্লাহ (৯) কী ধরনের শব্দ এখানে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন- “...তাঁর TR জবাব দেওয়া হতে AEN এবার অধির্য ব্যক্তির অভিযোগের সাথে তুলনা করুন- “আমি দেখছি আমার দু'আর কোনো জবাব দেওয়া হচ্ছে না।” আপাতদৃষ্টিতে দু'টো পরস্পর সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে। এটা কীভাবে সম্ভব যে একজন ব্যক্তির দু'আর জবাব দেওয়া হতে থাকছে কিন্তু তাঁর কাছে মনে হচ্ছে সে কোনো ফল পাচ্ছে না? দু'আর উত্তর কোথায়? ব্যাপারটা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই WR জবাব একসাথে না এসে, ধাপে ধাপে আমাদের কাছে আসে। এমন কিছু হয়তো ঘটবে যার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু আপনার কাছে মনে হচ্ছে আপনার দু'আর জবাব আসছে না। মনে করুন আপনি একটা ঘরে বন্দী। মুক্তির একমাত্র উপায় জানালা ভেঙে বের হওয়া, কিন্তু আপনার সম্বল শুধুমাত্র ছোট কিছু পাথরের টুকরো। আপনি জানালায় একটা ছোট পাথর ছুড়লেন। তাতে জানালা ভাঙলো না, কিন্তু খুব TH একটা ফাটল ধরলো। আপনি আরেকটা পাথর ছুড়লেন। আরেকটা ছোট ফাটল। আপনি আবার একটা পাথর ছুড়ে দিলেন, তারপর আরেকটি। যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরো জানালা অসংখ্য FH ফাটলে ভরে গেছে। শেষবারের মতো আপনি একটা পাথর ছুড়ে দিলেন এবং জানালার কাঁচ ভেঙে গেল। বন্দীত্ব থেকে আপনি মুক্তি পেলেন। দু'আও এভাবেই কাজ করে। আপনি প্রতিটি দু'আর মাধ্যমে আংশিক জবাব পেতে থাকেন এবং ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে একই দু'আ বারবার করার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে শেষ পর্যন্ত দু'মার পরিপূর্ণ জবাব পাবেন। মনে রাখবেন প্রথম পাথরটি শুধু একটি ফাটলই ধরাবে। কিন্তু আপনি যদি পাথর ছুড়তে থাকেন তাহলে এক সময় জানালা ভেঙে যাবে এবং আপনি মুক্ত হবেন। এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। এই জন্যই হাদীসটিতে আমাদের বলা হচ্ছে *...যতক্ষণ পর্যন্ত সে অধৈর্য না হচ্ছে আপনি যখন কোনো চারাগাছে পানি দেন, তখন নিশ্চয় একসাথে ত্রিশ গ্যালন পানি ঢেলে দিয়ে, কেন মাটি থেকে বিশাল মহীরুহ বের হচ্ছে না, সেটা নিয়ে চিন্তা করতে বসেন না। বরং আপনি ধৈর্য সহকারে প্রতিদিন একটু একটু করে পানি দিতে থাকেন এটা জেনে যে, যত সময়ই লাগুক না কেন, শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফুলটি আপনি পাবেনই। একইভাবে আপনি জানেন, আল্লাহ আপনার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করবেন এবং আপনার দু'আর জবাব দেবেন- এটা সত্য। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে অলোকিকভাবে দু'আর উত্তর পাওয়া নিয়মের ব্যতিক্রম, নিয়ম না। নিয়ম হলো আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাওয়া এবং তাঁর কাছ থেকে এর উত্তর পাওয়ার
প্রক্রিয়া সময় ও ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল। ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর “সাইদুল খাতির' বইটিতে বলেছেন: “কষ্ট-দুঃখ-দুর্দশা শেষ হবার একটি নির্ধারিত সময় আছে যা শুধু আল্লাহ জানেন। তাই যে ব্যক্তি দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। আল্লাহর নির্ধারিত সময় আসার আগে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা কোনো কাজে লাগবে না। ধৈর্য আবশ্যক কিন্তু দু'আ ছাড়া ধৈর্য অর্থহীন। যেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু'আ করছে, তাঁর কাছে সাহায্য চাইছে, তার উচিত না অধৈর্য হওয়া। বরং তার উচিত ধৈর্য, সালাত এবং দু'আর মাধ্যমে সর্বজ্ঞানী আল্লাহর ইবাদাতে নিয়োজিত হওয়া। অধৈর্য ব্যক্তি তাঁর ধৈর্য হারানোর মাধ্যমে আল্লাহর পরিকল্পনা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে। এটা আল্লাহর সামনে একজন গোলাম ও বান্দার উপযুক্ত আচরণ কিংবা অবস্থান নয়। আল্লাহর বান্দা হিসেবে আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ অবস্থান হলো, আল্লাহর কাছ থেকে আসা তাকদীরকে মেনে নেওয়া। এবং এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য। এর সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হলো সালাতের মাধ্যমে ক্রমাগত আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাওয়া। আল্লাহর কাছ থেকে আসা তাকদীরের বিরোধিতা করা হারাম এবং এটা আল্লাহর পরিকল্পনা লঙ্ঘনের চেষ্টার মধ্যে পড়ে। তাই এই বিষয়গুলো অনুধাবন করো এবং তোমার জন্য তোমার দুঃখ-কষ্ট-দুর্দশা সহ্য করা অনেক সহজ হবে।” 2°) ভাইয়া, আপু! হয়তো তুমি এখনো বিয়ের জন্য প্রস্তুত নও, আল্লাহ্ তোমাকে প্রস্তুত হবার সময় দিচ্ছেন। হয়তো তুমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নও, হয়তো এখন বিয়ে হলে তুমি তাকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যেতে। অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে না, যা আদতে তোমার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতো।**৷ রিজেকশনের কারণে তুমি কষ্ট পাচ্ছে, অথচ আল্লাহ হয়তো তোমার জন্য আরো উত্তম কোনো জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। যার জন্য তুমি কষ্ট পাচ্ছে তার সাথে বিয়ে হলে হয়তো তুমি সুখী হতে না, সংসারে অনেক অশান্তি হতো। তুমি দু'আ করতে থাকো, চেষ্টা করতে থাকো আর আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখো। আল্লাহ্ একদম উপযুক্ত সময়ে তোমার জন্য পারফেক্ট মানুষটাকে তোমার কাছে পাঠাবেন।*“এ শেষ বিচারের দিন আল্লাহর এক বান্দার সামনে পুরষ্কারের বিশাল এক পাহাড় নিয়ে
আসা হবে। বান্দা বলবে, “ইয়া আল্লাহ! এগুলো কার?” আল্লাহ বলবেন, “এগুলো তোমার।” বান্দা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইবে না এতোগুলো পুরস্কার তার, কারণ সে জানে দুনিয়াতে থাকতে এগুলো পাওয়ার মতো আমল সে করেনি। আল্লাহ বান্দাকে বলবেন, “তোমার মনে আছে তুমি আমার কাছে অনেক দু'আ করতে দুনিয়াতে। সেই দু'আগুলোর কিছু জবাব আমি দিয়েছিলাম, কিছু দেইনি। জবাব না দেওয়া দু'আগুলোর বদলে আমি তোমাকে এই পুরস্কার দিচ্ছি।” বান্দা আফসোস করে বলবে, “ইয়া আল্লাহ! কেন আপনি দুনিয়াতে আমার কিছু দু'আ কবুল করেছিলেন! আপনি যদি একটা দু'আও কবুল না করতেন তাহলে আমি আজ কতোগুলো পুরস্কার পেতাম!”*০১! মন খারাপ করো না, হতাশ হয়ো না, SERS হয়ো না। জীবনটা আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকো। ট্রেনে উঠে ট্রেন চালকের উপর ভরসা করে নিশ্চিন্তে ঘুম দেই আমরা... আযক্সিডেন্টের ভয়ে জেগে থাকি না। অথচ আল্লাহ্ আমাদের রব! তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন-তাঁর উপরই আমরা ভরসা করতে পারি না! এটা তো লজ্জার কথা! কষ্টের কথা! দু'আ কবুলের একটি পূর্বশর্তই হলো আল্লাহর উপর ভরসা করা, সুধারণা রাখা। “আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, 'আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি
তেমন” শুধু মুখে মুখে চাওয়াই কিন্তু দু'আ নয়। তোমার মনের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আল্লাহ যা যা করতে বলেছেন তা করো। দু'আ কবুলের শর্তগুলো জানো।'***৷ সেগুলো মেনে চলো। এগুলোও দু'আরই অংশ। এরপর তাঁর উপর ভরসা করো। যথাসময়ে জবাব আসবেই।
“. তোমার মালিক তোমাকে এমন কিছু দেবেন যাতে তুমি খুশি হয়ে যাবে।”*০১! আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখে দু'আ করেছিলেন। এরপর অবিশ্বীস্যভাবে ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বেশ সুখেই আছেন এখন তিনি।
---
টীকা ও তথ্যসূত্র
[8০১] সূরা আল-ফুরক্বান, ২৫:৭৪ [8০২] সহীহ মুসলিম ২৭৩৫ (ইফা. ৬৬৮৫) [8০৩] কখনও ঝরে যেও না, তারেক FA], সীরাত পাবলিকেশন [808] পরিচিতদের মধ্যে অনেক আছে। বিয়ের পরে অনেক বদলে গেছে। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা অনেকে ইসলামের বেসিক কাজটা পর্যন্ত করে না। নামায-কালাম, রোযা, পর্দা কোনো কিছুর ঠিক নেই। বউ এর সাথে জড়াজড়ি করা ছবি দেদারসে আপলোড করে অনলাইনে। [8০৫] এক ভাইয়ের কথা জানি। ১০-১২ বছর আল্লাহর কাছে বিয়ের জন্য দু'আ করেছেন। ভাইয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সবাই হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল। ভাইও ধৈর্য ধরতে ধরতে প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবুও দু'আ করা বন্ধ করেননি। [8০৬] আল আদাব আল মুফরাদ লিল ইমামিল বুখারী- ৭১০, মুসনাদে ইমাম আহমাদ, ১১১৩৩। আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ্ আত-তারগীব: ১৬৩৩) [8০৭] বুখারী: ৭৪০৫, মুসলিম: ২৬৭৫ (ইফা. ৬৫৬১)। আল্লাহর প্রতি সুধারণা বাড়ানোর জন্য পড়া যেতে পারে ড. ইয়াদ কুনাইবি হাফিযাহুল্লাহর জীবন বদলে দেওয়া বই- আল্লাহর প্রতি সুধারণা, প্রকাশনী: শব্দতরু। অবশ্যপাঠ্য একটি বই। [8০৮] দু'আ কবুল হওয়ার শর্তগুলো কী কী; যাতে দু'আটি আল্লাহর কাছে কবুল হয়, IslamQA - tinyurl.com/2p85phan [8০৯] সূরা আদ-দুহা, ৯৩: ৫
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।
মন্তব্য করতে প্রবেশ করুন — ফিরে আসবেন ঠিক এখানেই।